SEBA Class 10 Social Science Chapter 9 অসমের ভূগোল Question Answer As Per SEBA New Syllabus Provided by The Roy Library. SEBA Class 10 Social Science Chapter 9 অসমের ভূগোল Notes is made for SEBA Bengali Medium Students. SEBA Class 10 Social Science Chapter 9 অসমের ভূগোল Solutions We ensure that You can completely trust this content. Class 10 Social Science Solutions Bengali Medium. If you learn PDF Then you can Download Now PDF. I hope You Can learn Better Knowledge.
SEBA Class 10 Social Science Chapter 9 অসমের ভূগোল
Today’s We have Shared in This Post SEBA Class 10 Social Science Chapter 9 অসমের ভূগোল Question Answer Bengali Medium. I Hope, you Liked The information About The Social Science Solutions For Class 10 SEBA. If you liked SEBA Class 10 Social Science Notes in Bengali Then Please Do Share this Post With your Friends as Well.
অসমের ভূগোল
| অনুশীলনী |
১। অসমের আয়তন, জনসংখ্যা এবং জনসংখ্যার ঘনত্বের বিষয়ে তথ্য সহকারে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তরঃ আধুনিক অসমের আয়তন হল 78,438 বর্গ কিলোমিটার, যা ভারতের মোট ভৌগোলিক আয়তনের 2.4 শতাংশ। 2011 সালের জনগণনা অনুযায়ী, অসমের মোট জনসংখ্যা ছিল 3,12,05,576 জন। এই জনসংখ্যার মধ্যে 1,59,39,443 জন পুরুষ এবং 1,52,66,131 জন মহিলা। অসমের জনসংখ্যার ঘনত্ব হল প্রতি বর্গ কিলোমিটারে 398 জন।
২। অসমের শিক্ষিতের হার কীভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে সংক্ষেপে উল্লেখ করো।
উত্তরঃ শিক্ষার ক্ষেত্রে অসমের একটি উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। 2001 সালের জনগণনা অনুযায়ী, অসমের শিক্ষিতের হার ছিল 63.25 শতাংশ, যা 2011 সালে বেড়ে 72.19 শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এটি রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির একটি স্পষ্ট প্রমাণ।
৩। ২০১১ সালের তথ্য অনুসারে অসমে কয়টি প্রথম শ্রেণির এবং কয়টি দ্বিতীয় শ্রেণির শহর আছে?
উত্তরঃ 2011 সালের জনগণনা অনুসারে, অসমে 7টি প্রথম শ্রেণির শহর বা নগর এবং 6টি দ্বিতীয় শ্রেণির শহর বা নগর রয়েছে। প্রথম শ্রেণির নগর বলতে সেইসব শহরকে বোঝানো হয়, যেখানে জনসংখ্যা এক লক্ষের বেশি।
৪। ১৯০১ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত অসমের জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করো।
উত্তরঃ 1901 সালে অসমের জনসংখ্যা ছিল মাত্র 32,89,680 জন, যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে 2011 সালে 3,12,05,576 জনে উন্নীত হয়েছে। 1901 সাল থেকে 1941 সাল পর্যন্ত প্রথম চারটি দশকে অসমের জনসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল। স্বাধীনতার পর, বিশেষ করে 1951 সাল থেকে 1971 সালের মধ্যে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার দ্রুত ছিল, কারণ সেই সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ব্যাপক অভিবাসন ঘটেছিল। এরপর থেকে বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে।
৫। ভৌগোলিক অঞ্চলভেদে উপযুক্ত মানচিত্রের সাহায্যে অসমের জনসংখ্যার বিতরণ পর্যালোচনা করো।
উত্তরঃ অসমের জনসংখ্যা বিতরণের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে রাজ্যটিতে সকল অঞ্চল বা সকল স্থানে জনবসতি ও জনসংখ্যার বিতরণ সমান নয় । কোন অঞ্চলে জনবসতি ঘন আবার কোন অঞ্চলে পাতলা । অসমের বিভিন্ন অঞ্চলের ভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুসারে রাজ্যটিতে জনসংখ্যা সকল অঞ্চলে সমান নয় । কাজেই অঞ্চলভেদে জনসংখ্যার ঘনত্ব সমান নয় । প্রাকৃতিক পরিবেশ বসবাসের অনুকূল হলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হয় আবার পরিবেশ অনুকূল না হলে জনসংখ্যার ঘনত্ব কম হয় ।
ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় সমতলভূমি , সারযুক্ত মাটি এবং সহজ কৃষিকার্য ও যাতায়াত ব্যবস্থার ফলে সেখানে জনবসতি ঘন। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় অসমের মোট জনসংখ্যার ৮৫ শতাংশ লোক বসবাস করে। এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব ২০০১ সালে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১২২০ জন এবং ২০১১ সালে ১৫০২ জনে বৃদ্ধি পায়। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার উচ্চ অংশে উপত্যকাটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ লোক বসবাস করে এবং ২০১১ সালের তালিকা অনুযায়ী জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩৭১ জন। মধ্য উপত্যকা অঞ্চলে জনসংখ্যার প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৫০০ জন। নিম্ন উপত্যকা অঞ্চলে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৬৩১ জন।
বরাক উপত্যকায় ২০১১ সালের তথ্য অনুসারে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৫৪৫ জন । অপরদিকে কাৰ্বি আংলং ও ডিমা হাসাও অঞ্চলে ২০০১ সালের তথ্য মতে পার্বত্য অঞ্চলটিতে জনসংখ্যার ঘনত্ব ছিল প্রতি বর্গ কিলোমিটারে মাত্র ৫৮ জন এবং ২০১১ সালে ৬৮ জন ।
অসমের কামরূপ জেলায় জেলাসমূহের মধ্যে ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী ২,৫২২,৩২৪ জন লোক বাস করে । কিন্তু ডিমা হাসাও জেলাটিতে ১,৮৮,০২৯ জন লোক বাস করে । ২০১১ সালের ভিত্তিতে ২,৮২৬,০০৬ জন জনসংখ্যার নগাঁও অসমের মধ্যে অধিক জনসংখ্যার জেলা । ২০১১ সালের তথ্য অনুযায়ী কামরূপ ( মেট্রো ) জেলা সর্বাধিক ঘন জনবসতিপূর্ণ জেলা হিসাবে বিবেচিত হয়েছে । এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ২০১০ জন ।
এক্ষেত্রে গুয়াহাটী মহানগরীর জনসংখ্যা বিশেষ প্রভাব ফেলেছে । এর বিপরীতে ডিমা – হাসাও পার্বত্য অঞ্চলে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে মাত্র ৪৪ জন লোক বাস করে । লখিমপুর ও শিবসাগরের জনসংখ্যার ঘনত্ব ৪৩১ জন ( ২০১১ সালের হিসেব অনুযায়ী ) । মরিগাঁও , নগাঁও , দরং , ওদালগুড়ি , ধুবরী , বঙাইগাঁও , গোয়ালপাড়া , বরপেটা , নলবারী , বাক্সা , কামরূপ ও কামরূপ মেট্রো জেলাগুলোয় জনসংখ্যার ঘনত্ব রাজ্যটির গড় ঘনত্ব অপেক্ষা বেশি । বরাক উপত্যকার করিমগঞ্জ , হাইলাকান্দি ও কাছাড় জেলায় জনসংখ্যা অসমের গড় ঘনত্ব অপেক্ষা বেশি ।
৬। অসমের জনসংখ্যা বিতরণের ভিন্নতার কারণগুলি উদাহরণ সহ সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তরঃ অসমের জনসংখ্যা বিতরণের ভিন্নতার প্রধান কারণগুলো হলো:
(i) ভৌগোলিক কারণ: ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সমতল ভূখণ্ড এবং উর্বর মাটি কৃষি কাজের জন্য খুবই উপযুক্ত। অন্যদিকে, পার্বত্য অঞ্চলগুলি (যেমন কার্বি আংলং এবং ডিমা হাসাও) পাহাড় এবং বনভূমিতে ভরা, যা বসবাস ও কৃষি কাজের জন্য প্রতিকূল।
(ii) অর্থনৈতিক কারণ: যেখানে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বেশি, যেমন কৃষি ও শিল্প, সেখানে জনসংখ্যার ঘনত্বও বেশি। উদাহরণস্বরূপ, ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় ঘন জনবসতি গড়ে উঠেছে, কারণ এখানকার সমতলভূমিতে কৃষি ও শিল্প বিকাশ সহজ।
(iii) পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা: যেখানে পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত, সেখানে বসতি স্থাপন সহজ হয়। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় নদী, সড়ক ও রেল পরিবহনের সুযোগ বেশি, যা জনবসতিকে আকর্ষণ করে।
৭। ২০১১ সালের তথ্যনুসারে অসমের জিলাগুরি মধ্যে সবচেয়ে বেশি এবং কম জনসংখ্যা এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব, রয়েছে সেই জিলার নাম উল্লেখ করো।
উত্তরঃ ২০১১ সালের তথ্য অনুযায়ী কামরূপ মেট্রো জেলাতে সর্বাপেক্ষা বেশি জনসংখ্যা। এই জেলাতে সর্বাপেক্ষা বেশি জনসংখ্যা। এই জেলাতে মোট জনসংখ্যা ১,২৬০,৪১৯ জন এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ২০১০ জন। সর্বাপেক্ষা কম জনসংখ্যা উত্তর কাছাড় পার্বত্য জেলা ( ডিমা হাসাও )। এখানে মোট জনসংখ্যা ১৮৮,০৭৯ জন এবং ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৪৪ জন।
৮। অসমের জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তরঃ অসমে উচ্চহারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ মূলত দুটি। একটি হল জনসংখ্যার প্রাকৃতিক বৃদ্ধি ও অপরটি হল রাজ্যের বাইরে থেকে রাজ্যটিতে অধিক মাত্রায় জনপ্রব্রজন। গত শতিকার আরম্ভ থেকেই অধিক সক্রিয়রূপে রাজ্যটিতে জন প্ৰব্ৰজন ঘটতে আরম্ভ করেছিল। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাজনের ফলে বহু সংখ্যক হিন্দু শরণার্থী পূর্ব পাকিস্তান ( বর্তমানে বাংলাদেশ ) থেকে অসমে প্রব্রজন করে।
ভারতের স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ( ১৯৫১-২০০১ ) অসমের জনসংখ্যা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পায়। এই সময়ে দেশে ১৮৫ শতাংশ বৃদ্ধির বিপরীতে অসমের জনসংখ্যা প্রায় ২৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। জনসংখ্যার এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির মূল কারণ হল বাংলাদেশ থেকে অবাধ অনুপ্রবেশ। এছাড়া আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োগে মৃত্যুর হার কমার জন্যও জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এই বৃদ্ধির হার কিছুটা কম । এর কারণ হল , বর্তমান সময়ে জন্মের হার কিছুটা কম হয়েছে এবং বাংলাদেশ থেকে অবাধ অনুপ্রবেশ হ্রাস পেয়েছে।
৯। অসমে প্রাচীন কাল থেকে বর্তমান সময় অবধি যে জনপ্রব্রজন ঘটেছে সেই স্রোতগুলি একাদিক্রমে উল্লেখ করো।
উত্তরঃ ভারতের উত্তর – পূর্বাঞ্চলের সাথে অসম রাজ্যটির বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য এর উত্তর , পূর্ব , দক্ষিণ ও পশ্চিম দিক থেকে নানা জনগোষ্ঠী ও ভাষা – ভাষীর লোকেদের প্রাচীনকাল থেকেই বর্তমান সময় পর্যন্ত এই রাজ্যটিতে আগমন ঘটছে। অসমে নানা স্থান থেকে বিভিন্ন সময়ে ঘটা জন প্রব্রজনকে এক একটি জনস্রোত ( Human Stream ) বলা যেতে পারে। সমাজ বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন যে সম্ভবত অসমে আগমন ঘটা প্রথম জনস্রোতটি ছিল অষ্ট্রিক ( Austric ) জনগোষ্ঠীর। এরা দক্ষিণ – পূর্ব এশিয়া থেকে এসেছিল। মেঘালয়ে বিস্তৃতভাবে বসবাস করা খাসিয়াও জয়ন্তীয়াগণ এই অষ্ট্রিক গোষ্ঠীর লোক । এদের কিছু সংখ্যক অসমের কার্বি আলং ও ডিম – হাসাও জেলাতে বসবাস করছে। আবার কিছু সংখ্যক কাছাড় জেলাতেও পাওয়া যায়।
দ্বিতীয় জনস্রোতটি ছিল তিব্বতীয় বর্মণ ভাষা বলা মংগোলীয় সকল (Tibeto – Burman )। এরা মধ্য এশিয়া থেকে হিমালয় পর্বত অতিক্রম করে অসমে এসেছিল এবং অসমের বিভিন্ন স্থানে বসতি স্থাপন করেছ । বর্তমানে খাসিয়া জনগোষ্ঠীয় লোক ছাড়া প্রায় সকল জনজাতি মূলত মংগোলীয় গোষ্ঠীর অন্তর্গত। এই মংগোলীয় জনগোষ্ঠীর প্রধান জনজাতিগণ হল — বোড়ো , মিচিং , রাভা , তিওয়া , দেউরী , সোনোয়াল , কাছারী , মেচ , কাছাড়ের বর্মণ , কার্বি , ডিমাসা কছারী , গারো , কুকি , মার ( Hmar ) , হাজং , রেংমা নাগা ও জেমি নাগা। অসমে মংগোলীয় জনগোষ্ঠীর লোকেরা সমভূমিতে , নদ – নদীর পারে , পাহাড়ের পাদদেশে এবং পাহাড়ে বসবাস করে।
খুব সম্ভবত মংগোলীয় জনগোষ্ঠীর লোকেদের আসার পর সিন্ধু আর্যমূলের ভাষা – ভাষী ( Indo – Aryan ) লোক সকল গঙ্গা সমভূমি অঞ্চল থেকে অসমে এসেছিল। এরা মূলত ককেশীয় জনগোষ্ঠীর লোক। প্রথমে স্থানীয় রাজা বা শাসনকর্তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এই লোক সকল অসমে এসেছিল। পরবর্তীকালে ব্রহ্মপুত্র ও বরাক সমভূমির অর্থনৈতিক সম্পদ রাজির দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে অসমে আসতে আরম্ভ করে এবং এই ধারা বর্তমানেও চলছে। বেশির ভাগ অজন জাতীয় লোকই ককেশীয় জনগোষ্ঠীর। কলিতা , কায়স্থ , ব্রাহ্মণ ইত্যাদি জাতির লোক সকল এই জনগোষ্ঠীর অন্তর্গত। অসমের হিন্দু জনসংখ্যার এক বৃহৎ অংশকে এই জনগোষ্ঠীর লোকেরা প্রতিনিধিত্ব করে। এরা ব্রহ্মপুত্র ও বরাক উপত্যকাতে বৈদিক সভ্যতা ও সংস্কৃতির ভিত্তি স্থাপন করে।
প্রায় ১৩ শতিকার প্রারম্ভে সিন্ধু আর্যমূলের ইসলাম ধর্মাবলম্বী একদল লোক ( সৈন্য ) কুতুবুদ্দিনের সেনাপতি মহম্মদ – বিন – বখতিয়ার খিলজীর নেতৃত্বে তিব্বতের দিকে অগ্রসর হবার পথে প্রথমে অসমে প্রবেশ করে। মোগল সম্রাটদের পৃষ্ঠপোষকতায় আক্রমণ করতে আসা ইসলামধর্মী লোক সকল ব্রহ্মপুত্র ও বরাক উপত্যকাতে মুসলমান সম্প্রদায়ের সমাজ ও সংস্কৃতি গড়ে তোলে।
অসমে আগমন ঘটা অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ জনগোষ্ঠী হল আহোমগণ। আহোম সকল মূলত মংগোলীয় জনগোষ্ঠীর লোক। ১২২৮ খ্রিস্টাব্দে চু – কা – ফার নেতৃত্বে উত্তর ম্যানমারের সান মালভূমি থেকে পাটকাই পর্বত পার হয়ে আহোম সকল অসমে আসে। এরা প্রথমে উপরি অসমে বসতি স্থাপন করে আহোম রাজ্য স্থাপন করে। পরবর্তী কালে সমস্ত ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা নিজেদের শাসনে আনে।
ব্রিটিশগণ অসমের শাসনভার গ্রহণ করার পর প্রশাসনীয় , অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কাজ – কর্ম চালানোর জন্য বাংলা , বিহার , উত্তরপ্রদেশ , রাজস্থান প্রভৃতি স্থান থেকে দক্ষ লোকেদের এনেছিল। এমনকি নেপাল থেকেও কিছু নেপালী সম্প্রদায়ের লোকেদের আনা হয়েছিল। ব্রিটিশগণ মধ্যভারতের ছোট নাগপুর মালভূমি অঞ্চলের লোকেদের চা শ্রমিক হিসেবে অসমে এনেছিল। এই চা জনগোষ্ঠীর লোকেরা মূলত অষ্ট্রিক জনগোষ্ঠীর লোক।
অপর একটি জনস্রোত হল পূর্ববঙ্গ ( বর্তমান বাংলাদেশ ) থেকে আসা ভূমিহীন মুসলমান কৃষকগণ। প্রথমে অসমের অবিভক্ত গোয়াল পাড়া জেলার জমিদার গণের পৃষ্ঠপোষকতায় ও পরে শাসকদের অনুগ্রহে অসমের বিস্তীর্ণ উর্বর জমি ও কম জনবসতির অঞ্চল গুলোতে পূর্ববঙ্গের ভূমিহীন কৃষকদের অবাধ প্ৰব্ৰজন ঘটেছিল। দেশ স্বাধীন হবার পর দেশ বিভাজনের ফলে বহু সংখ্যক হিন্দু শরণার্থী সেই সময়ে পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতে প্রবেশ করে এবং বসতি স্থাপন করে।
ভারতের রাজ্যসমূহের মধ্যে আভ্যন্তরীণ প্রব্রজন প্রক্রিয়া চলেছে। এই আন্তঃরাজ্যিক প্রব্রজন বিশেষত সামাজিক , অর্থনৈতিক ও শৈক্ষিক কারণে অব্যাহত আছে। রাজস্থান , পাঞ্জাব , বিহার , পশ্চিমবঙ্গ , মণিপুর ইত্যাদি রাজ্য থেকে যথেষ্ট সংখ্যক প্রব্রজনকারী অসমে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে।
প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত নানা স্থান থেকে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর লোকের আগমন ঘটেছে।
১০। অসমের আহোমদের জনগোষ্ঠীয় পরিচয় বিশদ করো।
উত্তরঃ অসমে আগমন ঘটা একটি গুরুত্বপূর্ণ জনগোষ্ঠী হল আহোমগণ। আহোমগণ মূলত মংগোলীয় জনগোষ্ঠীর লোক। ১২২৮ খ্রিস্টাব্দে চ্যু – কা – ফার নেতৃত্বে উত্তর ম্যানমারের সান মালভূমির নিকটস্থ মউলং রাজ্য হতে পাটকাই পর্বত পার হয়ে আহোমগণ অসমে আসে। আহোমগণ নিজেদেরকে ‘ টাই ’ বলতেন। এরা প্রথম ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় পরিভ্রমণের পর ‘ ‘ চরাইদেউ ’ নামক স্থানে ১২৫৩ খ্রিস্টাব্দে রাজধানীর গোড়াপত্তন করে স্থায়ীভাবে রাজ্যশাসন আরম্ভ করে। পরবর্তী সময়ে প্রায় সম্পূর্ণ ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা নিজেদের শাসনে আনে। আহোমগণ প্রায় ছয়শ বৎসর রাজত্ব করে অসমের সমাজ – সংস্কৃতিতে বলিষ্ঠ অবদান জুগিয়েছে।
বুড়ি – দিহিং , ব্রহ্মপুত্র ও দিখৌ নদী এবং নাগা পাহাড়ের মধ্যবর্তী অংশ জুড়ে ছিল আহোম রাজ্যের আদি বাসস্থান। সম্প্রতি আহোমগণ উপরি অসমের তিনসুকীয়া , ডিব্ৰুগড় , শিবসাগর , যোরহাট , গোলাঘাট , লখিমপুর ও ধেমাজি জেলা ছাড়াও মরিগাঁও , নগাঁও ও শোণিতপুর জেলায় বসবাস করছে।
১১। পরিবহন ব্যবস্থা অসমের অর্থনৈতিক উন্নতিতে কীভাবে সাহায্য করেছে সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তরঃ পরিবহণ ব্যবস্থাকে অর্থনৈতিক উন্নতির এক মূল বুনিয়াদী উপাদান বলা যায়। ভাল পরিবহণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপন হওয়া ছাড়াও সম্পদ , জ্ঞান ও সভ্যতা – সংস্কৃতির আদান – প্রদান হয়। পরিবহণ ব্যবস্থাসমূহ হল — রেলপথ , জলপথ , স্থলপথ ও বিমান পথ উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা দেশের বৈষম্য , ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যতার মধ্যে রাষ্ট্রীয় সংহতি ও ঐক্য স্থাপন করে।
নীচে অসমের অর্থনীতিতে পরিবহণের গুরুত্ব আলোচনা করা হলঃ
(১) রাস্তা – ঘাট , রেল ইত্যাদি নির্মাণের জন্য এবং জল পরিবহণ ব্যবস্থার জন্য অনেক দূরে থাকা খুব শীঘ্র নষ্ট হয়ে যাওয়া জিনিস উৎপাদন করা সহজ হয় , কারণ এই সকল পচনশীল জিনিস খুব কম সময়ে বাজারে পাঠানো যায়। পরিবহণের সুবিধা না থাকলে দুধ , শাক- সবজি , ফলমূল , ডিম , মাছ ইত্যাদি অনেক জিনিস নষ্ট হয়ে যেত।
(২) পরিবহণের উন্নতি কৃষিখণ্ডেরও উন্নতি সাধন করে। পথ ও রেল ব্যবস্থার দ্বারা কৃষকেরা উপকৃত হয়। কৃষকেরা সহজেই সার , উচ্চ উৎপাদনক্ষম বীজ , কীটনাশক ঔষধ , পম্পিং সামগ্রী , ট্রেক্টর ইত্যাদি পায়। পরিবহণের সুবিধে থাকার জন্যই কৃষিজাত দ্রব্যের বেচা – কেনা সহজেই হয়।
(৩) অসমের মত নদ – নদী , পাহাড় – পর্বতে আবৃত স্থানে খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী বিতরণের ক্ষেত্রে পরিবহণ ব্যবস্থা এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
(৪) ঔদ্যোগিক উন্নতি পরিবহণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। উদ্যোগ গড়ে তুলতে হলে কাঁচামাল সরবরাহের দরকার হয় , মেশিন শ্রমিক লাগে , উৎপাদিত সামগ্রী বাজারে পাঠাতে হয়। এজন্য পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতি বিশেষ প্রয়োজন।
(৫) দেশের আর্থিক ও নৈতিক বিকাশ পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতির ওপর নির্ভর করে। পরিবহণ ব্যবস্থা দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা , চিকিৎসা ইত্যাদির সুবিধে প্রদান করে।
(৬) সামাজিক – সংস্কৃতির বিকাশের জন্যও পরিবহণের উন্নতি আবশ্যক।
(৭) দেশের দুর্যোগের সময় পরিবহণ ব্যবস্থা বিশেষ সুবিধা প্রদান করে।
১২। অসমের জলপরিবহন বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো।
উত্তরঃ অসমের জলপথ পরিবহন প্রধানত অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহন (Inland Water Transport – IWT) দ্বারা পরিচালিত হয়।
(a) গুরুত্বপূর্ণ জলপথ:
(i) ব্রহ্মপুত্র নদ (জাতীয় জলপথ – ২): এটি অসমের প্রধান জলপথ এবং রাজ্যের যোগাযোগ ও বাণিজ্যের মেরুদণ্ডস্বরূপ। এটি ধুবড়ি থেকে সাদিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত।
(ii) বরাক নদ (জাতীয় জলপথ – ১৬): এটি বরাক উপত্যকার প্রধান জলপথ।
(iii) এছাড়া ব্রহ্মপুত্র ও বরাকের বিভিন্ন উপনদী এবং অন্যান্য নৌ-চলাচলযোগ্য নদীগুলিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(b) পরিচালনা ও পরিষেবা:
(i) অসম অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহন দপ্তর (Directorate of Inland Water Transport, Assam): এটি ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি রাজ্যের ফেরি পরিষেবা পরিচালনা, নৌ-চলাচলের উপযুক্ততা বজায় রাখা এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।
(ii) এই দপ্তর ব্রহ্মপুত্র, বরাক ও তাদের উপনদীতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য ১০২টিরও বেশি ফেরি পরিষেবা পরিচালনা করে (তথ্য অনুসারে, যার মধ্যে ৭৯টি ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় এবং ২৩টি বরাক উপত্যকায়)।
(iii) ঐতিহ্যবাহী কাঠের নৌকার বদলে এখন আধুনিক পাওয়ার ভেসেল ব্যবহার করা হচ্ছে।
(c) আধুনিকীকরণ ও উন্নয়ন:
(i) যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ-বান্ধব, সাশ্রয়ী এবং সুবিধাজনক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
(ii) আসাম অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহন উন্নয়ন প্রকল্প (Assam Inland Water Transport Project – AIWTP)-এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ফেরি পরিকাঠামো, নৌবহরের আধুনিকীকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলছে।
(iii) যোগাযোগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য জোগিঘোপা-র মতো টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে, যা ভুটান ও বাংলাদেশের সাথে ত্রিপাক্ষিক বাণিজ্যে সহায়ক হবে।
(iv) যাত্রীদের জন্য অনলাইন ফেরি টিকিট বুকিং-এর মতো পরিষেবাও চালু হয়েছে।
(d) পর্যটন:
(i) ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ক্রুজ পরিষেবা এবং নদী পর্যটন-এর উন্নয়নের জন্য আধুনিক টার্মিনাল তৈরির কাজ চলছে।
(ii) নদী-পথে মাল পরিবহন বৃদ্ধির ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই ব্যবস্থা রাজ্যের দূরবর্তী অঞ্চলের জনগণের জন্য, বিশেষত নদী ও চর অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য, জীবনধারণ এবং যোগাযোগের প্রধান উপায় হিসেবে কাজ করে।
যদি আপনি এর থেকে বেশি প্রশ্নের উত্তর চান তাহলে নীচের Buy Now লিঙ্কে ক্লিক করুন
SEBA Class 10 Social Science Textual New Edition Updated
| Sl. No. | সূচিপত্র |
| Chapter – 1 | বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫–১৯১১ ) ও স্বদেশী আন্দোলন |
| Chapter – 2 | মহাত্মা গান্ধি এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম |
| Chapter – 3 | অসমে ব্রিটিশ বিরোধী জাগরণ এবং কৃষক বিদ্রোহ |
| Chapter – 4 | স্বাধীনতা আন্দোলন এবং অসমে জাতীয় জাগরণ |
| Chapter – 5 | ভারত এবং উত্তর – পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য |
| Chapter – 6 | অর্থনৈতিক ভূগোল: বিষয়বস্তু এবং সম্পদ |
| Chapter – 7 | পরিবেশ ও পরিবেশের সমস্যা |
| Chapter – 8 | পৃথিবীর ভূগোল |
| Chapter – 9 | অসমের ভূগোল |
| Chapter – 10 | ভারতীয় গণতন্ত্র |
| Chapter – 11 | আন্তর্জাতিক সংস্থা ― রাষ্ট্রসংঘ এবং অন্যান্য |
| Chapter – 12 | মুদ্রা এবং ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা |
| Chapter – 13 | অর্থনৈতিক উন্নয়ন |

Hi! I’m Ankit Roy, a full time blogger, digital marketer and Founder of Roy Library. I shall provide you all kinds of study materials, including Notes, Suggestions, Biographies and everything you need.

