Class 12 Advance Bengali Chapter 11 দিবা দ্বিপ্রহরে Question Answers As Per the New Syllabus. Students can easily browse the chapter-wise list to find the required questions and answers for Class 12 Advance Bengali Chapter 11 দিবা দ্বিপ্রহরে Notes. Here, you can also access HS 2nd Year Advance Bengali Solutions. You can also Download PDF for offline study.
Class 12 Advance Bengali Chapter 11 দিবা দ্বিপ্রহরে
AHSEC Class 12 Advance Bengali Notes are useful for revision and exam preparation. Students can explore the HS 2nd Year Advance Bengali Solutions for all chapters to understand important topics, strengthen their knowledge, and prepare confidently for their final examinations.
দিবা দ্বিপ্রহরে
| TEXTUAL QUESTION ANSWER |
প্রশ্ন ১। ‘দিবা দ্বিপ্রহরে’ গল্পটি তোমার নিজের ভাষার লেখো।
উত্তরঃ আজ সকালে হারু ঘোষের মেজ ছেলে ন্যাপলাকে একটি বিষধর সর্প কামড় মেরে ইঁটের গাদার ভেতরে লুকিয়ে পড়ে। সাপটিকে খুঁজে বের করতে গিয়ে দুপুর হয়ে পড়ে। সে সময় সাধারণত লোকজন বিশেষ কোনো কাজ না থাকলে বাইরে বেরোয় না, কিন্তু সেদিন ন্যাপলাকে কামড় দেওয়া বিষধর সাপটিকে দেখার জন্য দুপুরের প্রখর রৌদ্রের তাপ সহ্য করেও মানুষ ভিড় বেঁধে আছে। বিশু বাগদী নামক পাড়ার সাহসী এক যুবক ইঁটের গাদার ভিতরে সাপটির লেজ দেখতে পেয়ে লেজে বল্লমবিদ্ধ করে সাপটাকে বাহিরে টেনে আনে। বল্লমবিদ্ধ সাপটি ফণা তুলে তর্জন-গর্জন করছে। তা দেখবার মতো দৃশ্য। জনতা সভয়ে সাপটির দিকে তাকিয়ে আছে। বিশু বাগদি বলেন এমন মোটা, লম্বা, ফণা ও গর্জন বিশিষ্ট সাপ সে আগে আর দেখেনি। গ্রামবাসী যখন সাপটিকে দেখার জন্য ভিড় করে আছে তখন একটি গাছের নিচে বসে জনৈক আগন্তুক ছাতু খাচ্ছিল। সে আসলে পাগলা গারদ থেকে বেরিয়ে আসা পাগল। পরে একটি চিৎকারে সেদিকে আকৃষ্ট হয়ে এগিয়ে গিয়ে একজন লোককে জিজ্ঞেস করে সে জানতে পারে যে হারু ঘোষের মেজ ছেলে ন্যাপলাকে সাপে কেটেছে।
ডাক্তার এসে ক্ষত স্থানে কেটে কুটে ওষুধ পত্তর দিয়ে বেঁধে যায়। তখন আগন্তুক বলে, ডাক্তারিতে কিচ্ছু হবে না। সমস্ত গ্রামে রটে যায় মস্ত বড় গুণী ওঝা এসে হাজির হয়েছে। তখন হারু ঘোষকে খবর দেওয়া হল। আগন্তুকের কথা মতো ন্যাপলার বাঁধন খোলা হয় এবং বল্লমবিদ্ধ সাপটিকেও ছেড়ে দেওয়া হয়। সাপটি আগন্তুকের দুহাত ও গলায় দংশন করে। এতে আগন্তুক মারা যায়। উত্তেজিত জনতার কলরব; ন্যাপলা ও আগন্তুকের মৃতদেহ পাশাপাশি পড়ে আছে।
দারোগা এসে আগন্তুকের মুখটি নিরীক্ষণ করে বললেন, একেই তো তারা খুঁজছিলেন। তারপর তিনি বলেন যে, সে পাগলা গারদ থেকে পালিয়ে আসা পাগল। তখন বিশু বাগদী একথা শুনে বলেন যে, এখানে সবাই পাগল। সবাইকে পাগলা গারদে নিয়ে যাওয়া হোক। তখন সন্ধ্যার অন্ধকার ঘনিয়ে এলে জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।
প্রশ্ন ২। অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার মানুষকে যে কত দুর্ভোগ ও বিপদে ফেলতে পারে ‘দিবা দ্বিপ্রহরে’ গল্পটির মধ্য দিয়ে বনফুল সেটিই বোঝাতে চেয়েছেন। – আলোচনা করো।
উত্তরঃ পেশায় চিকিৎসক বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় একজন বিজ্ঞানের উপাসক, তাই তিনি তাঁর বিভিন্ন ছোট গল্পে অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার, যাদুটনা, মন্ত্র ইত্যাদি মানুষকে যে কত বিপদে ফেলতে পারে তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। আমাদের আলোচ্য ‘দিবা দ্বিপ্রহরে’ গল্পটিও তার ব্যতিক্রমী নয়।
গল্পটিতে দেখা যায় জনৈক ব্যক্তি হারু ঘোষের মেজ ছেলে ন্যাপলাকে সাপে কামড় দিয়েছে। ডাক্তার এসে কামড়ানো জায়গার উপরে তিন-চারটি জায়গায় বাঁধন দিয়েছে যাতে বিষ মাথায় উঠতে না পারে, তাছাড়া ঔষধ পত্রও দিয়েছে। এতে হয়তো ন্যাপলা সুস্থ হয়ে উঠত। কিন্তু হঠাৎ কোথা থেকে এক পাগল এসে বলে সে মন্ত্রের দ্বারা বিষ ঝাড়িয়ে রোগীকে সুস্থ করে তুলবে। সাধারণ মানুষ এই সাপের বিষ ঝাড়িয়ে নামানো কু-সংস্কারে খুব বেশি বিশ্বাসী। তাই তারা আনন্দে রাজী হয়ে গেল। আনা হল হারু ঘোষের ছেলে ন্যাপলাকে, খোলা হল পায়ের উপরের সব বাধন। এতে বিষ তাঁর সমস্ত শরীর ও মাথায় ছড়িয়ে পড়ে ন্যাপলার মৃত্যু হলো।
সুতরাং, অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারে বশীভূত হয়ে মানুষ যে কীরূপ বিপদে পড়তে পারে আলোচ্য গল্পটি তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।
প্রশ্ন ৩। ‘দিবা দ্বিপ্রহরে’ গল্পটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তরঃ গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রভৃতির নামকরণ করা হয় চরিত্র, বিষয়বস্তু বা সময়ের উপর ভিত্তি করে। এখানে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় গল্পটির নামকরণ করেছেন সময়ের উপর ভিত্তি করে। আলোচ্য গল্পটির ঘটনাকাল হল দিনদুপুর হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত। গল্পের আরম্ভতে দেখা যায় দুপুরের প্রখর রৌদ্রে বিশেষ কোনো কাজ না থাকলে যেখানে মানুষ ঘর থেকে বেরোয় না, সে জায়গায় গ্রামের মানুষ যে সাপটি আজ সকালে হারু ঘোষের ছেলেকে কামড় মেরে ইঁটের গাদার ভেতর লুকিয়ে পড়েছিল সেই সাপটি ধরা পড়লে তাকে দেখার জন্য ভিড় করে আছে। বিশু বাগদী নামে গ্রামের সাহসী যুবক বল্লমবিদ্ধ করে সাপটিকে বাইরে বের করে আনে। বল্লমবিদ্ধ সাপটি ফণা তুলে তর্জন-গর্জন করছে, তা দেখবার মতো দৃশ্য।
গ্রামবাসী যখন সাপটিকে নিয়ে ভিড় করে আছে তখন পাশে একটি বৃক্ষের নিচে এক পাগল আগন্তুক ছাতু খাচ্ছিল। কলরবে আকৃষ্ট হয়ে ভিড়ের দিকে এগিয়ে একজন লোককে ভিড়ের কারণ জিজ্ঞাসা করে। কারণ জেনে বলে ডাক্তারিতে কিছু হবে না তার কথাবার্তাতে গ্রামবাসী মনে করে এক মস্তবড় ওঝার আগমন হয়েছে। তখন হারু ঘোষকে খবর দিয়ে আনানো হয়। বল্লম বিদ্ধ সাপটিকেও ছেড়ে দেওয়া হয়। সাপটি আগন্তুকের দুহাত এবং কপালে দংশন করে। ফলে দেখা যায় একদিকে ন্যাপলা ও অন্যদিকে আগন্তুক দুজনেরই মৃত্যু ঘটে। থানার দারোগা এসে দেখে বলেন যে, একেই তো তারা খুঁজছে। সে পাগলা গারদ থেকে পালিয়ে আসা একটি পাগল। তারপর সন্ধ্যার অন্ধকার ঘনিয়ে এলে জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। ঘটনাটির সময় দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। লেখক গল্পটির নামকরণ সময়ের উপর ভিত্তি করে করেছেন। সুতরাং বলা যায় দিবা দ্বিপ্রহরে’ গল্পটির নামকরণ সার্থক ও যুক্তিসঙ্গত।
প্রশ্ন ৪। ছোটগল্প কাকে বলে? ছোটগল্প হিসাবে ‘দিবা দ্বিপ্রহরে’ গল্পটির সার্থকতা বিচার করো।
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কাব্যগ্রন্থের ‘বর্ষাযাপন’ কবিতায় ছোটগল্প সম্পর্কে বলেছিলেন-
“ছোট প্রাণ, ছোট ব্যথা ছোট ছোট দুঃখ কথা
নিতান্তই সহজ সরল
সহস্র বিস্মৃতি রাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি
তারি দু-চারিটি অশ্রু জলে।
নাই বৰ্ণছটা ঘটনার ঘনঘটা
নাহি তত্ত্ব, নাহি উপদেশ
অন্তরে অতৃপ্তি সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হল না শেষ।”
রবীন্দ্রনাথের মতে, ছোটগল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য শেষ হয়েও যেন শেষ হয় না। ছোটগল্প পড়ে মনের মধ্যে একটি অতৃপ্তি থেকে যায়। গল্পের বিষয়বস্তুকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলবার জন্য যতটুকু ঘটনা ও চরিত্রের প্রয়োজন হয় ততটুকুই গল্পের মধ্যে থাকে। এছাড়াও ছোটগল্পের ভাষা হয় অত্যন্ত সহজ-সরল। ছোটগল্পের এ সব বৈশিষ্ট্যের নিরিখে বলাইচাঁদের ‘দিবা দ্বিপ্রহরে’ গল্পটির সার্থকতা বিচার করা প্রয়োজন।
‘দিবা দ্বিপ্রহরে’ গল্পটির বিষয়বস্তু একমুখী। গল্পে দেখা যায় হারু ঘোষের মেজ ছেলে ন্যাপলাকে বিষধর গোখরা কামড় মেরে ইঁটের গাদার ভেতরে লুকিয়ে পড়ে। দুপুরের প্রখর রৌদ্রে বিশেষ কোনো কাজ না থাকলে যেখানে মানুষ বেরোতে চায় না সে জায়গায় গ্রামের মানুষ সাপটিকে দেখার জন্য ভিড় করে আছে। বিশু বাগদী নামে গ্রামের এক সাহসী যুবক সাপটির লেজে বল্লমবিদ্ধ করে ইঁটের গাদার ভেতর থেকে বের করে আনে। বল্লমবিদ্ধ সাপটি ফণা তুলে তর্জন-গর্জন করছে, তা দেখবার মতো দৃশ্য। সে সময় আগন্তুকের আগমন ঘটে। তাকে গ্রামবাসী মস্ত গুণী ওঝা মনে করে। তাঁর কথামতো গ্রামবাসী দ্বারা ন্যাপলার ডাক্তারের দেওয়া বাঁধন খোলা হয় ও বল্লম মুক্ত করে দেওয়া হয় সাপটিকে। তারপর সাপটিকে আগন্তুক ডান-বাম হাতে নিলে সাপের দংশনে তার মৃত্যু হয়। পরে দেখা যায় হারু ঘোষের পুত্র ন্যাপলা ও আগন্তুকের মৃতদেহ একসঙ্গে পড়ে আছে।
দারোগা’ এসে আগন্তুকের মুখ নিরীক্ষণ করে বলে যে, একেই তো তারা খুঁজছে। সে পাগলা গারদ থেকে পালিয়ে এসেছে। তখন এ কথা শুনে বিশু বাগদী বলল, এখানে সবাই পাগল। সবাইকে পাগলা গারদে পুরে দেওয়া উচিত। তারপর দেখা যায় সন্ধ্যার অন্ধকার ঘনিয়ে এলে জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এখানেই গল্পের সমাপ্তি ঘটে। গল্পটি পাঠের পর পাঠকের মনে অতৃপ্ত ভাব থেকে যায়। মনে হয় গল্পটির পরিধি আরেকটু প্রসারিত হলে ভালো হত।
সুতরাং বলা যায় গল্পে সহজ-সরল ভাষার ব্যবহার, বিষয়বস্তুর একমুখীনতা, চরিত্র ও বিষয়ের মেলবন্ধন, পরিশেষে ‘শেষ হয়েও হল না শেষ’ অর্থাৎ পাঠক মনের অতৃপ্ত ভাব এ সব কিছুর দিকে লক্ষ্য রেখে বলা যায় বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ‘দিবা দ্বিপ্রহরে’ গল্পটি নিঃসন্দেহে একটি সার্থক ছোটগল্প।

YouTube Channel