Class 10 Social Science Chapter 4 স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ

Join Roy Library Telegram Groups

Hello Viewers Today’s We are going to Share Assam Class 10 Social Science Chapter 4 স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ Question Answer in Bengali. As Per New Syllabus of Class 10 Social Science Chapter 4 স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ Notes in Bengali PDF Download. Class 10 Social Science Chapter 4 স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ Solutions in Bengali. Which you Can Download PDF Notes Class 10 Social Science Chapter 4 স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ in Bengali Textbook Solutions for using direct Download Link Given Below in This Post.

WhatsApp Group
Join Now
Instagram Page
Follow Now

SEBA Class 10 Social Science Chapter 4 স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ

Today’s We have Shared in This Post SEBA Class 10 Social Science Chapter 4 স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ Suggestions in Bengali. I Hope, you Liked The information About The SEBA Class 10 Social Science Part – I History, Social Science Part – II Political Science, Social Science Part – IIII Economics. If you liked SEBA Class 10 Social Science Chapter 4 স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ Then Please Do Share this Post With your Friends as Well.

স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ

প্রথম খণ্ড ইতিহাস

অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও: 

প্রশ্ন ১। ইয়াণ্ডাবু সন্ধি কখন হয়েছিল ? 

উত্তরঃ ১৮২৬ সালের ২৬ শে ফেব্রুয়ারী । 

প্রশ্ন ২। কোম্পানির আমল বলতে কোন সময়কে বোঝায় ? 

উত্তরঃ ১৮২৬ সাল হতে ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত সময় । 

প্রশ্ন ৩। অসমে বাংলা ভাষার প্রচলন কবে হয়েছিল ? 

উত্তরঃ ১৮৩৭ সালে । 

প্রশ্ন ৪। বাংলা ভাষার পরিবর্তে অসমে অসমিয়া ভাষার পুনর্বার প্রচলন কখন হয়েছিল ? 

উত্তরঃ ১৮৭৩ সালে । 

প্রশ্ন ৫। অরুণোদয় পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন ? 

উত্তরঃ চন্দ্রকুমার আগরওয়ালা । 

প্রশ্ন ৬। অসম ছাত্র সম্মিলনের মুখপত্রটির নাম কী ছিল ? 

উত্তরঃ মিলন । 

প্রশ্ন ৭। রায়ত সভাগুলির মুখ্য উদ্দেশ্য কী ছিল ? 

উত্তরঃ গ্রেজিং কর বন্ধ করা , খাজনা হ্রাস করা ও পূর্ববঙ্গ হতে প্রব্রজন রোধ । 

প্রশ্ন ৮। সারা অসম রায়ত সভার গঠন কবে হয়েছিল ? 

উত্তরঃ ১৯৩৩ সালে । 

প্রশ্ন ৯। আহোম সভার সম্পাদক কে ছিলেন ? 

উত্তরঃ পদ্মনাথ গোহাঁই বরুয়া । 

প্রশ্ন ১০। যোরহাট সর্বজনীন সভা কখন এবং কার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল ? 

উত্তরঃ ১৮৮৪ সালে জগন্নাথ বরুয়ার নেতৃত্বে । 

প্রশ্ন ১১। অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির প্রথম সভাপতি এবং সম্পাদক কে ছিলেন ? 

উত্তরঃ কুলধর চালিহা সভাপতি এবং নবীনচন্দ্র বরদলৈ সম্পাদক ছিলেন । 

প্রশ্ন ১২। অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত প্রথম সভাপতি কে ছিলেন ? 

উত্তরঃ বিষ্ণুরাম মেধি । 

প্রশ্ন ১৩। অসমের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে এবং তিনি কখন নির্বাচিত হয়েছিলেন ?

উত্তরঃ অসমের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হলেন গোপীনাথ বরদলৈ । তিনি ১৯৪৬ সালের ১১ ই ফেব্রুয়ারী নির্বাচিত হয়েছিলেন । 

প্রশ্ন ১৪। অসমে স্থাপিত প্রথম জাতীয় অনুষ্ঠান কী ? 

উত্তরঃ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস । 

প্রশ্ন ১৫। কুশল কোঅরকে কী অপরাধে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল ? 

উত্তরঃ বড়পাথারে রেল বেলাইন করার অপরাধে । 

প্রশ্ন ১৬। গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় কখন স্থাপিত হয়েছিল ? 

উত্তরঃ ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারী । 

Sl. No.সূচিপত্র
প্রথম খণ্ড: ইতিহাস
অধ্যায়-১বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫–১৯১১ ) ও স্বদেশী আন্দোলন
অধ্যায়-২মহাত্মা গান্ধি এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম
অধ্যায়-৩অসমে ব্রিটিশ বিরোধী জাগরণ এবং কৃষক বিদ্রোহ
অধ্যায়-৪স্বাধীনতা আন্দোলন এবং অসমে জাতীয় জাগরণ
অধ্যায়-৫ভারত এবং উত্তর – পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য
দ্বিতীয় খণ্ড: ভূগোল
অধ্যায়-১অর্থনৈতিক ভূগোল: বিষয়বস্তু এবং সম্পদ
অধ্যায়-২পরিবেশ ও পরিবেশের সমস্যা
অধ্যায়-৩পৃথিবীর ভূগোল
অধ্যায়-৪অসমের ভূগোল
তৃতীয় খণ্ড: রাজনীতি বিজ্ঞান
অধ্যায়-১ভারতীয় গণতন্ত্র
অধ্যায়-২আন্তর্জাতিক সংস্থা ― রাষ্ট্রসংঘ এবং অন্যান্য
অর্থনীতি বিজ্ঞান
অধ্যায়-১মুদ্রা এবং ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা
অধ্যায়-২অর্থনৈতিক উন্নয়ন

প্রশ্ন ১৭। অসম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কখন নামাঙ্কিত হয় ?

উত্তরঃ ১৯৪৭ সালের ৩ নভেম্বর । 

প্রশ্ন ১৮। গুয়াহাটি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় কখন আনুষ্ঠানিকভাবে আরম্ভ হয়েছিল ? 

উত্তরঃ ১৯৬০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ।

সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও: 

প্রশ্ন ১। ‘ অসমিয়া লিটারেরি সোসাইটি ‘ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো । 

উত্তরঃ দেবীচরণ বরুয়া ও গুণাগোবিন্দ ফুকনের নেতৃত্বে ১৮৭২ সনে কলকাতায় অসমীয়া লিটারেরী সোসাইটি নামক প্রথম সংগঠন গঠিত হয় । এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সাহিত্যচর্চা । কিন্তু রাজনৈতিক চিন্তারও প্রকাশ ঘটেছিল । এই সংগঠনটি ১৮৮৫ সন পর্যন্ত সক্রিয় হয়েছিল । 

প্রশ্ন ২। জোনাকি যুগ বলতে কোন সময়কে বোঝায় ? এই যুগের উল্লেখযোগ্য জাতীয়তাবাদী উত্তরণের একটি আভাস দাও । 

উত্তরঃ অসমের সুধী সমাজে অসমীয়া ভাষা উন্নতিসাধনী সভা প্রকাশ করা জোনাকি এক নতুন আলোড়নের সৃষ্টি করেছিল । অরুণোদয়ের মাধ্যমে আরম্ভ হওয়া সাহিত্যিক নবজাগরণে পরিপূর্ণতা লাভ করেছিল জোনাকি । জোনাকি সেই সময়ের বহু সাহিত্যিক প্রতিভাবান লোককে জনসমক্ষে তুলে আনতে সক্ষম হয়েছিল । জোনাকিতে প্রকাশিত কবিতা, প্রবন্ধ – নিবন্ধগুলিতে অনেক লেখকগণের জাতীয়তাবাদী চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছিল । 

প্রশ্ন ৩। আহোম সভার রাজনৈতিক দাবি সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো । 

উত্তরঃ আহোম সভার উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক দাবী হল — আহোম সম্প্রদায়কে সরকারীভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মর্যাদা প্রদান করে তাদের জন্য বিধান সভার আসন সংরক্ষণ করা এবং পৃথক সমষ্টি গঠন করা । 

প্রশ্ন ৪। কানির ( মদ্য ) প্রচলন সম্পর্কে যোরহাট সর্বজনীন সভার স্থিতি কী ছিল সংক্ষেপে লেখো ।

উত্তরঃ কানির ( মদ্য ) ব্যবসা বন্ধের জন্য যোরহাট সর্বজনীন সভা রয়েল কমিশনকে আবেদন করেছিল । 

প্রশ্ন ৫। আসাম এসোসিয়েশন ব্রিটিশ সরকারের নিকট কী কী বিষয় উত্থাপন করেছিল ? 

উত্তরঃ ব্রিটিশ সরকারের কাছে আসাম এসোসিয়েশন রাজ্য সমস্যাবলী তুলে ধরে । জনস্বার্থবিরোধী গোচারণ কর আরোপের বিরুদ্ধে এই সংস্থা প্রতিবাদে সোচ্চার হয় এবং জনগণকে এই ব্যাপারে সচেতন করে তোলে । এই সংস্থা অসমে বেআইনী আফিং ব্যবসা নিষিদ্ধকরণের দাবী জানায় । আসাম অ্যাসোসিয়েশন স্বায়ত্বশাসনের ক্ষেত্রে আসামকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছিল ।

প্রশ্ন ৬। অসমে বিদেশী দ্রব্য বর্জন আন্দোলনের কার্যাবলি সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তরঃ ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের ফলে সমগ্র দেশে স্বদেশী আন্দোলন আরম্ভ হয় । এই আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিদেশী দ্রব্য বর্জন । অসমেও একই সময়ে বিদেশী দ্রব্য বর্জন আন্দোলন শুরু হয় । অসমের তেজপুর , বরপেটা , ধুবড়ী , গৌরীপুর , গুয়াহাটী , গোয়ালপাড়া , শিলচর , করিমগঞ্জ প্রভৃতি স্থানে বিদেশী দ্রব্য বর্জন আন্দোলনে ব্যাপক সাড়া জাগে । 

প্রশ্ন ৭। অসমে অসহযোগ আন্দোলনে যে সকল অসমীয়া নেতা নেতৃত্ব দান করেছিলেন তাঁদের সকলের বিষয়ে উল্লেখ করো । 

উত্তরঃ সারা দেশের সঙ্গে অসমের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ অসহযোগ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে । তরুণরাম ফুকন , নবীনচন্দ্র বরদলৈ , রোহিনী চৌধুরী ও মোহম্মদ তায়েবুল্লা প্রমুখ নেতাগণ অসমে অসহযোগ আন্দোলন পরিচালনার ভার গ্রহণ করে । 

প্রশ্ন ৮। কানিংহাম সার্কুলার অসমে আইন অমান্য আন্দোলনের ক্ষেত্রে ধরনের প্রভাব বিস্তার করেছিল ? 

উত্তরঃ ১৯৩০ সালে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে মে মাসে অসমের শিক্ষা অধিকর্তা কানিংহাম এক নির্দেশনামায় ছাত্র – ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের হরতাল , পিকেটিং , রাজনৈতিক সভাযাত্রায় অংশ নেওয়া নিষেধ করা এবং সমস্ত ধরনের সরকারী অনুশাসন মেনে চলবেন বলে প্রতিশ্রুতি দানের কথা ঘোষণা করেন । ফলে অসমের ছাত্র – ছাত্রীগণ প্রতিবাদমুখর হয়ে দলে দলে স্কুল – কলেজ ত্যাগ করে । আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করলে সরকার বাধ্য হয়ে পরবর্তীকালে এই সার্কুলার প্রত্যাহার করে । 

প্রশ্ন ৯। গোপীনাথ বরদলৈ মন্ত্রীসভা স্বাধীনতার পর যে সকল সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন সে সম্পর্কে লেখো । 

উত্তরঃ প্রাক্ – স্বাধীনতাকালে অসমে পরিকাঠামো ছিল অত্যন্ত দুর্বল । স্বাধীনতার ঠিক পরেই অসম তথা উত্তর পূর্বাঞ্চল সীমান্ত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল । ভারত বিভাজনের ফলে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের মধ্যে রেলপথ ও নদী পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হয় । অর্থনৈতিকভাবেও অসম তীব্র সমস্যার সম্মুখীন হয় । 

প্রশ্ন ১০। অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস লেখো । 

উত্তরঃ ১৯১৩ সালে করিমগঞ্জে এবং তার ঠিক পরই ১৯২৩ সালে তিতাবরে অপর একটি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সূচনা হয় । এইরূপে ১৯৪৮ সনে নগাওঁ – এ অসম পশু মহাবিদ্যালয় এবং যোরহাটে অসম কৃষি মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল । এই দুই মহাবিদ্যালয় একত্রিত হয়ে ১৯৬৯ সালে অসমে স্থাপিত হয় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় । অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উত্তর পূর্বের একমাত্র এবং প্রথম বৃত্তিমুখী বিশ্ববিদ্যালয় ।

প্রশ্ন ১১। অসম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস লেখো । 

উত্তরঃ উত্তর – পূর্ব ভারতের প্রথম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় স্থাপন করা হয় ডিব্ৰুগড়ে । ১৯০০ সালে ডিব্ৰুগড়ে ড. জন বেরী হোয়াইটের ৫০,০০০ টাকার অনুদানে “ বেরী হোয়াইট” মেডিক্যাল স্কুল স্থাপিত হয় । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই বিদ্যালয়টি একটি চিকিৎসালয়ের চৌহদ্দে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল । স্বাধীনতার পর ১৯৪৭ সালের ৩ রা নভেম্বর এই বিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে অসম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় নামে নামকরণ করা হয় । 

দীর্ঘ উত্তর লেখো :

প্রশ্ন ১। অসমীয়া ভাষা উন্নতিসাধিনী সভার ভূমিকা এবং কার্যাবলি আলোচনা করো । 

উত্তরঃ বাংলা ছাপাখানাতে অসমীয়া ভাষার স্বতন্ত্রতার উপর আক্রমণ প্রবণতা লক্ষ্য করে সেই সময় কলকাতাস্থ অসমের ছাত্রগণ অসমীয়া ভাষা ও সাহিত্য উন্নয়নের জন্য পুনরায় সংগঠিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা মর্মে মর্মে অনুভব করেছিল । সেই উদ্দেশ্যে গঠিত হয় ১৮৮৮ সালে অসমীয়া ভাষা উন্নতি সাধিনী ( অঃ ভাঃ উঃ সাঃ ) সভা । এর অন্তরালে ছিল সেই সময়ের বিখ্যাত ছাত্র হেমচন্দ্র গোস্বামী , লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া , চন্দ্রকুমার আগরওয়ালা, রমাকান্ত বরকতকী । এই সভা অসমীয় গণের মধ্যে একতা ও জাতীয়তাবাদের ভাব গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল । 

তার উপর এই সংস্থা অসমে এক সর্বাত্মক সামাজিক ইতিহাস সংকলন এবং সংস্কৃত বা অন্যান্য ভাষার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি অসমীয়া ভাষায় অনুবাদ করে । এই সভার প্রচেষ্টাতে সরকার হেমচন্দ্র বরুয়ার অত্যুৎকৃষ্ট কৃতি ‘ হেমকোষ ’ প্রকাশের কাজ হাতে নিয়েছিল । অঃ ভাঃ উঃ সাঃ সভা ইতিহাস সংস্কৃতি , সাহিত্য এবং ভাষা সম্পর্কে নিজের মধ্যে বৌদ্ধিক আলোচনা অব্যাহত রেখেছিল এবং ধীরে ধীরে এর শাখা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছিল । উল্লেখযোগ্য যে এই সভার দ্বারা প্রকাশিত আলোচনী ‘ জোনাকি ’ অসমে এক নূতন যুগের সূচনা করেছিল ।

প্রশ্ন ২। অসম ছাত্র সম্মিলনের অবদান কী ব্যাখ্যা করো । 

উত্তরঃ ১৯১৬ সালে অসম ছাত্র সম্মিলন প্রতিষ্ঠিত হয় । এর প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় গুয়াহাটীতে । অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া । স্বদেশী আন্দোলনে বাংলার ছাত্রদের যোগদান , শ্রীমতী অ্যানিবেসান্তের নেতৃত্বে হোমরুল আন্দোলন , তিলক গোখলে প্রমুখ জাতীয় নেতাদের বক্তৃতা , ভারত ও বিশ্বের সমসাময়িক ঘটনাবলী অসমের ছাত্র ও যুব সম্প্রদায়কে বিশেষভাবে প্রভাবিত করায় তাদের মধ্যে নবচেতনার উন্মেষ ঘটে । অসম ছাত্র সম্মিলন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই নবচেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে । সমগ্র ভারতে অভাব তখন যখন সংগঠিত ছাত্রসংস্থার এই আন্দোলনকারী গণকে যখন থকে উদ্দীপিত করে।এই সংস্থা যদিও প্রথমাবস্থায় রাজনৈতিক আলোচনা বা রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত হয়নি , কিন্তু পরবর্তীকালে দেশের জাতীয় আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিল । 

অসম ছাত্র সম্মিলনের বার্ষিক অধিবেশনসমূহে বিখ্যাত সাহিত্যিক , শিক্ষাবিদ , চিন্তাবিদ ও রাজনীতিবিদরা অংশগ্রহণ করেছিলেন । তাঁদের মধ্যে লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া , পদ্মনাথ গোহাই বরুয়া , আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় , কৃষ্ণকান্ত সন্দিকৈ উল্লেখযোগ্য । ছাত্র সম্মিলনীর মুখপত্র ছিল ‘ মিলন ’ । এইভাবে ছাত্র সম্মিলন অসমের শিক্ষা , সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় চেতনা গড়ে তুলতে যথেষ্ট অবদান যুগিয়েছিল ।

প্রশ্ন ৩। রায়ত সভাগুলির উদ্দেশ্য এবং ভূমিকা সম্পর্কে একটি খতিয়ান দাও । 

উত্তরঃ অসমের “ রাইজমেল ” গুলি অস্থায়ী প্রতিষ্ঠান ছিল । এই সংস্থাগুলির স্থায়ী সংগঠন স্থাপনের উদ্দেশ্যে রায়ত সভা প্রতিষ্ঠিত হয় । জগন্নাথ বরুয়া , রাজকুমার নরনারায়ণ সিংহ প্রমুখ গণ্যমান্য ব্যক্তির উদ্যোগে ১৮৮৪ সালে যোরহাটে প্রথম রায়ত সভা অনুষ্ঠিত হয় । রায়ত সভায় ব্রিটিশ সরকারের খাজনা বাড়ার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় । খাজনা বৃদ্ধি রদের দাবীতে ব্রিটিশ সরকারকে দাবিপত্র দেওয়া হয় । এছাড়া রায়ত সভায় আরও কতকগুলি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় । ১৮৮৪-৮৫ সালে “ তেজপুর – রায়ত সভা ” এবং ১৮৮৬-৮৭ সালে নগাওঁ এ “ নগাওঁ রায়ত সভা ” প্রতিষ্ঠিত হয় । রায়ত সভাসমূহ মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকদের উদ্যোগে গড়ে উঠে । শিবসাগর জেলায়ও সংগঠিত হয়েছিল বহুসংখ্যক রায়ত সভা । ১৯৩৩ সালে যোরহাটের অদূরে টিলিকিয়ামতে নবীনচন্দ্র বরদলৈ – এর সভাপতিত্বে অসম রায়ত সভার প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় । ১৯৩৪-১৯৩৯ সালের মধ্যে অসমে প্রায় ৩০০ টি রায়ত সভা ছিল । ঊনবিংশ শতাব্দীতে রায়ত সভা অসমে নবজাগরণে বিশেষভাবে ভূমিকা পালন করেন । 

প্রশ্ন ৪। যোরহাট সর্বজনীন সভার উদ্দেশ্য এবং কার্যাবলি সম্পর্কে লেখো । 

উত্তরঃ যোরহাট সর্বজনীন সভাকে বলা যায় অসমের প্রথম রাজনৈতিক সংস্থা । ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে গঠিত হয় জগন্নাথ বরুয়ার প্রচেষ্টায় যোরহাট সর্বজনীন সভা এবং ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই সভা কাজ চালিয়ে যায় । অসমের জনগণের আশা – আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো, জনগণকে সরকারী নীতি সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং রাজ্যবাসীর সার্বিক উন্নয়নই যোরহাট সর্বজনীন সভার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল । রাজনৈতিক সংগঠন হলেও যোরহাট সর্বজনীন সভা অসমের মানুষের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করত এবং প্রস্তাবাদি পাশ করে তা সরকারের কাছে দৃষ্টিগোচরের জন্য প্রেরণ করত ।

১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে ‘ অসম ভূমি এবং রাজস্ব বিধি’র কঠোর সমালোচনা করেছিল যোরহাট সর্বজনীন সভা । সর্বজনীন সভা অসমে আর্ফিংয়ের ব্যবসা বন্ধ করার দাবী রয়েল কমিশনকে জানিয়েছিল । ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে সর্বজনীন সভা সরকারী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অসমের স্থানীয় লোকদেরকে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়ার আবেদন জানায় । সেভাবে সর্বজনীন সভা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু আপত্তি সরকারের সম্মুখে তুলে ধরে । সর্বজনীন সভা ব্রিটিশ সরকারকে অসমের স্বার্থরক্ষায় বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল । ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে অবলুপ্তি ঘটলেও সামাজিক – রাজনৈতিক সংগঠন রূপে যোরহাট সর্বজনীন সভার গুরুত্ব মোটেই উপেক্ষণীয় নয় । যোরহাট সর্বজনীন সভা ছিল অসমের প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন যা অসমের মানুষের মধ্যে সামাজিক এবং রাজনৈতিক চেতনা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল । 

যোরহাট সর্বজনীন সভার প্রধান উদ্দেশ্যগুলি ছিল :-

( ক ) জনগণের আশা , আকাঙ্ক্ষার বিষয়ে সরকারকে অবগত করানো । 

( খ ) সরকারের উদ্দেশ্য এবং নীতি জনসাধারণকে বুঝানো । 

( গ ) শ্রমিক ও কর্মচারিদের মাইনে বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদানের জন্য দাবি জানিয়েছিল । যোরহাট সর্বজনিন সভা ১৯০৫ সালের বঙ্গ বিভাজনের তীব্র বিরোধিতা করেছিল । জগন্নাথ বরুয়ার মৃত্যুর পর এই সংস্থা দুর্বল হয়ে পড়লেও ১৯২১ সাল পর্যন্ত এটা কোনো প্রকারে টিকেছিল । 

প্রশ্ন ৫। ব্রিটিশ শাসনাধীন অসমে সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে অসম এসোসিয়েশনের যে অবদান তা সম্পর্কে লেখো । 

উত্তরঃ ১৯০৩ সালে অসমে “ অসম এসোসিয়েশন ” প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতীয় চেতনার একটি নূতন অধ্যায়ের শুরু হয় । ১৯০৩ সালে জগন্নাথ বরুয়া , মানিকচন্দ্র বরুয়া , ঘনশ্যাম বরুয়া , ফৈজনুর আলী প্রমুখ শিক্ষিত বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের উদ্যোগে ডিব্রুগড়ে অসম এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল । এর প্রথম সভাপতি ছিলেন গৌরীপুররাজ প্রভাতচন্দ্র বরুয়া । এই সংস্থা অসম এবং অসমীয়াদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দাবীগুলির সাংবিধানিক উপায়ে মীমাংসার জন্য ব্রিটিশ সরকারকে অনুরোধ করেছিল । প্রথমদিকে অসম এসোসিয়েশন মধ্যপন্থী ছিল , কিন্তু বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পর এটি চরম ইংরেজ বিরোধী হয়েছিল । সংস্থায় বহু যুবক যোগ দিয়েছিল । তরুণরাম ফুকন , নবীনচন্দ্র বরদলৈ , চন্দ্রনাথ শৰ্মা , গোপীনাথ বরদলৈ , বিষ্ণুরাম মেধী প্রমুখ বিশিষ্ট নেতৃবর্গ অসম এসোসিয়েশনের মাধ্যমেই রাজনৈতিক শিক্ষা অর্জন করেছিলেন । 

ব্রিটিশ সরকারের কাছে অসম এসোসিয়েশন রাজ্য সমস্যাবলী তুলে ধরে । জনস্বার্থ – বিরোধী গোচারণ কর আরোপের বিরুদ্ধে এই সংস্থা প্রতিবাদে সোচ্চার হয় এবং জনগণকে এই ব্যাপারে সচেতন করে তোলে । এই সংস্থা অসমে বেআইনী আফিং ব্যবসা বন্ধের দাবী জানায়। 

অসম এসোসিয়েশন স্বায়ত্ত শাসনের ক্ষেত্রে অসমকেও অন্তর্ভুক্ত করতে ১৯১৭ সালে দাবী জানালে অসম সরকার এর বিরোধিতা করে । পরে সদস্যদের দাবি চলতে থাকায় সরকার অসমকে ঐ নির্দেশিকার অন্তর্ভুক্ত করেন । সারাদেশে মহাত্মা গান্ধির নেতৃত্বে ১৯১৯ সালে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয় । ১৯২০ সালের ১১ ই অক্টোবর অ্যাসোসিয়েশনের বিশেষ অধিবেশনে অসম অ্যাসোসিয়েশন অসমে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করে । সংস্থার নেতৃত্বে সারা অসমে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয় । কালক্রমে সংস্থার নেতৃবৃন্দ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ায় অসম এসোসিয়েশন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং ১৯২১ সালের জুন মাসে এর পরিবর্তে অসম প্রদেশ কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় । কিন্তু এই স্বল্পকালীন সময়ে অসম এসোসিয়েশন অসমে জাতীয় জাগরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে । 

প্রশ্ন ৬। অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির উদ্ভব ও মুখ্য ভূমিকা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও । 

উত্তরঃ ১৮৮৫ সালে ভারতে জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা হলেও অসমে প্রদেশ কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২১ সালে । ততদিন পর্যন্ত অসম বাংলা প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটির মাধ্যমে জাতীয় কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্ব করত । ১৯২০ সালের ডিসেম্বর মাসে কংগ্রেসের নাগপুর অধিবেশনে অসমে আলাদা প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটি গঠনের অনুমতি দেওয়া হয় । সেই অনুযায়ী ১৯২১ সালে অসম এসোসিয়েশন বিলোপের মাধ্যমে প্রাদেশিক কমিটি গঠিত হয় ।

অসম অ্যাসোসিয়েশন কংগ্রেসে রূপান্তরিত করার উদ্দেশ্যে ছবিলাল উপাধ্যায়ের পৌরোহিত্যে ১৯২১ সালের ১৮ ই এপ্রিল যোরহাটে এক বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় । সেই বছর জুন মাসে নবীনচন্দ্র বরদলৈ , ছবিলাল উপাধ্যায় , কৃষ্ণকান্ত ভট্টাচার্যের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি গঠিত হয় । 

অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির প্রথম সভাপতি ছিলেন কুলধর চালিহা এবং সম্পাদক ছিলেন নবীনচন্দ্র বরদলৈ । প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন বিষ্ণুরাম মেধি । 

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে অসম প্রদেশ কংগ্রেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । ১৯২১ সালে গান্ধিজিকে অসমে অসহযোগ আন্দোলন প্রচার করতে আমন্ত্রণ করে আনা হয় । সেই বছর আগস্ট মাসে মহাত্মা গান্ধির অসম ভ্রমণে নবগঠিত কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল । ফলস্বরূপ অসহযোগ আন্দোলন অসমে ভীষণ সক্রিয় হয় । ১৯৩০ সালের অসহযোগ আন্দোলন ও ১৯৪২ সালের ভারত ত্যাগ আন্দোলনে অসম প্রদেশ কংগ্রেস তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । 

প্রশ্ন ৭। স্বদেশী আন্দোলনে অসমের ভূমিকা কী ছিল সে – বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও । 

উত্তরঃ স্বদেশী আন্দোলনের সময় বিদেশী দ্রব্য বর্জন করে দেশী সামগ্রীর প্রচলনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সাব্যস্ত করা হয়েছিল । ১৯০৫ সালের ৭ ই আগস্ট কলকাতার টাউন হলে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় বিদেশী দ্রব্য বর্জনের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল । বঙ্গদেশ তথা সারা দেশে এর সর্বব্যাপী প্রভাব পড়েছিল । 

অসমের তেজপুর , বরপেটা , ধুবড়ী , গৌরীপুর , গুয়াহাটী , গোয়ালপাড়া , ডিব্রুগড় , শিলচর , করিমগঞ্জ প্রভৃতি স্থানে প্রতিবাদী সভা অনুষ্ঠিত হয় । বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক এই প্রতিবাদী সভাগুলিতে অংশগ্রহণ করেছিল । বিদেশী বস্তু ও সামগ্রী বর্জন , জাতীয় শিক্ষানুষ্ঠান স্থাপন এবং স্বদেশী সামগ্রীর ব্যবহার স্বদেশী আন্দোলনের মুখ্য বিষয় হয়ে পড়েছিল । এই আন্দোলন মূলত ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় শহরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল । সেইসময় অসমের জনসাধারণ লবণের পরিবর্তে খার , বিদেশী চিনির পরিবর্তে স্বদেশী কাপড়ের ব্যবহার করেছিল । ছাত্র সমাজের মধ্যে এই আন্দোলন জনপ্রিয় করে তুলতে অম্বিকাগিরি রায়চৌধুরী এবং গোবিন্দ লাহিড়ী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন । 

প্রশ্ন ৮। অসহযোগ আন্দোলনে অসমের ভূমিকা সম্পর্কে একটি খতিয়ান প্রস্তুত করো । 

উত্তরঃ প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশের সংকটজনক পরিস্থিতি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় । এই সময় মহাত্মা গান্ধি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এসে কংগ্রেসের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন । ১৯১৯ সালের জালিয়ান ওয়ালাবাগের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন ও বিক্ষোভ শুরু হয় । এই বিক্ষোভের জন্য বহু সত্যাগ্রহী বিভিন্ন রকম শাস্তিও পেয়েছিলেন । অবশেষে ১৯২০ সালে মহাত্মা গান্ধি অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন । 

অসমেও মহাত্মা গান্ধির অসহযোগ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে । অসম অ্যাসোসিয়েশন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ডাকে সাড়া দিয়ে অসমবাসীকে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করতে আবেদন জানায় । এই আন্দোলন শুরু করবার জন্য ১৯২১ সালে অসম ভ্রমণ করেন । গান্ধিজির আহ্বানে সমগ্র ব্রহ্মপুত্র ও সুরমা উপত্যকার স্কুল , কলেজ প্রভৃতি বর্জন করা হয় । গুয়াহাটীতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলাতী বস্ত্র দাহ করে বিদেশী বস্ত্র বর্জন শুরু হয় । 

তরুণরাম ফুকন , নবীনচন্দ্র বরদলৈ , রোহিনী চৌধুরী ও মোহম্মদ তায়েবউল্লা প্রভৃতি নেতাগণ অসমে এই সময়ে আন্দোলন পরিচালনার ভার গ্রহণ করে । মহিলা নেত্রীবৃন্দের মধ্যে তরুণরাম ফুকনের পত্নী এবং তাঁর বিধবা ভগ্নী গিরীজা দেবী এবং নবীনচন্দ্র বরদলৈয়ের পত্নী হেমন্তকুমারী দেবী এবং তাঁর বিধবা ভগ্নী ধর্মদাসুন্দরী দেবী অসমের অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করেন । নেতৃবৃন্দের প্রায় প্রত্যেকেই কারাবরণ করেন । 

১৯২১ সালের জানুয়ারী মাসে অসমের ছাত্রগণ নিখিল ভারত ছাত্রসংস্থার প্রস্তাব অনুযায়ী অসহযোগ আন্দোলনে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে । তারা শিক্ষা – প্রতিষ্ঠান বয়কট করে । অধিক সংখ্যক ছাত্র স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে । তাদের উদ্দেশ্য ছিল গ্রামাঞ্চলে অসহযোগ আন্দোলন বিস্তার করা । অসহযোগ আন্দোলনে অসমের ছাত্রসমাজের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য । বিদেশী দ্রব্য বয়কট , বিলাতী কাপড় বর্জন , খদ্দর গ্রহণ , মদ ও আফিং নিষিদ্ধকরণ প্রভৃতি হল অসহযোগ আন্দোলনের প্রধান কর্মসূচী । এই আন্দোলন অনেকাংশে সফল হলেও ১৯২১ সালে মহাত্মা গান্ধি আন্দোলন স্থগিত রাখলে অসমেও আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে । কিন্তু এই আন্দোলন অসমবাসীর মনে স্বাধীনতার স্পৃহা জাগরিত করেছিল । 

প্রশ্ন ৯। আইন অমান্য আন্দোলনে অসমের ভূমিকা সম্পর্কে একটি খতিয়ান দাও । 

উত্তরঃ ১৯৩০ সালে মহাত্মা গান্ধির নেতৃত্বে সারাদেশে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু হয় । এই বৎসর অসমেও আইন অমান্য আন্দোলন শুরু হয় । আন্দোলনকারীগণ লবণ এবং অসমের বনাঞ্চলের উপর থাকা নিষেধাজ্ঞা সহ সকল প্রকার দমন নীতির প্রতিবাদ করেছিলেন । আন্দোলনকারীগণ সরকারী অফিস – আদালত বয়কটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন । অসমে আইন অমান্য আন্দোলনে নেতৃত্বদান করেন অমিয়কুমার দাস , সিদ্ধিনাথ শর্মা , দেবেশ্বর শর্মা , চন্দ্ৰপ্ৰভা সইকিয়া , দুর্গাপ্রভা বরা প্রমুখ । ব্রিটিশ সরকার বিষ্ণুরাম মেধিসহ বহু নেতৃবর্গকে বন্দী করেন । 

১৯৩০ সালে অসমের শিক্ষা অধিকর্তা ক্যানিংহামের নির্দেশের প্রতিবাদে দলে দলে ছাত্রছাত্রীরা স্কুল – কলেজ বর্জন করে । এই সময় স্বদেশ অনুরাগীরা গুয়াহাটীতে কামরূপ একাডেমী এবং করিমগঞ্জে পাবলিক হাইস্কুল স্থাপন করেন । তেজপুর , ডিব্রুগড় প্রভৃতি স্থানেও স্বদেশী স্কুল স্থাপিত হয় । তবুও ছাত্র আন্দোলন চলতে থাকে । কালক্রমে ছাত্র আন্দোলন এবং আইন অমান্য আন্দোলন একাকার হয়ে যায় । আইন অমান্য আন্দোলন ছিল বেশি বিপ্লবাত্মক এবং সরকারকে অচল করে দেওয়ার চেষ্টা । 

১৯৩২ সালে সারা ভারতের সঙ্গে অসমেও দ্বিতীয় পর্যায়ের আইন অমান্য আন্দোলন শুরু হয় এবং ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত এই আন্দোলন চলেছিল । কংগ্রেস সেবাদল কর্মীরা ঐ আইন অমান্য আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছিল । আইন অমান্য আন্দোলন কার্যত ব্যর্থ হলেও এই আন্দোলন অসমবাসীর মনে স্বাধীনতা – স্পৃহা জাগিয়ে তুলেছিল ।

প্রশ্ন ১০। অসমে ভারত ত্যাগ আন্দোলনের কার্যাবলি ও প্রভাব সম্পর্কে একটি রচনা লেখো । 

উত্তরঃ ১৯৪২ সালে ক্রীপস্ মিশন ব্যর্থ হওয়ার পর বোম্বাই কংগ্রেসে “ ভারত ত্যাগ ” প্রস্তাব গৃহীত হয় । মহাত্মা গান্ধির নেতৃত্বের সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনও একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে উপনীত হয় । ব্রিটিশ সরকার ১৯৪২ সালের ৮ ই আগস্ট মহাত্মা গান্ধিসহ জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দকে কারারুদ্ধ করলে সারা ভারতের সঙ্গে অসমেও ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুরু হয় এবং কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দকে কারারুদ্ধ করা হয় , এবং সকল রাজনৈতিক দলকে বেআইনি বলে ঘোষিত করা হয় । ফলে অসমেও ইংরেজকে ভারত ছাড়ার দাবি জানানো হয় । 

ভারত ত্যাগ আন্দোলন বা আগস্ট বিপ্লবে অসমে নেতৃত্ব দান করেন জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালা , মহেন্দ্র হাজারিকা , পুষ্পলতা দাস , শঙ্কর বরুয়া , লক্ষ্মী গোস্বামী , গহন গোস্বামী , গুণেশ্বরী নাথ প্রমুখ । নেতাদের বেশির ভাগই কারাবরণ করেন । 

১৯৪২ সালে হামফ্রেসের আদেশে গুয়াহাটি কটন কলেজে ছাত্র – ছাত্রীদের উপর পুলিশ লাঠি চালায় । ফলে অসমের আন্দোলনকারীরা বিদেশী দ্রব্য বর্জন করে স্ব – নির্ভরতার উপর জোর দেয় এবং গ্রামগুলিতে পঞ্চায়েত গঠন করে সমান্তরাল সরকার চালাবার প্রয়াসী হয় । শ্রীহট্ট শহরে কতিপয় মহিলা আদালতে প্রবেশ করে আদালতের কাজকর্ম ব্যাহত করে । উত্তর কামরূপে “ কর বন্ধ ” অভিযান শুরু হয়েছিল । দেরগাঁওতে আন্দোলনকারীরা দপ্তরে ঢুকে ইংরেজ সাব – ডেপুটি কালেকটারকে গান্ধি – টুপী পরিয়েছিল । গহপুরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে গিয়ে কনকলতা পুলিশের গুলিতে নিহত হন । মুকুন্দ কাকতিও গুলিতে নিহত হয়েছিলেন । নগাঁওতে লক্ষ্মী হাজারিকা , ঠগীরাম সূত , ফুকননী , তিলক প্রমুখের উপর পুলিশ চালিয়েছিল । 

অসমের অনেক স্থানে আন্দোলনকারীরা লাইসেন্স প্রাপ্ত বন্দুক ছিনিয়ে এনে সশস্ত্র বিপ্লবের রূপে পরিণত করেছিল । আন্দোলনকারীরা সরকারী কার্যালয় , ডাকঘর প্রভৃতিতে অগ্নিসংযোগ করে । শিবসাগর জেলার সরুপাথারে কুশল কৌওরকে ফাঁসি দেওয়া হয় । আইন অমান্য আন্দোলনের সময় অসুস্থ কমলাগিরি কারাগারেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন । 

১৯৪৩ সালের ২৬ শে জানুয়ারী বড়ালীতে স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের সময় সভার সভানেত্রী চন্দ্রপ্রভা শইকিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় । এছাড়াও পুলিশ শোভাযাত্রা ও জনসভায় নির্মমভাবে লাঠি চালিয়েছিল , কোনো কোনো স্থানে পুলিশ গুলিবর্ষণও করেছিল । পাইকারি জরিমানা হিসাবে অসমে মোট ৩,৮৬,৯১১ টাকা আদায় করা হয়েছিল । কিন্তু ইংরাজ যতই দমননীতি চালাতে থাকে অসমবাসী তবুও আত্মগোপন করে ৪২ সালের ভারত ত্যাগ আন্দোলন বা আগস্ট বিপ্লব পরিচালনা করেছিল । 

প্রশ্ন ১১। বরদলৈ মন্ত্রীসভার নেতৃত্বে অসমে স্থাপিত শিক্ষানুষ্ঠানগুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও । 

উত্তরঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৬ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেস জয়লাভ করে অসমে গোপীনাথ বরদলৈ এর নেতৃত্বে মন্ত্রীসভা গঠিত হয় । বরদলৈ মন্ত্রীসভার প্রচেষ্টায় অসমে কতিপয় শিক্ষানুষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয় । অন্যতম শিক্ষানুষ্ঠানসমূহ হল— 

১। অসম কৃষি বিদ্যালয় :- স্বাধীনতার ঠিক পরই ১৯৪৮ সালে নগাঁও অসম পশু মহাবিদ্যালয় এবং যোরহাট কৃষি মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয় । এই দুই মহাবিদ্যালয় একত্রিত হয়ে ১৯৬৯ সালে অসম কৃষি বিদ্যালয় স্থাপিত হয় এবং পশু চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় নগাঁও থেকে বর্তমান গুয়াহাটীর খানাপাড়ায় স্থানান্তরিত করা হয় । অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উত্তর – পূর্ব ভারতের একমাত্র এবং প্রথম বৃত্তিমুখী বিশ্ববিদ্যালয় । 

২। গৌহাটী বিশ্ববিদ্যালয় :- গৌহাটী বিশ্ববিদ্যালয় হল উত্তর – পূর্ব ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন ও প্রথম সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় । ১৯৪৮ সালের ২৬ শে জানুয়ারী এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয় । প্রতিষ্ঠাকালে এর ১৭ টি মহাবিদ্যালয় এবং ৮ টি স্নাতকোত্তর বিভাগ ছিল । 

৩। অসম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় :- উত্তর – পূর্ব ভারতের প্রথম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ডিব্রুগড়ে স্থাপিত হয়েছিল । ১৯০০ সালে ড . জন বেরী হোয়াইটের ৫০,০০০ টাকা অনুদানে বেরী হোয়াইট মেডিক্যাল স্কুল স্থাপন হয়েছিল । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই বিদ্যালয় একটি চিকিৎসালয়ের চৌহদ্দে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল । স্বাধীনতার পর ১৯৪৭ সালের ৩ নভেম্বর এই বিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অসম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় নামে নামকরণ করা হয় । 

৪। গুয়াহাটী চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় :- চিকিৎসা ও চিকিৎসা শিক্ষার বর্দ্ধিত চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে নূতন করে চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় স্থাপন করার প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়ে পড়েছিল । এর ফলস্বরূপ ১৯৬০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটী চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছিল । ১৯৬৮ সালে শিলচরে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপিত হয়েছিল । 

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর :

প্রশ্ন ১। ১৮৫৭ সালের বিপ্লবে অসমের দুইজন শহীদের নাম লেখো । 

উত্তরঃ ( ক ) মণিরাম দেওয়ান । 

( খ ) পিয়লি বরুয়া । 

প্রশ্ন ২। প্রথম অসমীয়া সংবাদপত্রটির নাম কী ? কখন এবং কোথা থেকে এই পত্রিকাটি প্রকাশ করা হয়েছিল ? 

উত্তরঃ “ অরুণোদয় ” হল প্রথম অসমীয়া সংবাদপত্র । ১৮৪৬ সালে শিবসাগর থেকে এটির প্রথম প্রকাশ করা হয়েছিল । 

প্রশ্ন ৩। মহাত্মা গান্ধি অসমে প্রথম কখন ভ্রমণ করেছিলেন ? কখন এবং কার সভাপতিত্বে পাণ্ডু কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছিল ? 

উত্তরঃ মহাত্মা গান্ধি ১৯২১ সালে প্রথম অসম ভ্রমণে আসেন । ১৯২৬ সালে শ্রীনিবাস আয়াঙ্গারের সভাপতিত্বে পাণ্ডু কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছিল । 

প্রশ্ন ৪। ব্রিটিশ আমলে অসমে মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকের গড়ে তোলা দুইটি প্রতিষ্ঠানের নাম লেখো। 

উত্তরঃ ( ক ) অসম এসোসিয়েশন ।

( খ ) যোরহাট সর্বজনীন সভা ।

প্রশ্ন ৫। প্রথম গোলটেবিল বৈঠক কখন হয় ? এই বৈঠকে অসমের প্রতিনিধি কে ছিলেন ? 

উত্তরঃ প্রথম গোলটেবিল বৈঠক ১৯৩০ সালে হয় । চন্দ্রধর বরুয়া অসমের প্রতিনিধি ছিলেন। 

প্রশ্ন ৬। দ্বিতীয় ইঙ্গ- ব্রহ্মযুদ্ধের দুইটি কারণ লেখো। 

উত্তরঃ ( ক ) বদন বরফুকনের হত্যা । ও 

( খ ) চন্দ্রকান্ত সিংহের সিংহাসনচ্যুতি । 

প্রশ্ন ৭। ১৮২৬ সালের ইঙ্গ – খামটি চুক্তির দুইটি শর্ত লেখো । 

উত্তরঃ ( ক ) খামতি রাজা সদিয়া ঘোর গোহাই ব্রিটিশকে পাইক অর্থাৎ সাধারণ সেনা যোগান দিতে হবে । 

( খ ) খামতি রাজ্য নজরদারির জন্য ব্রিটিশ এলাকা নজরদারির জন্য ব্রিটিশ সরকার একজন রাজনৈতিক আধিকারিক নিয়োগ করবে । 

প্রশ্ন ৮। “ হস্তী – বিদ্যার্ণব ” পুঁথিটির লেখক কে ? সেই পুঁথিটির চিত্র অঙ্কন করা দুইজন শিল্পীর নাম কী ? 

উত্তরঃ  “ হস্তী – বিদ্যার্ণব ” পুঁথির লেখক হলেন সুকুমার বরকাইথ । এই পুঁথির চিত্র অঙ্কন করা দুইজন শিল্পী হলেন — দিলবর ও দোসাই । 

প্রশ্ন ৯। অসমে ১৮৫৭ সালে বিদ্রোহ বিফল হওয়ার তিনটি কারণ দেখাও । 

উত্তরঃ ( ক ) অসমে বিদ্রোহের প্রধান নেতা মণিরাম দেওয়ান যাতে বিদ্রোহ পরিচালিত করতে না পারেন ব্রিটিশ সরকার সেইদিকে নজর রাখত ৷ 

( খ ) অসমের সাধারণ মানুষ বিদ্রোহের কারণ হৃদয়ঙ্গম করতে পারে নি । 

( গ ) গোর্খারা সিপাহীদের বিরোধিতা করেছিল । 

প্রশ্ন ১০। অসমের যেকোন দুইটি রায়ত সভার নাম লেখো । 

উত্তরঃ ( ক ) তেজপুর রায়ত সভা ।

( খ ) নগাঁও রায়ত সভা । 

প্রশ্ন ১১। ভারত ত্যাগ আন্দোলনে অসমের দুইজন শহীদের নাম লেখো । 

উত্তরঃ ( ক ) কনকলতা বরুয়া ।

( খ ) মুকুন্দ কাকতি ।

প্রশ্ন ১২। ভারত ত্যাগ আন্দোলনে অসমের যে – কোনো তিনজন শহীদের নাম লেখো । 

উত্তরঃ ভারত ত্যাগ আন্দোলনে অসমের তিনজন শহীদ হলেন— 

( ক ) ভোগেশ্বরী ফুকনানী ।

( খ ) কনকলতা ।

( গ ) তিলক ডেকা । 

প্রশ্ন ১৩। আহোম রাজার তিনটি করপ্রদায়ক রাজ্যের নাম লেখো ।

উত্তরঃ ( ক ) গোভা ।

( খ ) নেলী । ও 

( গ ) লুকী । 

প্রশ্ন ১৪। অসমের প্রাককালীন ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ ( ১৯২৮-৩০ ) কিছু সংখ্যক লোক সমর্থন না করার তিনটি যুক্তি তুলে ধর । 

উত্তরঃ কতিপয় লোক সমর্থন না করার কারণগুলি নিম্নরূপঃ-

( ক ) অসমে ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সাধারণ মানুষ বর্মীদের অত্যাচার হতে নিষ্কৃতি পেয়েছিল । ফলে তারা ব্রিটিশ শাসন সমর্থন করেছিল । 

( খ ) ব্রিটিশ শাসনের প্রারম্ভেই অসমে শাস্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা হয়েছিল । অসমের শান্তিপ্রিয় মানুষ একে স্বাগত জানায় । 

( গ ) অভিজাত সম্প্রদায় ভেবেছিল যে ব্রিটিশ শাসনে তাদের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাবে । এইজন্য তারা ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ সমর্থন করে নি । 

প্রশ্ন ১৫। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের পর অসমে ব্রিটিশের দ্বারা প্রবর্তিত তিন প্রকার কর বা শুষ্কের নাম লেখো । 

উত্তরঃ তিন প্রকার করা হল – 

( ক ) আয়কর ।

( খ ) আমদানি শুষ্ক ।

( গ ) আবগারী কর । 

বস্তুভিত্তিক প্রশ্নোত্তর :

১। অসম এসোসিয়েশন কখন প্রতিষ্ঠিত হয় ? 

উত্তরঃ ১৯০৩ সালে । 

২। অসম এসোসিয়েশনের প্রথম সভাপতি কে ? 

উত্তরঃ প্রভাতচন্দ্র বরুয়া । 

৩। অসম এসোসিয়েশনের প্রথম অধিবেশন কোথায় অনুষ্ঠিত হয় ? 

উত্তরঃ ডিব্রুগড়ে ।

৪। কোন সালে মহাত্মা গান্ধি প্ৰথম অসম ভ্রমণ করেন ? 

উত্তরঃ ১৯২১ সালে । 

৫। অসম ছাত্র সম্মেলন কখন প্রতিষ্ঠিত হয় ? 

উত্তরঃ ১৯১৫ সালে । 

৬। অসম ছাত্র সম্মেলনের প্রথম সভাপতি কে ছিলেন ? 

উত্তরঃ লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া । 

৭। কটন কলেজ কোন সালে স্থাপিত হয় ? 

উত্তরঃ ১৯০১ সালে । 

৮। কটন কলেজ কে প্রতিষ্ঠা করেন ? 

উত্তরঃ হেনরী কটন । 

৯। পাণ্ডু কংগ্রেস কত সালে অনুষ্ঠিত হয় ? 

উত্তরঃ ১৯২৬ সালে । 

১০। অসমে প্রথম সাদুল্লা মন্ত্রীসভা কখন গঠিত হয় ?

উত্তরঃ ১৯৩৭ সালে । 

১১। অসমের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে ? 

উত্তরঃ গোপীনাথ বরদলৈ । 

১২। প্রথম মোয়ামরীয়া বিদ্রোহের সময় আহোমদের রাজা কে ছিলেন ? 

উত্তরঃ লক্ষ্মী সিংহ । 

১৩। বর্মী তথা মানের প্রথম অসম আক্রমণ কখন হয়েছিল ? 

উত্তরঃ ১৮১৭ সালে ।

১৪। NEFA- এর নাম বর্তমান কী ?

উত্তরঃ অরুণাচল প্রদেশ । 

১৫। ইয়াণ্ডাবুর সন্ধি কত সালে স্বাক্ষরিত হয় ? 

উত্তরঃ ১৮২৬ সালে । 

১৬। কোন সালে উজান অসম ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্তি করা হয় ? 

উত্তরঃ ১৯৩৮ সালে ।

১৭। ১৮৮৫ সালে উজান অসমে ব্রিটিশ বিচারকের নাম লেখো । 

উত্তরঃ মিঃ মোপট মিলস্ । 

১৮। প্রথম অসমীয়া ছায়াছবি “ জয়মতী ” কে প্রযোজনা করেছিলেন ? 

উত্তরঃ জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালা । 

১৯। অসমে গুয়াহাটী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার জন্য কোন সংগঠন বিশেষ চেষ্টা করে ফলবতী হয়েছিল ? 

উত্তরঃ অসম অ্যাসোসিয়েশন । 

২০। অসম অ্যাসোসিয়েশনের কোন অধিবেশনে সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল ? 

উত্তরঃ ১৯১৭ সালের শিবসাগর অধিবেশনে । 

২১। দ্বিতীয়বারের মত কোন সালে অসম অ্যাসোসিয়েশন সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছিল ? 

উত্তরঃ ১৯০৩ সালে । 

২২। কোন তারিখে “ যোরহাট সার্বজনিক সভা ” র সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছিল ? 

উত্তরঃ ১৮৮৬ সালের ২ রা জুন । 

২৩। অসম লিটারেরী সোসাইটি কখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ? 

উত্তরঃ ১৮৭২ সালে । 

২৪। হেমকোষের রচয়িতা কে ? 

উত্তরঃ হেমচন্দ্র বরুয়া । 

২৫। কোন সালে কোচ – রাজবংশী ক্ষত্রীয় সম্মেলনের উৎপত্তি হয়েছিল ? 

উত্তরঃ ১৯১২ সালে । 

২৬। কোন সালে বড়োদের মধ্যে বড়ো – কছাড়ী মহা সম্মেলনের জন্ম হয়েছিল ? 

উত্তরঃ ১৯২৩ সালে ।

২৭। অসহযোগ আন্দোলনের কোন মাসে মহাত্মা গান্ধি অসম ভ্রমণ করেছিলেন ? 

উত্তরঃ ১৯২১ সালের আগস্ট মাসে ।

Leave a Reply

error: Content is protected !!
Scroll to Top