Class 12 Advance Bengali Chapter 4 আমার কৈফিয়ৎ Question Answers As Per the New Syllabus. Students can easily browse the chapter-wise list to find the required questions and answers for Class 12 Advance Bengali Chapter 4 আমার কৈফিয়ৎ Notes. Here, you can also access HS 2nd Year Advance Bengali Solutions. You can also Download PDF for offline study.
Class 12 Advance Bengali Chapter 4 আমার কৈফিয়ৎ
AHSEC Class 12 Advance Bengali Notes are useful for revision and exam preparation. Students can explore the HS 2nd Year Advance Bengali Solutions for all chapters to understand important topics, strengthen their knowledge, and prepare confidently for their final examinations.
আমার কৈফিয়ৎ
| TEXTUAL QUESTION ANSWER |
প্রশ্ন ১। ‘‘আমার কৈফিয়ৎ’ কবিতার নামকরণের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ পৃথিবীতে সকল বস্তুরই নামকরণ করা হয়। সাহিত্যেও লেখক বা কবি সাহিত্যিকরা তাদের সৃষ্টির বিভিন্ন নামকরণ করে থাকেন। আর এই নামকরণ করা হয় প্রধান চরিত্রের নামানুসারে, প্রসঙ্গের নাম বা বিষয়বস্তুর উপর ভিত্তি করে। ‘আমার কৈফিয়ৎ’ কবিতার নামকরণ প্রসঙ্গের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।
আমার কৈফিয়ৎ কবিতাটিতে কবি তাঁর জীবনের বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন ঘটনার কথা বর্ণনা করেছেন। এই হিসেবে এটি একটি আত্মবিশ্লেষণাত্মক রচনা। কবির এই কবিতাটি একটি স্বতন্ত্র ব্যতিক্রমী সৃষ্টি। এর মধ্যে কবি অকপটে নিজের কবি জীবনের ও ব্যক্তিগত জীবনের বিবিধ বিষয় বর্ণনা করেছেন। বন্ধুরা তাঁর সম্পর্কে যে মতামত দিতেন ও মন্তব্য করতেন, সে সম্বন্ধেও তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এই প্রতিক্রিয়াকেই তিনি ‘কৈফিয়ৎ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
‘কৈফিয়ৎ’ শব্দের সাধারণ অর্থ ‘জবাবদিহি’। এখানে কবি অনেকটা তাঁর জীবনের বিভিন্ন কৃতকর্মের জন্য একটা জবাবদিহি করেছেন। এই জবাবদিহি কখনও বেদনার, কখনও ব্যঙ্গ, কখনও প্রতিবাদে, কখনও ধিক্কারে উত্তাল। এই কৈফিয়ৎ প্রসঙ্গে সমকালীন বন্ধু-বান্ধবের কথা যাদের সহজেই চেনা যায়, এসেছে রাজনীতিবিদ ও রাজনীতির কথা। রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য সাহিত্যিক প্রসঙ্গ এই কৈফিয়তের অঙ্গীভূত। কবির প্রেম বিবাহ প্রসঙ্গে তাঁর আত্মকথন এই কবিতাতেই প্রকাশিত। সর্বশেষে প্রকাশিত হয়েছে কবির এই উদ্ধত ঘোষণা – ‘পরোয়া করি না, বাঁচি না বাঁচি’ – যা বাংলা ভাষায় প্রবাদ প্রবচনে পরিণত।
‘আমার কৈফিয়ৎ’ কবিতার সর্বত্রই কবির কৈফিয়তের সুর ধ্বনিত। কবিতার প্রথম দিকে নিজের সম্পর্ক নিয়ে তিনি মজা করেছেন। ‘আমার কৈফিয়ৎ’ কবিতাটি আত্মসমালোচনামূলক কবিতা। নানা সমালোচনার কৈফিয়ত দিয়েছেন দীপ্ত ভঙ্গিতে। সেই হিসেবে কবিতাটির নামকরণ সম্পূর্ণ সার্থক হয়েছে।
প্রশ্ন ২। “আমার কৈফিয়ৎ’ কবিতায় নজরুল ইসলাম তাঁর রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে যে কৈফিয়ৎ দিয়েছিলেন, তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ কবি নজরুল ইসলাম সাম্যবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। মানুষের অন্তরে তিনি ঈশ্বরের দর্শন পেয়েছিলেন। তিনি কোনো রাজনৈতিক মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন না। নজরুল যখন সাহিত্যে বিচরণ করতে আরম্ভ করেন তখন দেশজুড়ে জাতীয় কংগ্রেসের ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন চলছিল। তখন কিছু রাজনৈতিক নেতারা আপন স্বার্থসিদ্ধির জন্য সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে স্বরাজের নামে চাঁদা আদায় করছিল। কিন্তু সে চাঁদা কতটুকু স্বরাজের কাজে লেগেছে তা বলা দুঃসাধ্য। সে সময় সাধারণ মানুষের দারিদ্র্য, অনাহারে দিনযাপন করতে হচ্ছিল। কোনো-কোনো রাজনৈতিক নেতারা আপন স্বার্থের জন্য সাধারণ মানুষকে বিপথে চালনা করে। কবি স্বরাজে এরূপ দৃশ্য দেখে বিদ্রূপ করেছেন। তিনি ছোট-ছোট ছেলে-মেয়েদের অনাহারে কাঁদতে দেখেছেন। এর ফলে তাঁর স্বরাজের নেশা চলে যায়। স্বরাজের আশায় সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক নেতাদের হাতে তাদের শেষ সম্বলটুকু দান করে দেয়। কিন্তু সেই রাজনৈতিক নেতারা তাদের অভাব-অনটনে একবারও সহযোগিতার হাতে এগিয়ে দেয় না। নজরুল সেই স্বার্থপর ও সুযোগ সন্ধানী নেতাদের আলোচ্য কবিতায় ব্যঙ্গ, বিদ্রূপ ও নিন্দা করেছেন।
প্রশ্ন ৩। ‘আমার কৈফিয়ৎ’ কবিতায় সাধারণ দরিদ্র মানুষের প্রতি কবির যে সহানুভূতি ও দরদের পরিচয় প্রকাশিত হয়েছে তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ কবি নজরুল ইসলাম ছিলেন মানবতাবাদে বিশ্বাসী কবি। তাঁর কবিতাতে দরিদ্র মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও দরদের পরিচয় পাওয়া যায়৷ নজরুল আলোচ্য কবিতায় সর্বস্তরের নিপীড়িত মানুষের যন্ত্রণাকে তুলে ধরেছেন এবং সামাজিক শোষণের বিরুদ্ধেও তিনি প্রতিবাদ করে গেছেন। নজরুল তথা কথিত রাজনৈতিক নেতা যারা জনসভায় বক্তৃতা দান করেন তাদেরকে ব্যঙ্গ করে পকেটে লঙ্কা গুড়া রাখতে বলেছেন। যাতে দরিদ্র মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা বলে চোখে লঙ্কার গুড়ো দিয়ে জল আনতে পারেন। কবি জানেন সর্বহারা মানুষের জন্য একান্না মায়াকান্না ছাড়া আর কিছু নয়। এই নেতাদের উদ্দেশ্য নিজেদের পকেট ভারি করা।
চাঁদা তুলে স্বরাজ আসবে এই মিথ্যাচারে কবি বিশ্বাসী নন। দেশের দরিদ্র জনসাধারণ সন্তানের ক্ষুধার অন্ন চাঁদা হিসেবে তুলে দিয়েছে। ক্ষুধার্ত শিশুর কান্নায় ভরে গেছে আকাশ-বাতাস। মৃত শিশুকে ঘরে রেখে মা তার সৎকারের জন্য ভিক্ষায় বেরিয়েছে। এসব নির্মম দৃশ্য দেখে কবি অস্থির হয়ে পড়েছেন। তাই তার কলমে প্রকাশিত হয়েছে – ‘প্রার্থনা করো যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটির মুখের গ্রাস। যেন লেখা হয় আমার রক্ত লেখায় তাদের সর্বনাশ।
শব্দার্থ ও টীকা:
নবী – ঈশ্বর প্রেরিত পুরুষ। বিভিন্ন ধর্মে ঈশ্বর প্রেরিত পুরুষগণ যুগে যুগে আবির্ভূত হয়েছেন। তারা এসে মানুষের মধ্যে ধর্ম ও কল্যাণের মহান বাণী প্রচার করেছেন। ইসলাম ধর্মে এরকম অনেক ‘নবী’ আবির্ভূত হয়েছিলেন। হজরত মহম্মদকে শেষ ‘নবী’ বলা হয়।
যবন – হিন্দুরা মুসলমানকে ‘যবন’ নামে আখ্যাত করে।
কাফেব – মুসলমানরা হিন্দুদের ‘কাফের’ অর্থাৎ বিধর্মী বলে উল্লেখ করে।
মৌ – লোভী-মধু লোভী।
মৌলবী – মুসলমান শিক্ষাগুরু।
মোল্লারা – মুসলমান ধর্ম প্রবক্তা।
ফতোয়া – নির্দেশ।
‘আমপারা’ – কোরাণসরিফের বিভিন্ন অংশ।
অঙ্কুশি – প্রতিপক্ষ।
বার্তাকু – বেগুন।

YouTube Channel