SEBA Class 9 Bengali Chapter 11 লড়াই Question Answer As Per SEBA New Syllabus Provided by The Roy Library. SEBA Class 9 Bengali Chapter 11 লড়াই Notes is made for SEBA Bengali Medium Students. SEBA Class 9 Bengali Chapter 11 লড়াই Solutions We ensure that You can completely trust this content. If you learn PDF Then you can Download Now PDF. I hope You Can learn Better Knowledge.
SEBA Class 9 Bengali Chapter 11 লড়াই
Today’s We have Shared in This Post SEBA Class 9 Bengali MIL Solutions with you. I Hope, you Liked The information About The SEBA Class 9 Bengali MIL PDF Download. If you liked SEBA Class 9 Bengali Question Answer Then Please Do Share this Post With your Friends as Well.
লড়াই
| TEXTUAL QUESTION ANSWER |
১। অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও:
(ক) কার ব্যাগ থেকে টাকা চুরি হয়েছিল?
উত্তরঃ প্রশান্তের ব্যাগ থেকে টাকা চুরি হয়েছিল।
(খ) সিদ্ধার্থদের ক্লাসের শিক্ষক কে ছিলেন?
উত্তরঃ সিদ্ধার্থদের ক্লাসের শিক্ষক ছিলেন মহেন্দ্র মাস্টার।
(গ) নির্মল কার খোঁজে দোকানে গিয়েছিল?
উত্তরঃ নির্মল সিদ্ধার্থের খোঁজে পান দোকানে গিয়েছিল।
(ঘ) সিদ্ধার্থ তার পেন্সিল-বাক্সে কী সঞ্চয় করে রেখেছিল?
উত্তরঃ সিদ্ধার্থ তার পেন্সিল-বাক্সে বাবার দেওয়া চকোলেটের লেবেলগুলো বা জমানো কাগজ সঞ্চয় করে রেখেছিল।
(ঙ) নির্মলকে কেন বহুদিনের বাইরে যেতে হয়েছিল?
উত্তরঃ নির্মলকে তার জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য বেশ কিছুদিনের জন্য বাইরে যেতে হয়েছিল।
২। নীচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
(ক) সিদ্ধার্থ কেন প্রশান্তের ব্যাগ থেকে টাকা চুরি করেছিল?
উত্তরঃ নিষিদ্ধ ড্রাগস মেশানো সিগারেট কেনার জন্য টাকা প্রয়োজন ছিল সিদ্ধার্থের। পান দোকানের লোকটি তাকে জানিয়েছিল যে নিষিদ্ধ ড্রাগসের অনেক দাম, এবং এবার থেকে পয়সা দিয়ে জিনিস নিয়ে যেতে হবে। তাই নেশার তীব্র আসক্তির বশে টাকা জোগাড় করতে সে প্রথমে মায়ের হাতখরচ ও গচ্ছিত টাকা এবং পরে সহপাঠীদের ব্যাগ হাতড়াত, যার ফলস্বরূপ প্রশান্তের ব্যাগ থেকে সে টাকা চুরি করেছিল।
(খ) কী কী কারণে সিদ্ধার্থ নেশাসক্ত হয়ে পড়েছিল?
উত্তরঃ পারিবারিক কারণ ও নিঃসঙ্গতাই সিদ্ধার্থের নেশাসক্ত হওয়ার প্রধান কারণ। বাবা-মায়ের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া এবং পরে বাবার চলে যাওয়ায় সে একাকীত্ব ও দুঃখ-যন্ত্রণায় ভুগছিল। প্রাপ্য স্নেহ-মমতা থেকে বঞ্চিত হয়ে সে একটা অবলম্বনের সন্ধান করছিল। এই সময় পান-দোকানির সামান্য স্নেহের স্পর্শ পেয়ে, দোকানদারের প্ররোচনায় সে নিষিদ্ধ ড্রাগস মেশানো সিগারেট গ্রহণ করে, যার ফলে সে দ্রুত নেশাসক্ত হয়ে পড়ে।
(গ) নির্মল সিদ্ধার্থকে খুঁজে কেন পান দোকানে গিয়েছিল?
উত্তরঃ সিদ্ধার্থ এক সপ্তাহ স্কুলে না যাওয়ায় এবং তার রহস্যময় জীবনযাত্রার কারণে নির্মল তাকে খুঁজে পান দোকানে গিয়েছিল। নির্মল মনে করত যে একটা রহস্যের গোলোকধাঁধায় একজন বন্ধুকে এভাবে হারিয়ে যেতে দেওয়া যায় না। এই দায়িত্ববোধ এবং সন্দেহের বশবর্তী হয়েই সে সিদ্ধার্থকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়।
(ঘ) সিদ্ধার্থ কেন প্রথমত নির্মলের মুখোমুখি হতে চায়নি?
উত্তরঃ মহেন্দ্র মাস্টারের রূঢ় আচরণের প্রত্যুত্তর দেওয়া সিদ্ধার্থের মতো বেপরোয়া ছেলের পক্ষে সহজ হলেও, নির্মলের মতো আন্তরিক বন্ধুর মুখোমুখি হওয়া সহজ ছিল না। নির্মলের প্রশ্নে ছিল কোমলতা, যা সিদ্ধার্থের ভেতরের বিবেককে আঘাত করত। নির্মলের কথাগুলি সিদ্ধার্থের যন্ত্রণাদগ্ধ বুকের মধ্যে ‘সংগীতের মতো’ বেজে উঠেছিল এবং তার মধ্যে এক প্রবল প্রতিরোধের সঞ্চার করছিল। সেই সত্যের মুখোমুখি হওয়ার মানসিক প্রস্তুতি তার ছিল না বলেই সে প্রথমে পালিয়ে গিয়েছিল।
(ঙ) নির্মলের জটিল রোগের কথা জানতে পেরে সিদ্ধার্থ কী বলেছিল?
উত্তরঃ নির্মলের জটিল রোগের আকস্মিক খবরের প্রচণ্ড আঘাতে সিদ্ধার্থ প্রথমে নির্বাক নিঃস্পন্দ হয়ে গিয়েছিল। পরে নির্মল যখন তাকে পান দোকানে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে, তখন সিদ্ধার্থ ঢোক গিলে নির্মলের হাত আঁকড়ে ধরে বলে— “আমি নিশ্চয় চেষ্টা করব নির্মল। চোখের সামনে না-থাকলেও আমার বুকের ভেতরে থেকেই তুই বাধা দিবি, তা আমি জানি।”।
৩। দীর্ঘ উত্তর লেখো:
(ক) ‘তোর কি হয়েছে আমাকে বলতেই হবে সিদ্ধার্থ’- নির্মলের এই কথাগুলি সিদ্ধার্থকে কীভাবে প্রভাবিত করেছিল?
উত্তরঃ ড. মৃণাল কলিতা রচিত ‘লড়াই’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সিদ্ধার্থের জীবনে বন্ধু নির্মলের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই গল্পের সূচনা হয় বিদ্যালয়ের একটি গুরুতর ঘটনাকে কেন্দ্র করে—সহপাঠী প্রশান্তর ব্যাগ থেকে দুটো পঞ্চাশ টাকার নোট চুরি যাওয়ায় শিক্ষক মহেন্দ্রবাবু অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন। সকলের ব্যাগ পরীক্ষা করার সময় সিদ্ধার্থের ব্যাগ থেকেই পঞ্চাশ টাকার নোটসহ কিছু অতিরিক্ত টাকা উদ্ধার হয়। স্বাভাবিকভাবেই সে সন্দেহের কেন্দ্রে আসে। কিন্তু সিদ্ধার্থ কেবল দোষ অস্বীকারই করে না, বরং শিক্ষক মহেন্দ্রবাবুর প্রতি অত্যন্ত অভদ্র আচরণ করে তার ভেতরের তীব্র ক্ষোভ ও বিদ্রোহ প্রকাশ করে। এই ঘটনাটি সিদ্ধার্থের ভেতরের অস্থিরতাকে উন্মোচিত করে তোলে।
অন্যদিকে, সিদ্ধার্থের সহপাঠী নির্মল বেশ কিছুদিন ধরেই তার বন্ধুর অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করছিল। সে স্কুলের কাছে একটি পানের দোকান থেকে লুকিয়ে সিদ্ধার্থকে সিগারেট খেতে দেখে। এই দৃশ্য দেখে প্রথমে নির্মল অবাক হলেও তার মনে বন্ধুর প্রতি উদ্বেগ জাগে। এছাড়া, ওই পানের দোকানদারের অতি-জিজ্ঞাসু ও আন্তরিকতাহীন ব্যবহারও নির্মলের মনে সন্দেহ জাগিয়েছিল। বন্ধুত্বের গভীর টান এবং দায়িত্ববোধ থেকেই নির্মল একপ্রকার কর্তৃত্বের সঙ্গে পানের দোকানে গিয়ে সিদ্ধার্থের সঙ্গে দেখা করে এবং তাকে স্পষ্ট জানায় যে তার সঙ্গে কিছু কথা আছে। সেই কর্তৃত্বজাত নির্দেশের কাছে সিদ্ধার্থও মাথা নত করে।
দোকানের কিছুটা দূরে এসে নির্মল সরাসরি সিদ্ধার্থের কাছে প্রশান্তর টাকা চুরির কারণ জানতে চায়। যদিও সিদ্ধার্থ জোর করে চুরির কথা অস্বীকার করে, কিন্তু তার কণ্ঠে সেই দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল। এই মুহূর্তে নির্মল তার গভীর ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকে নরম স্বরে সিদ্ধার্থকে চ্যালেঞ্জ জানায়: “আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বল”। মহেন্দ্র মাস্টারের চোখে চোখ রেখে যে বেপরোয়া ছেলেটি ভেংচি কেটেছিল, সে এবার তার প্রিয় বন্ধুর চোখে চোখ রাখার সাহস পেল না। এই কয়েকটি মুহূর্তের অস্বস্তিকর নীরবতা শেষে নির্মল লক্ষ্য করে যে তার সামনে বেপরোয়া সিদ্ধার্থ একেবারে ঝিমিয়ে পড়েছে।
এরপর নির্মল সিদ্ধার্থের এই মানসিক পরিবর্তনের আসল কারণ জানতে চায় এবং মুক্তমনে বন্ধুকে সব কথা বলার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু সিদ্ধার্থ নিজের দুঃখ-কষ্ট ও অনুভূতিগুলো নিজের মনের মধ্যেই বদ্ধ রেখে কিছু বলতে চায় না। সে নির্মলের বারবার প্রশ্নের জবাব না দিয়েই সামনের চলন্ত সিটিবাসের পেছনে চলতে শুরু করে, একসময় ঝুঁকি নিয়ে বাসের পাদানিতে ঝুলেও পড়ে। শারীরিক দূরত্ব তৈরি হলেও, বারবার যেন নির্মলের ভালোবাসাপূর্ণ সেই প্রশ্নগুলো, সেই আহ্বান—তার বুকের ভিতরে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। নির্মলের এই প্রচেষ্টা আসলে সিদ্ধার্থকে তার অন্ধকার জগৎ থেকে আলোর পথে ফেরানোর প্রথম পদক্ষেপ, যা তার জীবনে এক কঠিন ‘লড়াই’-এর সূচনা করে।
(খ) সিদ্ধার্থ কেন নিঃসঙ্গতায় ভুগছিল বুঝিয়ে বলো।
উত্তরঃ ড. মৃণাল কলিতা রচিত ‘লড়াই’ গল্পের কিশোর চরিত্র সিদ্ধার্থের নিঃসঙ্গতায় ভোগার মূলে ছিল কয়েকটি গভীর ও জটিল কারণ, যা কেবল বন্ধুহীনতা নয়, বরং স্নেহ, মানসিক আশ্রয় ও পারিবারিক নির্ভরতা থেকে বঞ্চিত হওয়ার এক যন্ত্রণাদগ্ধ অনুভূতির ফল। তার নিঃসঙ্গতার প্রধান এবং প্রাথমিক কারণটি ছিল পারিবারিক বিচ্ছেদ এবং ভালোবাসার অভাব। গল্পে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা না হলেও, সিদ্ধার্থ নিজেই পরে নির্মলের কাছে স্বীকার করে যে তার মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়ে গেছে এবং তার পারিবারিক জীবনে শান্তি ও ভারসাম্যের তীব্র অভাব ছিল। মা-বাবার এই সম্পর্কের ভাঙন একটি কিশোরের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে, যার ফলে সে পরিবার থেকে প্রাপ্য স্বাভাবিক স্নেহ, মানসিক সমর্থন ও আশ্রয় থেকে বঞ্চিত হয়। কৈশোরে যখন তার সবচেয়ে বেশি মানসিক নির্ভরতা প্রয়োজন, তখন সে নিজেকে ঘরেই একাকী আবিষ্কার করে। এই ভালোবাসার অভাবই তাকে ক্রমশ একাকী ও বিচ্ছিন্ন করে তোলে।
এই পারিবারিক শূন্যতা থেকে জন্ম নেওয়া নিঃসঙ্গতা সিদ্ধার্থকে ক্রমশ অন্ধকার পথে চালিত করে। সে তার দুঃখ-কষ্ট ও অনুভূতিগুলো মনের মধ্যেই বদ্ধ রাখতে শিখে যায় এবং কোনো বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারে না। ফলস্বরূপ, এই অভ্যন্তরীণ যন্ত্রণা প্রশমিত করতে সে ড্রাগস এবং সিগারেটে আসক্ত হয়ে পড়ে। স্কুলের কাছাকাছি পানের দোকানে একা লুকিয়ে সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস তার মানসিক বিচ্ছিন্নতা ও ভুল পথে চালিত হওয়ারই ইঙ্গিত দেয়। এই অস্বাভাবিক আচরণ তাকে তার স্বাভাবিক বন্ধু মহল থেকেও দূরে সরিয়ে দেয়, যা তার নিঃসঙ্গতার পরিধিকে আরও প্রসারিত করে। এমনকি তার ঘনিষ্ঠ সহপাঠী নির্মলও একসময় তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেছিল।
বিদ্যালয়ে যখন চুরির অভিযোগ ওঠে এবং শিক্ষক মহেন্দ্র মাস্টারের রূঢ় বাক্যবাণ তার উপর বর্ষিত হয়, তখন সিদ্ধার্থের এই নিঃসঙ্গতা আরও প্রকট হয়। শিক্ষক ও সহপাঠীদের ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে সে সকলের চোখে আরও বেশি অপরাধী ও একঘরে হয়ে ওঠে। এই সময়ে তার তীব্র ক্ষোভ ও যন্ত্রণা রূঢ় আচরণ এবং বেপরোয়া মন্তব্যের মাধ্যমে প্রকাশ পেলেও, তা তার প্রতি সহানুভূতি জাগানোর পরিবর্তে দূরত্ব তৈরি করে। তার এই আচরণ বাকি সকলকে বোঝায় যে সে বেপরোয়া এবং নিয়ন্ত্রণহীন, যার ফলে কেউ সহমর্মিতা নিয়ে এগিয়ে আসত না। এই পরিস্থিতিতে সে মানসিকভাবে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। এককথায়, মা-বাবার বিচ্ছেদজনিত স্নেহ-বঞ্চনা, আসক্তির মাধ্যমে সেই শূন্যতা পূরণের চেষ্টা এবং পরবর্তীকালে শিক্ষক-সহপাঠীদের কাছ থেকে আসা ভুল বোঝাবুঝি—এই ত্রিমুখী আঘাতই সিদ্ধার্থকে এক গভীর, তীব্র ও অসহনীয় নিঃসঙ্গতার দিকে ঠেলে দেয়। নির্মলের ভালোবাসাপূর্ণ আহ্বানই প্রমাণ করে যে সে এই নিঃসঙ্গতার যেরা থেকেই মুক্তি চাইছিল।
(গ) নির্মল কীভাবে সিদ্ধার্থকে ভুল পথ থেকে টেনে এনেছিল বিস্তারিত বর্ণনা করো।
উত্তরঃ লড়াই গল্পে নির্মল ও সিদ্ধার্থ দুই বন্ধু এবং একই স্কুলের ছাত্র। একদিন ক্লাসে প্রশান্তর ব্যাগ থেকে চুরি হওয়া টাকা সিদ্ধার্থের ব্যাগে পাওয়া যায়। শ্রেণি-শিক্ষক প্রচণ্ড রাগারাগি করলেও সিদ্ধার্থ নিজের অপরাধ স্বীকার করল না, বরং রূঢ়ভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাল। বিষয়টি নির্মলকে ভাবিয়ে তোলে। একদিন ইচ্ছে করে দেরিতে স্কুল থেকে বেরিয়ে পানের দোকানের দিকে যায় এবং ঠিকই সেখানে সিদ্ধার্থকে দেখতে পায়। সে আগেও দেখেছে যে সিদ্ধার্থ দোকানের আড়ালে সিগারেট খায়। দোকানদারের সন্দেহজনক আচরণ ও পরিবারের খবর জানার আগ্রহ নির্মলের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়। সাধারণত সে ওই দোকানে না গেলেও বন্ধুকে খুঁজতে গিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
দোকানদার নির্মলকে পছন্দ না করলেও নির্মল তা গুরুত্ব না দিয়ে সিদ্ধার্থকে জানায় যে তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে। নির্মলের দৃঢ় কণ্ঠ সৌন্দর্যে সিদ্ধার্থের বেপরোয়া ভাব নরম হয়ে যায় এবং সে দোকান থেকে বেরিয়ে আসে। নির্মল প্রশান্তের টাকা চুরির কথা জানতে চাইলে সিদ্ধার্থ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপর সে টানা এক সপ্তাহ স্কুলে যায় না। কাছের মানুষদের হারিয়ে তার ভেতরে অভিমান ও একাকীত্ব আরও বেড়ে ওঠে। নির্মলের সামনে দাঁড়ানোর সাহস জোগাতে গিয়ে সে পানের দোকানেও যায় না। কয়েকদিন তাকে না দেখে নির্মল আবার দোকানে যায়। সেখানে পৌঁছাতেই এক বাইক আরোহী হঠাৎ নির্মলের মুখে ঘুষি মারে। নির্মলের নাক থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। রাস্তার ওপার থেকে সিদ্ধার্থ সব দেখে অবাক হয়ে ছুটে আসে এবং জানতে পারে নির্মল তার খোঁজেই সেখানে গিয়েছিল।
এরপর একদিন সিদ্ধার্থ তার জীবনের গভীর দুঃখ ও লুকিয়ে রাখা ব্যথাগুলো নির্মলকে জানায়। নির্মল বুঝে যায় যে তার বেপরোয়া ব্যবহার আসলে এক কোমল ও চাপা কষ্টের মনকে লুকিয়ে রেখেছে। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, একাকীত্ব, ভুল সঙ্গ—সবকিছু তাকে ধীরে ধীরে নেশার অন্ধকারে টেনে এনেছে। নির্মল তাকে বোঝায় যে সমস্যা থেকে পালাতে গিয়ে নেশা করা ঠিক নয়; এতে সে আরও বড় বিপদে পড়ছে। ভালোবাসা ও দৃঢ়তার সঙ্গে নির্মল তাকে নেশা ছাড়ার পরামর্শ দেয় এবং জীবনের সুন্দর দিকগুলো দেখার কথা বলে। তারপর নির্মল নিজের জটিল রোগ এবং চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে হবে—এ কথা প্রকাশ করে। এই খবর শুনে সিদ্ধার্থ ভীষণভাবে কেঁপে ওঠে। নির্মল আবারও বোঝায় যেন সে তার অনুপস্থিতিতেও কোনো ভুল পথে না যায়। অবশেষে নির্মলের হাত ধরে সিদ্ধার্থ প্রতিজ্ঞা করে যে সে আর কোনো ভুল করবে না।
(ঘ) ‘তার মতো ছেলের কথার উত্তর দিতে না পেরে অস্বস্তিকর মৌনতচায় কেবল ছটপটানোয় সার—’ কথাগুলির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ উদ্ধৃত বাক্যটির মাধ্যমে সিদ্ধার্থের নৈতিক দুর্বলতা এবং নির্মলের আন্তরিক মানবিকতার গভীর প্রভাব প্রকাশিত হয়েছে। বেপরোয়া স্বভাবের কারণে মহেন্দ্র মাস্টারের রূঢ় আচরণের প্রত্যুত্তর দেওয়া সিদ্ধার্থের জন্য সহজ হলেও নির্মলের প্রতি তার মন ভিন্ন ছিল। নির্মলের কোমল, বন্ধুত্বপূর্ণ আহ্বান তার ভেতরের বিবেককে জাগিয়ে তোলে। প্রশান্তের টাকা চুরি নিয়ে প্রশ্ন করলে সিদ্ধার্থ মিথ্যা বলতে চাইলেও নিজেই অনুভব করে তার কথায় জোর নেই। নির্মলের চোখের দিকে তাকিয়ে সে মিথ্যা বলতে পারে না, কারণ এই প্রশ্ন তাকে তার অপরাধ ও দুঃখের কঠিন সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।
সিদ্ধার্থের মন তখন ভালো-মন্দ এবং ভুল-শুদ্ধের তীব্র টানাপড়েনে জর্জরিত ছিল। সে নির্মলকে আঘাত করতে চায়নি, আবার নিজের অন্ধকার সত্য প্রকাশ করতেও ভয় পাচ্ছিল। তাই কোনো উত্তর দিতে না পেরে অস্বস্তিকর নীরবতায় কেবল ছটফট করছিল। এই ছটফটানি দেখায় যে তার ভেতরের মানুষটি তখনও সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যায়নি; বরং নির্মলের আন্তরিক মানবিকতার স্পর্শ তাকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দিচ্ছিল।
(ঙ) ‘হাসা যায় না, খেলা যায় না, ঘুমোনো যায় না, এতটাই তীব্র সেই শূন্যতার ভার— দুঃখের দহন— কথাগুলি কার সম্পর্কে এবং কেন বলা হয়েছে বুঝিয়ে বলো।
উত্তরঃ কথাগুলি গল্পের প্রধান চরিত্র সিদ্ধার্থকে কেন্দ্র করে বলা হয়েছে। কারণ, বাবা হঠাৎ একদিন তাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার পর এবং মায়ের স্নেহ, মনোযোগ ও নিরাপত্তা না পাওয়ার কারণে সিদ্ধার্থের মনে যে গভীর ‘অসহনীয় শূন্যতা’ তৈরি হয়েছিল, তারই তীব্রতা বোঝাতে এই বাক্যগুলি ব্যবহার হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের অবিরাম ঝগড়া, বাড়ির অস্থিরতা, চিৎকার-চেচামেচি এবং সেইসঙ্গে বাবার চলে যাওয়ার মতো কঠিন ঘটনার আঘাতে তার কোমল হৃদয়ে যেন প্রতিদিন ‘রক্তক্ষরণ’ হতো। এই মানসিক যন্ত্রণা ধীরে ধীরে তার শৈশবের স্বাভাবিক আনন্দ, নিরাপত্তা ও উচ্ছ্বাসকে পুরোপুরি কেড়ে নেয়।
এই অসহনীয় শূন্যতা ও দুঃখের ভার এতটাই গভীর ছিল যে সিদ্ধার্থ আর অন্যদের মতো স্বাভাবিকভাবে হাসতে পারত না, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে পারত না, এমনকি শান্তিতে ঘুমোতেও পারত না। দীর্ঘ রাত জেগে চোখের জল শুকিয়ে যেত, কিন্তু মন ভরতো না। নিজের ভেতরের দহন, একাকীত্ব এবং অবহেলার অনুভূতি থেকে বাঁচার জন্যই সে ভুল পথে হাঁটতে শুরু করে। ক্রমশ ভুল সঙ্গ, হতাশা এবং মানসিক শূন্যতা তাকে নেশার দিকে ঢেলে দেয়, যেখানে সে সাময়িক ভাবে ভুলে থাকতে পারলেও আসলে আরও গভীর অন্ধকারেই তলিয়ে যাচ্ছিল।
(চ) সিদ্ধার্থ কীসের তাড়নায় মায়ের সোনার বালা চুরি করেছিল? এবং পরে কেন তার অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছিল বুঝিয়ে বলো।
উত্তরঃ চুরির কারণ: নিষিদ্ধ ড্রাগস মেশানো সিগারেটে গভীরভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছিল সিদ্ধার্থ। প্রতিদিনের মতো সে দ্বিতীয় সিগারেট না পেলে অস্থির হয়ে উঠত। পান দোকানদার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে এই নেশাজাতীয় জিনিসের দাম বেশি—এবার থেকে তাকে টাকা নিয়ে আসতেই হবে। নেশার অন্ধ তাড়না, ভেতরের যন্ত্রণা আর দীর্ঘদিনের মানসিক শূন্যতা মিলিয়ে তাকে এমন অবস্থায় ঠেলে দেয় যে সে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। একদিন মা স্নান করতে গেলে সে চুপিচুপি মায়ের হাতের সোনার বালা নিয়ে নেয়, শুধুমাত্র নেশার চাহিদা মেটানোর জন্য।
অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণ: কিন্তু সোনার বালাটি পান দোকানদারের হাতে দেওয়ার ঠিক সেই মুহূর্তেই সবকিছু ভেঙে পড়ে। পুলিশ এসে তাদের বাড়ির কাজের মেয়েটিকে চুরির অভিযোগে ধরে নিয়ে লক-আপে ভরে দেয়। অসহায় মেয়েটির মুখ, তার কান্না আর দুঃখভরা চোখ দেখে সিদ্ধার্থ তীব্র অপরাধবোধে ভেঙে পড়ে। নেশার প্রতি আসক্তি, নিজের ভুল কাজের লজ্জা, ভেতরের ভালো-মন্দের লড়াই—এসব মিলিয়ে সে সারারাত ঘুমোতে পারে না। বারবার মনে হয়, মাকে ঠকিয়ে এবং নির্দোষ এক মানুষের জীবন নষ্ট করে সে যেন নিজের ভেতরের মানুষটাকেই মেরে ফেলেছে।
(ছ) ‘আসলে মন চাইলেই সুখী হওয়া যায় জানিস।’— নির্মল কোন প্রসঙ্গে সিদ্ধার্থকে এই কথাগুলো বলেছিল?
উত্তরঃ সিদ্ধার্থ যখন গভীর অস্থিরতা ও হতাশার চাপে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বলেছিল— “হয়তো জীবনটাই আমাকে প্ররোচিত করলে?”— তখন নির্মল তাকে স্থির হতে এবং নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করার জন্য এই কথাগুলো বলেছিল। নির্মল বুঝিয়ে দেয় যে জীবনকে সত্যিকারের ভালোবাসা মানে শুধু বেঁচে থাকা নয়, বরং জীবনকে অনুভব করা। সে বলে, প্রকৃতির সৌন্দর্য— নদীর কলকল ধ্বনি, পাহাড়ের শান্ত রূপ, আকাশের গভীর নীল, চাঁদের মায়া, আর তারা ভরা রাত— এসবের প্রতি যারা মন খুলে ভালোবাসতে পারে, তারা কখনোই ভেতরে ভেতরে শূন্য হয় না। গান শোনা, কবিতা পড়া এবং বইয়ের জগতে ডুবে থাকা— এসবও মানুষের মনকে পরিশুদ্ধ করে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়।
নির্মলের এই কথার আসল তাৎপর্য ছিল সিদ্ধার্থকে তার একাকীত্ব, দুঃখ, অপরাধবোধ এবং নেশার অন্ধকার থেকে বের করে এনে জীবনের দিকে ইতিবাচক চোখে তাকাতে শেখানো। সে চাইছিল সিদ্ধার্থ বুঝুক যে জীবন যত কঠিনই হোক, তার ভেতর সবসময় কিছু না কিছু সুন্দরতা লুকিয়ে থাকে। শুধু সেই সৌন্দর্য দেখার জন্য মনকে প্রস্তুত করতে হয়। তাই জীবনের প্রতি আশা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা ধরে রাখতে পারলে মানুষ আবার নতুনভাবে পথ খুঁজে পায়, নিজের শক্তি ফিরে পায় এবং ধীরে ধীরে ভেতরের অন্ধকার কাটিয়ে আলোর দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
যদি আপনি এর থেকে বেশি প্রশ্নের উত্তর চান তাহলে নীচের Buy লিঙ্কে ক্লিক করুন
Class 9 Bengali Textual [New Syllabus Updated]
| S.L. No. | Group – A সূচীপত্র |
| পাঠ – ১ | গৌরাঙ্গের বাল্যলীলা |
| পাঠ – ২ | খাই খাই |
| পাঠ – ৩ | ধূলামন্দির |
| পাঠ – ৪ | কবর |
| পাঠ – ৫ | মনসামঙ্গল |
| পাঠ – ৬ | প্রত্যুপকার |
| পাঠ – ৭ | ছুটি |
| পাঠ – ৮ | ডাইনী |
| পাঠ – ৯ | পিপলান্ত্ৰি গ্ৰাম |
| পাঠ – ১০ | অ্যান্টিবায়ােটিক ও পেনিসিলিনের কথা |
| পাঠ – ১১ | লড়াই |
| পাঠ – ১২ | আমরা |
| পাঠ – ১৩ | আগামী |
| পাঠ – ১৪ | আত্মকথা |
| পাঠ – ১৫ | ভারতবর্ষ |

Hi! I’m Ankit Roy, a full time blogger, digital marketer and Founder of Roy Library. I shall provide you all kinds of study materials, including Notes, Suggestions, Biographies and everything you need.

