Class 12 Advance Bengali Chapter 10 সাহিত্যে খেলা Question Answers As Per the New Syllabus. Students can easily browse the chapter-wise list to find the required questions and answers for Class 12 Advance Bengali Chapter 10 সাহিত্যে খেলা Notes. Here, you can also access HS 2nd Year Advance Bengali Solutions. You can also Download PDF for offline study.
Class 12 Advance Bengali Chapter 10 সাহিত্যে খেলা
AHSEC Class 12 Advance Bengali Notes are useful for revision and exam preparation. Students can explore the HS 2nd Year Advance Bengali Solutions for all chapters to understand important topics, strengthen their knowledge, and prepare confidently for their final examinations.
সাহিত্যে খেলা
| TEXTUAL QUESTION ANSWER |
প্রশ্ন ১। লেখক প্রমথ চৌধুরীর ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধটির মূল বিষয়বস্তু তোমার নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তরঃ যিনি যথার্থ শিল্পী তিনি শিব অর্থাৎ সৌন্দর্য যেমন গড়তে পারেন তেমনি বাঁদির অর্থাৎ ইতর কিছুও গড়তে পারেন। বড়-বড় শিল্পীদের সঙ্গে ছোট শিল্পীদের পার্থক্য এইটুকু যে, তাঁদের হাতে এক করতে আর এক হয় না, যা ছোট শিল্পীদের ক্ষেত্রে ঘটে। আমরা দেখি, শিল্প সাহিত্য জগতে খেলা করার সকলের অধিকার রয়েছে। এ কথা বললে অত্যুক্তি হবে না, শিল্প বা সাহিত্যের জগতে একমাত্র ব্রাহ্মণ-শূদ্রের প্রভেদ নেই, ধনী-গরীব, উঁচু-নিচু সকলের জন্য প্রবেশদ্বার মুক্ত।
সাহিত্য যারা রচনা করেন সেই লেখকরা দশের কাছে হাততালির প্রত্যাশা রাখেন, বাহবা না পেলে মনঃক্ষুণ্ণ হন। কারণ, তাঁরা হচ্ছেন যথার্থ সামাজিক জীব। বিশ্বমানবের মনের সঙ্গে নিত্যনূতন সম্বন্ধ পাতানোই হচ্ছে কবি বা লেখকের নিত্য নৈমিত্তিক কর্ম। কবি আপন মনে লুক্কায়িত কথাগুলি গীত ও কবিতার মাধ্যমে হাজার লোকের কাছে পৌঁছে দেয়, যা কানের ভিতর দিয়ে মরমে প্রবেশ করে।
মানুষের দেহমনের সকলপ্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ, তা উদ্দেশ্যহীন। মানুষ যখন খেলা করে, তখন সে আনন্দ ছাড়া অন্যকিছুর আশা রাখে না। কিন্তু যে খেলার ভেতর আনন্দ নেই, কিন্তু উপরি পাওনার আশা আছে তার নাম জুয়াখেলা। এ ব্যাপার সাহিত্যে চলে না। কারণ ধর্মমতে, জুয়াখেলা লক্ষ্মীপূজার অঙ্গ, সরস্বতী পূজার নয়। সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া কারো মনোরঞ্জন করা নয়। সাহিত্য যদি ব্যক্তি বা সমাজের মনোরঞ্জনের ভূমিকা নেয় তবে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে থাকে। শিক্ষা ও সাহিত্যের কর্ম এক নয়। কারণ শিক্ষা লোকে অনিচ্ছাসত্বে গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়। অপরপক্ষে লোকে সাহিত্যের রসকে স্বেচ্ছায় নয়, সানন্দে পান করে। শিক্ষকের হাতে শিক্ষা অপরের মনের অভাব পূর্ণ করবার উদ্দেশ্যে জন্মলাভ করেছে। আর সাহিত্যের উৎপত্তি ঘটে কবির নিজের মনের পরিপূর্ণতা থেকে। সাহিত্য-বস্তু হল জ্ঞান-অনুভূতি সাপেক্ষ। তর্ক সাপেক্ষ নয়। সাহিত্য ছেলের হাতের খেলনাও নয়, গুরুর হাতের বেতও নয়। সাহিত্যে মানবাত্মা খেলা করে এবং সে-ই খেলার আনন্দ উপভোগ করে।
প্রশ্ন ২। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধটির মধ্যদিয়ে লেখক প্রমথ চৌধুরী সাহিত্য সম্বন্ধে যে ধারণাটি তুলে ধরেছেন তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া অর্থাৎ খেলা শ্রেষ্ঠ। কারণ খেলার মধ্যে কোনো স্বার্থ বা উদ্দেশ্য থাকে না। মানুষ আনন্দ পাওয়ার জন্য খেলা করে। কিন্তু যে খেলা থেকে কিছু পাওয়ার থেকে যায় তাকে বলে জুয়া খেলা। এ ব্যাপার সাহিত্যে দেখা যায় না। কারণ ধর্মমতে, লক্ষ্মী পূজার অঙ্গ জুয়া খেলা, সরস্বতী পূজার নয়। সাহিত্যের রস আস্বাদন করার সকলের সমান অধিকার রয়েছে। এ পৃথিবীতে একমাত্র সাহিত্য জগতে খেলার জন্য ব্রাহ্মণ-শূদ্রের মধ্যে কোনো প্রভেদ নেই। সেখানে ধনী-গরীব, উঁচু-নিচু সকলের জন্য প্রবেশের অধিকার আছে। সকলেই শিল্প সাহিত্য জগতে আপন প্রতিভার পরিচয় দিতে পারেন।
সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দ দান করা শিক্ষা দান করা নয়। শিক্ষকের হাতে শিক্ষা অপরের মনের অভাব পূর্ণ করবার উদ্দেশ্যে জন্মলাভ করেছে। আর সাহিত্যের উৎপত্তি ঘটে কবির নিজের মনের পরিপূর্ণতা থেকে। সাহিত্য-বস্তু হল জ্ঞান অনুভূতি সাপেক্ষ, তর্ক সাপেক্ষ নয়। সাহিত্য ছেলের হাতের খেলনাও নয়, গুরুর হাতের বেতও নয়। সাহিত্যে মানবাত্মা খেলা করে এবং সে-ই খেলায় আনন্দ উপভোগ করে।
প্রশ্ন ৩। ‘সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দ দান করা- শিক্ষা দান করা নয়।’- উক্তিটির যাথার্থ নিরূপণ করো।
উত্তরঃ প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে শিক্ষা ও সাহিত্যের ধর্ম-কর্ম যে এক নয় তা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন কবির মতিগতি শিক্ষকের মতিগতির সম্পূর্ণ বিপরীত। তাই শিক্ষা ও সাহিত্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য। এই পার্থক্যকে লেখক স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। প্রথমতঃ শিক্ষা হল সেই বস্তু, যা লোকে নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও গিলতে চায়, অন্যদিকে কাব্যরস লোকে শুধু স্বেচ্ছায় নয় সানন্দে গ্রহণ করে। দ্বিতীয়তঃ শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো মানুষের মনকে বিশ্বের খবর জানানো আর সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো। তৃতীয়তঃ অপরের মনের অভাব পূরণের জন্য শিক্ষকের হস্তে শিক্ষা জন্মলাভ করেছে কিন্তু কবির নিজের মনের পরিপূর্ণতা হতেই সাহিত্যের উৎপত্তি।
টীকা লেখো:
ভাস্কর রোড্যা: ভাস্কর রোড্যাঁ- তাঁর সম্পূর্ণ নাম Francois Auguste Rodin। জগদ-বিখ্যাত ফরাসী ভাস্কর রোড্যার ১৮৪০ সনে প্যারিসের এক অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্ম হয়। প্যারিসের এক বিখ্যাত চারুকলার স্কুল Petite Ecole-এ ১৪ বছর বয়সে তাঁর শিল্পকলা শিক্ষার শুরু হয়। তারপর তিনি বিখ্যাত ভাস্কর Antoine Louis Barye- এর অধীনে কিছুদিন ভাস্কর্য শিক্ষা করেন। ২৪ বছর বয়সে প্যারিসবাসীরে তিনি চমক দেন তাঁর বিখ্যাত ভাস্কর্যমূর্ত্তি ‘Man with a Broken Nose’ -এর দ্বারা। জীবনে বহু সমালোচনার সম্মুখীন তাঁকে হতে হয়েছিল। জীবনে বহু প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে শেষপর্য্যন্ত তিনি নিজেকে পৃথিবীর অন্যতম ভাস্কররূপে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন।
বিদ্যাসুন্দর কাব্য: বিদ্যাসুন্দর কাব্য- বিদ্যাসুন্দর কাব্যের যুগান্তকারী কবি ভারতচন্দ্র রায়
এণাকর। বিদ্যাসুন্দরের কাহিনী বা কালিকামঙ্গল ভারতচন্দ্রের রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যের একটি অংশ মাত্র। এটি একটি আদি রসাত্মক কাব্য। এটি লোকজীবন আশ্রয়ী রোমান্টিক প্রেমের চাতুর্য কাহিনী। রাজকুমারী বিদ্যার সঙ্গে রাজকুমার সুন্দরের গোপন প্রণয়, বিদ্যার পিতা কর্তৃক সুন্দরের প্রাণদণ্ড, কালিকার কৃপায় সুন্দরের প্রাণরক্ষা ও বিদ্যাসুন্দরের বিবাহ এর উপজীব্য।
কিণ্ডারগার্টেন: কিন্ডারগার্টেন- Friedrich Froebel জার্মানে ১৮৩৫ সালে প্রথম
কিন্ডারগার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠিত করেন। এটি একটি শিশুদের স্কুল। এখানে খেলার মাধ্যমে শিশুদের পড়ানো হয়। এখানে শিশুদের যথেষ্ট মানসিক স্বাধীনতা দেওয়া হয়। এই স্কুলে শিশুদের বয়স সাধারণত আড়াই থেকে পাঁচের মধ্যে থাকে। ১৮৫০ থেকে ১৮৬০-এর মধ্যে এই শিক্ষা ব্যবস্থা আমেরিকায় চালু হয়। পরে ধীরে ধীরে পৃথিবীর প্রায় সমস্ত দেশেই এই শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার দেখতে পাওয়া যায়।
কুশীলব: যাচক; নট, কবি।
কৌপীন: চীরবসন।

YouTube Channel