SEBA Class 10 Social Science Chapter 6 অর্থনৈতিক ভূগোল – বিষয়বস্তু এবং সম্পদ Question Answer As Per SEBA New Syllabus Provided by The Roy Library. SEBA Class 10 Social Science Chapter 6 অর্থনৈতিক ভূগোল – বিষয়বস্তু এবং সম্পদ Notes is made for SEBA Bengali Medium Students. SEBA Class 10 Social Science Chapter 6 অর্থনৈতিক ভূগোল – বিষয়বস্তু এবং সম্পদ Solutions We ensure that You can completely trust this content. Class 10 Social Science Solutions Bengali Medium. If you learn PDF Then you can Download Now PDF. I hope You Can learn Better Knowledge.
SEBA Class 10 Social Science Chapter 6 অর্থনৈতিক ভূগোল – বিষয়বস্তু এবং সম্পদ
Today’s We have Shared in This Post SEBA Class 10 Social Science Chapter 6 অর্থনৈতিক ভূগোল – বিষয়বস্তু এবং সম্পদ Question Answer Bengali Medium. I Hope, you Liked The information About The Social Science Solutions For Class 10 SEBA. If you liked SEBA Class 10 Social Science Chapter 6 অর্থনৈতিক ভূগোল – বিষয়বস্তু এবং সম্পদ Notes in Bengali Then Please Do Share this Post With your Friends as Well.
অর্থনৈতিক ভূগোল – বিষয়বস্তু এবং সম্পদ
| অনুশীলনী |
১। অর্থনৈতিক ভূগোল কাকে বলে? এর মূল বিষয়বস্তু কী? অর্থনৈতিক ভূগোলের প্রধান শাখাগুলি উল্লেখ করো।
উত্তরঃ ভূগোলের যে-শাখায় সম্পদের উৎপাদন, বিতরণ, উপভোগ এবং বিনিময় আর তার সঙ্গে জড়িত মানুষের সমূহ কার্যকলাপ স্থান ও কাল সাপেক্ষে অধ্যয়ন করা হয়, তাকে অর্থনৈতিক ভূগোল (Economic Geography) বলে। অর্থনৈতিক ভূগোলের মূল বিষয়বস্তু হলো মানুষের অর্থনৈতিক কার্যকলাপের বিতরণ এবং এর সঙ্গে জড়িত কারক ও প্রক্রিয়াসমূহ অধ্যয়ন করা।
অর্থনৈতিক ভূগোলের প্রধান শাখাগুলি হলো:
(i) কৃষি ভূগোল (Agricultural Geography)
(ii) শিল্পীয় ভূগোল (Industrial Geography)
(iii) সম্পদ ভূগোল (Geography of Resources)
(iv) পরিবহন ভূগোল (Transport Geography)
(v) বাজার ভূগোল (Marketing Geography)
(vi) পরিকল্পনা ও উন্নয়ন ভূগোল (Geography of Planning and Development)
(vii) পর্যটন ভূগোল (Geography of Tourism)
২। অর্থনৈতিক ভূগোলের পরিসর সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তরঃ অর্থনৈতিক ভূগোলের অধ্যয়নের পরিসর মূলত কয়েকটি বিশেষ প্রশ্নের ওপর প্রতিষ্ঠিত:
(i) অর্থনৈতিক কার্যটি কোথায় অবস্থিত?
(ii) অর্থনৈতিক কার্যটির বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?
(iii) অর্থনৈতিক কার্যটি অন্য কী কী অনুষঙ্গের সঙ্গে জড়িত?
(iv) অর্থনৈতিক কার্যটি যেখানে অবস্থিত সেখানে কেন এ কার্য সম্ভব হয়েছে?
(v) অর্থনৈতিক কার্যটি যেখানে সংঘটিত তার পরিবর্তে অন্য আরেক স্থানে ঘটলে বেশি ভালো হত কি না?
৩। মানুষের অর্থনৈতিক বৃত্তি বলতে কী বোঝো? এই অর্থনৈতিক বৃত্তিগুলো কী কী?
উত্তরঃ মানুষের অর্থনৈতিক বৃত্তি বা কার্য চার প্রকার।
এগুলি হল:
প্রথম-স্তরীয় বৃত্তি (Primary Occupation): যে কার্যের দ্বারা মানুষ প্রকৃতি থেকে সম্পদ আহরণ করে তাকে প্রাথমিক বৃত্তি বলে। যেমন- কৃষিকার্য, মাছ ধরা, বনজ সম্পদ আহরণ, খনিজ সম্পদ আহরণ ইত্যাদি।
দ্বি-স্তরীয় বৃত্তি (Secondary Occupation): যে কার্যের দ্বারা মানুষ প্রকৃতি থেকে আহরিত বিভিন্ন দ্রব্য নানা প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের ব্যবহার উপযোগী করে তোলে তাকে দ্বি-স্তরীয় বৃত্তি বলে। যেমন- শিল্পোৎপাদন প্রক্রিয়া, বিভিন্ন নির্মাণ তথা পুনর্নির্মাণ কার্য ইত্যাদি।
ত্রি-স্তরীয় বৃত্তি (Tertiary Occupation): যে কার্যের দ্বারা প্রাথমিক এবং দ্বি-স্তরীয় বৃত্তির মাধ্যমে উৎপাদিত সামগ্রীসমূহ উপভোক্তার কাছে আসে তাকে ত্রি-স্তরীয় বৃত্তি বলে। যেমন- যাতায়াত, পরিবহন, বাজার, পাইকারি বা খুচরো বিক্রি, পর্যটন, যোগাযোগ ইত্যাদির সঙ্গে জড়িত অর্থনৈতিক কার্য।
চৌ-স্তরীয় বৃত্তি (Quaternary Occupation): যে কার্য দ্বি-স্তরীয় আর ত্রি-স্তরীয় বৃত্তিসমূহ অধিক সচল তথা ফলপ্রসূ করে তোলায় সাহায্য করে তাকে চৌ-স্তরীয় বৃত্তি বলে। যেমন- ব্যাঙ্ক বা অন্য বিত্ত প্রতিষ্ঠান, প্রচার মাধ্যম, প্রশাসন, শিক্ষা-গবেষণা ইত্যাদির সঙ্গে জড়িত কার্য।
৪। অর্থনৈতিক ভূগোলের প্রধান শাখাসমূহের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তরঃ অর্থনৈতিক ভূগোলের প্রধান শাখাগুলি এবং তাদের বিষয়বস্তু হলো:
কৃষি ভূগোল: এখানে কৃষিকার্য, কৃষির প্রকার, শস্যের উৎপাদন, কৃষি সামগ্রীর বাজার এবং আমদানি-রপ্তানি ইত্যাদি অধ্যয়ন করা হয়।
শিল্পীয় ভূগোল: এখানে শিল্প স্থাপনের সঙ্গে জড়িত কারকসমূহ, শিল্পের প্রকার, শিল্পীয় সামগ্রীর উৎপাদন এবং আমদানি-রপ্তানি ইত্যাদি অধ্যয়ন করা হয়।
সম্পদ ভূগোল: এতে সম্পদের প্রকার, আঞ্চলিক বিতরণ, সম্পদ উদ্ঘাটন ও উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কারকসমূহ, সম্পদের সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি অধ্যয়ন করা হয়।
পরিবহন ভূগোল: এতে পরিবহন ব্যবস্থার প্রকার, সম্পদ বিতরণে পরিবহনের ভূমিকা, মানুষের যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপে পরিবহনের ভূমিকা ইত্যাদি অধ্যয়ন করা হয়।
বাজার ভূগোল: এতে বাজার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা ও কারকসমূহ, বাজারের প্রকার ও বিতরণ ইত্যাদি অধ্যয়ন করা হয়।
পরিকল্পনা ও উন্নয়ন ভূগোল: এতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত কারকসমূহ, পরিকল্পনা ব্যবস্থা, সুস্থায়ী উন্নয়ন ইত্যাদি অধ্যয়ন করা হয়।
পর্যটন ভূগোল: এতে পর্যটন এবং তার বিকাশের সঙ্গে জড়িত কারকসমূহ, পর্যটনের প্রকার এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়া ইত্যাদি অধ্যয়ন করা হয়।
৫। সম্পদ বলতে কী বোঝো? এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।
উত্তরঃ মানুষের জীবন ধারণের জন্যে প্রয়োজনীয় সকল বস্তুকেই সম্পদ বলা হয়। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ জিমারমান (Zimmermann)-এর মতে, কোনো বস্তুকে সম্পদ হতে হলে তার কার্যকারিতা এবং উপকারিতা (Functionality and utility) এই দুটো গুণ থাকতে হবে।
এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
(i) উপকারিতা।
(ii) কার্যকারিতা। এবং
(iii)পরিবর্তনশীল ধর্ম।
৬। সম্পদের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে উদাহরণ সহ সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তরঃ সম্পদের প্রাচুর্য এবং সঠিক ব্যবহার মানব সমাজের অস্তিত্ব ও অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য। মানুষের জীবন ধারণের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা থেকে শুরু করে আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্পদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সম্পদের প্রয়োজনীয়তাকে কয়েকটি প্রধান দিক থেকে ব্যাখ্যা করা যায়।
(i) মৌলিক চাহিদা পূরণ: মানুষের জীবনধারণের জন্য খাদ্য, আশ্রয় এবং বস্ত্র হলো প্রধান মৌলিক প্রয়োজন। এই সমস্ত চাহিদা পূরণের জন্য সম্পদ অপরিহার্য। খাদ্যের জন্য আমরা কৃষি ও জৈব সম্পদ ব্যবহার করি, আশ্রয়ের জন্য কাঠ ও খনিজ সম্পদ ব্যবহার করি, এবং বস্ত্রের জন্য তুলা ও অন্যান্য ফাইবার ব্যবহার করি। প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত এই সমস্ত সম্পদগুলিকে মানুষ প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহারের উপযোগী করে নেয়, যা ছাড়া মানব সমাজের পক্ষে তার প্রাথমিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হত না।
(ii) অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: সম্পদের প্রাচুর্য শুধু মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে না, বরং জীবনধারণের মানদণ্ড উন্নত করতেও সাহায্য করে। মানুষের জ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে সে নতুন নতুন সম্পদ সৃষ্টি করতে এবং সেগুলোর ব্যবহার করতে শিখেছে। এই প্রক্রিয়া মানুষের জীবনকে আরও সহজ, আরামদায়ক এবং উন্নত করেছে। পাঠ্যপুস্তকে বলা হয়েছে, “প্রকৃতপক্ষে মানুষই সম্পদের সৃষ্টিকর্তা”। মানুষ তার জ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিষ্ক্রিয় বা ক্ষতিকর প্রাকৃতিক উপাদানকে সম্পদে পরিণত করে, যা অর্থনৈতিক কার্যকলাপের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
(iii) অর্থনৈতিক কার্যকলাপের ভিত্তি: যেকোনো অর্থনৈতিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সম্পদ। কৃষিকাজ, শিল্পোৎপাদন, পরিবহন, এবং বাজার— এই সমস্ত অর্থনৈতিক বৃত্তি বা কাজগুলির প্রতিটিই কোনো না কোনোভাবে সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। প্রাকৃতিক সম্পদকে ব্যবহার করে বিভিন্ন শিল্প গড়ে ওঠে, যা থেকে উৎপাদিত সামগ্রী পরিবহনের মাধ্যমে বাজারে পৌঁছায়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি অর্থনৈতিক উন্নয়নকে চালিত করে।
সুতরাং, বলা যায় যে, সম্পদ শুধুমাত্র মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য জরুরি নয়, বরং এটি জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল ভিত্তি।
৭। ‘সম্পদ পরিবর্তনশীল’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ সম্পদ হলো একটি গতিশীল এবং পরিবর্তনশীল ধারণা। কোনো বস্তু বা সামগ্রী যে সব সময় সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে, তার কোনো স্থিরতা নেই। মানুষের জ্ঞান, প্রযুক্তি, এবং সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কোনো বস্তু সম্পদ হিসেবে গণ্য হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। এই পরিবর্তনশীলতার মূল কারণ হলো মানব সমাজের চাহিদা এবং প্রযুক্তির উন্নয়ন। কোনো বস্তু কখন সম্পদে পরিণত হয়, তা বোঝার জন্য কিছু নির্দিষ্ট ধারণার ওপর আলোকপাত করা প্রয়োজন।
(i) নিষ্ক্রিয় সামগ্রী (Neutral Stuff) থেকে সম্পদে রূপান্তর: পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী, এমন কিছু সামগ্রী আছে যা মানুষের কোনো ধরনের উপকার বা অপকার করে না। এই সামগ্রীগুলিকে নিষ্ক্রিয় সামগ্রী বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, বহু বছর আগে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মজুত খনিজ তেল কোনো কাজে লাগত না। কিন্তু যখন মানুষ পেট্রোলিয়াম নিষ্কাশন এবং ব্যবহারের প্রযুক্তি আবিষ্কার করল, তখন তা মূল্যবান সম্পদে পরিণত হলো। এই রূপান্তরটি প্রমাণ করে যে, কোনো বস্তু তার প্রাকৃতিক অবস্থায় নিষ্ক্রিয় থাকলেও মানুষের জ্ঞান ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে তা সম্পদে রূপান্তরিত হতে পারে।
(ii) প্রতিরোধক (Resistant) থেকে সম্পদে রূপান্তর: কিছু সামগ্রী বা প্রাকৃতিক ঘটনা মানুষের জীবন বা কাজের জন্য ক্ষতিকর। পাঠ্যপুস্তকে এদেরকে প্রতিরোধক বলা হয়েছে। এরা সরাসরি সম্পদ হওয়ার পরিবর্তে মানুষের জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, মানুষ যখন এই প্রতিরোধকগুলির প্রতিকূল দিকগুলি নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে, তখন সেগুলিকে সম্পদে পরিণত করা সম্ভব হয়।
এই ধারণার একটি চমৎকার উদাহরণ হলো পশ্চিমবঙ্গের দামোদর নদী। একসময় এই নদীর জল ছিল মানুষের জন্য একটি প্রতিরোধক, কারণ এটি প্রতি বছর বন্যা সৃষ্টি করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাত। সেই সময়ে নদীটি কোনো সম্পদ হিসেবে গণ্য হতো না। কিন্তু যখন মানুষ এই নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণ করল, তখন এটি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সেচকার্যের জন্য ব্যবহৃত হতে শুরু করে। ফলে, যে নদীটি একসময় মানুষের জন্য ক্ষতিকর ছিল, তা এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কৃষিকাজে সাহায্য করে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে রূপান্তরিত হয়েছে। এই পরিবর্তনটি সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র মানুষের প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং প্রকৌশলের উন্নতির কারণে।
(iii) মানুষের ভূমিকা এবং প্রযুক্তির প্রভাব: সম্পদের পরিবর্তনশীলতার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে মানুষ নিজেই। মানুষ তার বুদ্ধি, জ্ঞান, এবং কৌশল প্রয়োগ করে প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত জিনিসগুলিকে ব্যবহারের উপযোগী সম্পদে পরিণত করে। পাঠ্যপুস্তকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “প্রকৃতপক্ষে মানুষই সম্পদের সৃষ্টিকর্তা”। মানুষের জ্ঞানের প্রসার এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলেই বহু নিষ্ক্রিয় ও প্রতিরোধক সামগ্রী সম্পদে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রযুক্তি, যেমন- রাস্তাঘাট, শিল্প-কারখানা, যানবাহন ইত্যাদি সবই মানুষের সৃষ্ট সম্পদ। এগুলি প্রাকৃতিক সম্পদকে ব্যবহার উপযোগী করতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, গাছ প্রাকৃতিক সম্পদ, কিন্তু গাছ থেকে কাগজ তৈরির প্রযুক্তি মানুষকে মানবসৃষ্ট সম্পদ (কাগজ) তৈরি করতে সাহায্য করে।
(iv) সম্পদের বৈশিষ্ট্য: সম্পদের এই পরিবর্তনশীলতাকে বুঝতে হলে এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে জানা জরুরি:
উপকারিতা (Utility): কোনো বস্তু ততক্ষণ পর্যন্ত সম্পদ নয়, যতক্ষণ না তা মানুষের কোনো প্রয়োজন মেটায়।
কার্যকারিতা (Functionality): কোনো বস্তু কার্যকর হতে হবে, যাতে তা মানুষের নির্দিষ্ট কোনো কাজ সম্পন্ন করতে পারে।
পরিবর্তনশীলতা (Dynamism): এটিই এই পুরো ধারণার মূল ভিত্তি। কোনো বস্তুর উপকারিতা বা কার্যকারিতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
৮। সম্পদ ভূগোলকে কেন অর্থনৈতিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা বলা হয়?
উত্তরঃ সম্পদ ভূগোলকে অর্থনৈতিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা বলা হয় কারণ কোনো একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সেই দেশের সম্পদের মান এবং প্রাচুর্যের ওপর বিশেষ ভাবে নির্ভর করে। এই সম্পর্কটি বোঝার জন্য অর্থনৈতিক ভূগোল এবং সম্পদ ভূগোলের মধ্যেকার সংযোগ এবং সম্পদের বহুমুখী ভূমিকার ওপর আলোকপাত করা প্রয়োজন।
অর্থনৈতিক কার্যকলাপের ভিত্তি: অর্থনৈতিক ভূগোল হলো সেই শাখা যেখানে সম্পদের উৎপাদন, বিতরণ, উপভোগ এবং বিনিময়ের সঙ্গে জড়িত মানুষের কার্যকলাপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। অন্যদিকে, সম্পদ ভূগোল এই বিষয়ের একটি বিশেষ অংশ, যেখানে সম্পদের প্রকার, আঞ্চলিক বিতরণ, উদ্ঘাটন, এবং সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি নিয়ে আলোচনা করা হয়। যেকোনো অর্থনৈতিক কার্যক্রমই কোনো না কোনোভাবে সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। যেমন:
প্রথম-স্তরীয় বৃত্তি (Primary Occupation): কৃষিকাজ, মাছ ধরা, খনিজ সম্পদ আহরণ ইত্যাদি কাজগুলি সরাসরি প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল।
দ্বিতীয়-স্তরীয় বৃত্তি (Secondary Occupation): শিল্পোৎপাদন এবং নির্মাণ কাজগুলি প্রকৃতি থেকে আহরিত সম্পদকে মানুষের ব্যবহারোপযোগী পণ্যে রূপান্তর করে।
তৃতীয় এবং চতুর্থ-স্তরীয় বৃত্তি (Tertiary and Quaternary Occupation): এই কাজগুলি অন্য বৃত্তিগুলিকে সচল এবং ফলপ্রসূ করতে সাহায্য করে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল।
মানুষ এবং সম্পদের সম্পর্ক: পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী মানুষই সম্পদের সৃষ্টিকর্তা। মানুষের জ্ঞান, কর্মদক্ষতা এবং প্রযুক্তি হলো মানব সম্পদ, যা একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। এই মানব সম্পদ তার বুদ্ধি ও প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে নিষ্ক্রিয় বা ক্ষতিকর প্রাকৃতিক উপাদানকে সম্পদে পরিণত করে। উদাহরণস্বরূপ, খনিজ তেল বা কয়লা একসময় শুধুমাত্র ভূগর্ভে থাকা পাথর ছিল, কিন্তু মানুষের প্রযুক্তির সাহায্যে এগুলি এখন মূল্যবান জ্বালানি সম্পদে পরিণত হয়েছে। এই রূপান্তরগুলি একটি দেশের অর্থনৈতিক মানকে দ্রুত উন্নত করতে পারে।
সম্পদ সংরক্ষণের গুরুত্ব: অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শুধুমাত্র সম্পদ ব্যবহারই যথেষ্ট নয়, এর সঠিক সংরক্ষণও অত্যন্ত জরুরি। পাঠ্যপুস্তকে সম্পদ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বহু অ-নবীকরণ যোগ্য সম্পদ নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার এক ভয়াবহ ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাই সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পুনরাবর্তন এবং বিকল্প সম্পদের সন্ধান করা জরুরি। সম্পদ ভূগোল এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করে এবং এটি অর্থনৈতিক ভূগোলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য সম্পদের সঠিক সংরক্ষণ অপরিহার্য।
৯। সম্পদ এবং মানুষের মধ্যেকার সম্পর্ক কী সে-বিষয়ে আলোচনা করো।
উত্তরঃ সম্পদ এবং মানুষের মধ্যেকার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং বহুমুখী। মানুষ এবং সম্পদের সম্পর্ক একে অপরের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে মানুষ সম্পদের সৃষ্টিকর্তা এবং উপভোক্তা উভয় ভূমিকা পালন করে।
প্রথমত, মানুষ তার জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল বস্তুকে সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করে। প্রকৃতিতে যে বায়ু, জল, সূর্যের আলো, মাটি, গাছপালা, খনিজ পদার্থ ইত্যাদি বিদ্যমান, এ সবই মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য সম্পদ। মানুষ তার জ্ঞান, বুদ্ধি, এবং কৌশল প্রয়োগ করে এই প্রাকৃতিক সম্পদগুলোকে ব্যবহার উপযোগী করে তোলে। এই সম্পদের প্রাচুর্যই মানুষের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, এবং বাসস্থানের পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সাহায্য করেছে।
দ্বিতীয়ত, সম্পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় মানুষের ভূমিকা অপরিহার্য। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ জিমারম্যানের মতে, কোনো বস্তু তখনই সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে যখন তার কার্যকারিতা এবং উপযোগিতা থাকবে। এই গুণাবলী শুধুমাত্র মানুষের জ্ঞান এবং প্রচেষ্টার মাধ্যমেই উদ্ঘাটিত হয়। প্রকৃতি, মানুষ, সমাজ-সংস্কৃতি, এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তির মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমেই একটি সম্পদের সৃষ্টি হয়। মানুষ শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারই করে না, বরং নিজের প্রয়োজনে অনেক নতুন সম্পদও তৈরি করে, যেমন প্রযুক্তি, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, কলকারখানা এবং কৃষি সরঞ্জাম, যা মানব সৃষ্ট সম্পদ নামে পরিচিত।
তৃতীয়ত, মানুষ নিজেই এক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, যাকে মানব সম্পদ বলা হয়। মানুষের কর্মদক্ষতা, শিক্ষা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং আগ্রহের উপর নির্ভর করে প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্ব্যবহার। এই কারণে, জাপান, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক সম্পদ কম থাকলেও শুধুমাত্র মানব সম্পদের দ্রুত বিকাশের উপর নির্ভর করে তারা আজ পৃথিবীর অন্যতম উন্নত এবং সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
সম্পদ এবং মানুষের সম্পর্ক পরিবর্তনশীলও বটে। কোনো বস্তু যা আজ মানুষের কাছে নিরপেক্ষ বা অপকারী বলে মনে হয়, ভবিষ্যতে তা মানব কল্যাণে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন, পশ্চিমবঙ্গের দামোদর নদী একসময় বন্যার কারণ হয়ে প্রতিরোধক হিসেবে বিবেচিত হতো, কিন্তু এখন তার উপর বাঁধ নির্মাণ করে জলবিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন এবং জলসেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এইভাবে মানুষের জ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে অনেক নিষ্ক্রিয় বস্তুও সম্পদে রূপান্তরিত হয়েছে।
সংক্ষেপে বলা যায়, সম্পদ এবং মানুষের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। মানুষ একদিকে যেমন সম্পদের প্রধান উপভোক্তা, তেমনি অন্যদিকে সে সম্পদের প্রধান সৃষ্টিকর্তা। মানব সমাজের উন্নয়ন সম্পূর্ণভাবে সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল, আর এই ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণভাবে মানুষের জ্ঞান এবং দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। তাই সম্পদ এবং মানুষ একে অপরের পরিপূরক এবং তাদের সম্পর্ক মানব সভ্যতার বিকাশের মূল ভিত্তি।
যদি আপনি এর থেকে বেশি প্রশ্নের উত্তর চান তাহলে নীচের Buy Now লিঙ্কে ক্লিক করুন
SEBA Class 10 Social Science Textual New Edition Updated
| Sl. No. | সূচিপত্র |
| Chapter – 1 | বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫–১৯১১ ) ও স্বদেশী আন্দোলন |
| Chapter – 2 | মহাত্মা গান্ধি এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম |
| Chapter – 3 | অসমে ব্রিটিশ বিরোধী জাগরণ এবং কৃষক বিদ্রোহ |
| Chapter – 4 | স্বাধীনতা আন্দোলন এবং অসমে জাতীয় জাগরণ |
| Chapter – 5 | ভারত এবং উত্তর – পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য |
| Chapter – 6 | অর্থনৈতিক ভূগোল: বিষয়বস্তু এবং সম্পদ |
| Chapter – 7 | পরিবেশ ও পরিবেশের সমস্যা |
| Chapter – 8 | পৃথিবীর ভূগোল |
| Chapter – 9 | অসমের ভূগোল |
| Chapter – 10 | ভারতীয় গণতন্ত্র |
| Chapter – 11 | আন্তর্জাতিক সংস্থা ― রাষ্ট্রসংঘ এবং অন্যান্য |
| Chapter – 12 | মুদ্রা এবং ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা |
| Chapter – 13 | অর্থনৈতিক উন্নয়ন |

Hi! I’m Ankit Roy, a full time blogger, digital marketer and Founder of Roy Library. I shall provide you all kinds of study materials, including Notes, Suggestions, Biographies and everything you need.

