Class 12 Advance Bengali Chapter 5 মেরুর ডাক Question Answers As Per the New Syllabus. Students can easily browse the chapter-wise list to find the required questions and answers for Class 12 Advance Bengali Chapter 5 মেরুর ডাক Notes. Here, you can also access HS 2nd Year Advance Bengali Solutions. You can also Download PDF for offline study.
Class 12 Advance Bengali Chapter 5 মেরুর ডাক
AHSEC Class 12 Advance Bengali Notes are useful for revision and exam preparation. Students can explore the HS 2nd Year Advance Bengali Solutions for all chapters to understand important topics, strengthen their knowledge, and prepare confidently for their final examinations.
মেরুর ডাক
| TEXTUAL QUESTION ANSWER |
প্রশ্ন ১। ‘মেরুর ডাক’ কবিতাটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তরঃ সাহিত্যে নামকরণ এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই নামকরণ কোন বস্তুর বা. ব্যক্তির পরিচয়ের মাধ্যম হয়। সাহিত্যে শিল্পীরা গল্প, উপন্যাস, নাটক, কবিতা ইত্যাদির নামকরণ করে থাকেন। এই নামকরণ হয়ে থাকে প্রধান চরিত্রের নামানুসারে, কাহিনী বৃত্তের উপর নির্ভর করে। কবি প্রমথনাথ বিশী কবিতাটির নামকরণ বিষয়ের ওপর, ভিত্তি করে করেছেন। কবি বাস্তব জগতে উত্তর মেরু ভ্রমণ করেননি। তিনি কল্পনার মধ্যে সে কাজ করেন। কবি কল্পনা তুষারাবৃত উত্তরমেরু তাঁকে মেরু অভিযানে ডাকছে। কবি জানেন সেখানে নানা ধরনের বিপদ রয়েছে, প্রাণ নাশের আশঙ্কা আছে, তা সত্ত্বেও তার ডাক শুনে কীভাবে ঘরের চার দেওয়ালে নিজেকে গুটিয়ে রাখেন। কবি কল্পনায় দেখছেন হিমের বাতাসে অভিযান তরী মরণ সাদা পাল তুলেছে। রিক্ত শাখার মাস্ত্তলে জাহাজগুলি ডাকছে। বাতাসের গতি এত প্রবল তা যেন দ্রুতগতি সম্পন্ন ঘোড়ার তীক্ষ্ণ হ্রেষার সমতুল্য। প্রবল বাতাসের বেগে অভিযাত্রীর টানানো তাঁবুর কানাৎ উড়ছে। খাদ্যের পুঁজি শেষ হয়ে যাচ্ছে। এরূপ পরিস্থিতে কবির মনে হচ্ছে মৃত্যু বুঝি মুচকি হাসে।
কবি শেষপর্যন্ত কল্পনার জগত ছেড়ে বাস্তবের জগতে এসে বলছেন, তুষার মেরু দেখার জন্য তার মন ছটফট করছে। আর পৃথিবীর কোমল বাহু ভালো লাগছে না কবির। তিনি বাস্তবে মেরু অভিযানে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। সুতরাং কবিতাটির বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে বলা যায় কবিতাটির নামকরণ সার্থক ও যথাযথ।
প্রশ্ন ২। ‘মেরুর ডাক’ কবিতাটিতে মেরুর হাতছানিতে কবি যেভাবে উতলা হয়েছেন তার পরিচয় দাও।
উত্তরঃ পৃথিবীর একেবারে উত্তর প্রান্তে উত্তর মেরু অবস্থিত। শীতলতম পৃথিবীর এই অংশে জীবনধারণ করা অসম্ভব। ভ্রমণ পিপাসু, দুঃসাহসিক অভিযান প্রিয় কবি গ্রীষ্মপ্রধান বাংলাদেশ থেকে এই উত্তর মেরুর ডাক শুনতে পান। এই ডাক তাঁর কাছে বারবার আসে কেননা তিনি এই মেরুকে ভালোবাসেন। মেরুর এইবারের ডাক কবি আর উপেক্ষা করতে পারেন না।
নিসর্গ প্রেমী কবি পৃথিবীর উত্তর মেরুর তুষারময় প্রকৃতিকে স্বচক্ষে দেখতে চান। কল্পনার চোখে কবি সেখানকার পরিবেশটি লক্ষ্য করেছেন। অভিযানে বেরিয়ে কবির অবস্থা বড়ই শোচনীয়। ঝড়ে তাঁর তাবু উড়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে, তার খাবার ফুরিয়ে এসেছে, তার পোষাক জীর্ণ হয়ে গেছে মৃত্যু তার সামনে এসে হাজির তবু তিনি বিন্দুমাত্র ভীত নন। তিনি মেরুর জয়গানও গেয়েছেন। কল্পনার মধ্যে দেখেছেন সেখানে সিন্ধুঘোটক বিশাল দাঁত দিয়ে তুষার মাটি খুড়ে খায়, পেঙ্গুইন পাখির জল ডানার বরফ ঝাপটে উড়ে যায়। সেখানে এক নিস্তব্ধ পরিবেশে মনে হয় কেউ যেন বসে শব সাধনা করছে দিন রাত ধরে। কবি এই পরিবেশ পছন্দ করছেন। তাঁর নৌকার কাছি এবার তীরে বাঁধা থাকতে চাইছে না। তীরের কাছ থেকে মুক্তি চাইছে। মেরুর ডাকে তাঁর যদি মৃত্যুও হয় তথাপি তিনি পিছপা হবেন না। কোনো ভয়কেই তিনি আর ভয় মনে করেন না।
প্রশ্ন ৩। ‘মেরুর ডাক’ কবিতাটির বিষয়বস্তু সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তরঃ অভিযাত্রী মানস কবিকে উত্তরের তুষার মেরু বার বার ডাকছে। কবি সেই ডাকে বিপদ যেনেও ঘরের চার দেওয়ালে থাকতে রাজি নন। কবি কল্পনায় দেখছেন হিমের বাতাসে মরণ অভিযানতরী মরণ সাদা পাল তুলছে। রিক্ত শাখার মাস্তুলে জাহাজগুলি ডাকছে। বাতাসের গতি এত প্রবল তা যেন দ্রুত গতি সম্পন্ন ঘোড়ার তীক্ষ্ণ হ্রেষার সমতুল্য। প্রবল বাতাসের বেগে অভিযাত্রীর টাঙানো তাঁবুর কানাৎ উড়ছে। খাদ্যের পুঁজি শেষ হয়ে আসছে কাপড়গুলি টুটে ফেটে গেছে। মৃত্যু মুচকি হাসছে। সেজন্য কি বিষুবরেখায় পড়ে থাকবেন। কবির যদি এখন কিছু হয় তবে মেরুর জয় করার যে তার প্রবল ইচ্ছা, তা ব্যর্থ হয়ে যাবে।
মেরু অঞ্চলে চারিদিকে থাকা সবুজের আভাকে আবৃত করে আছে তুষাররাশি। মেরু অঞ্চলের প্রাণী সিন্ধুঘোটক তার বিশাল দাঁত দিয়ে তুষারমৃত্তিকা কুড়ে খায়। পেঙ্গুইনের ডানা থাকা সত্ত্বেও উড়তে পারে না। পেঙ্গুইন ডানা ঝাপটে দুই পায়ে ভর দিয়ে বিজ্ঞের মতো তাকায়। দিনের শেষে চারিদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। হাজার তারায় মেরুর আকাশ ভরে ওঠে। হঠাৎ-হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকে ওঠছে। মনে হচ্ছে এখানে শব সাধনা চলছে। কান পেতে শুনলেই আবার মেরুর ডাক শোনা যায়। কবি বলছেন, তাকে যেন কেউ না আটকায়। তিনি মৃত্যুর প্রতীক মরণ শাদা পাল তুলে নৌকা যাত্রা শুরু করবেন। তাঁর আর পৃথিবীর কোমল বাহু ভালো লাগছে না। তিনি মেরু অভিযানে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন।
শব্দার্থ ও টীকা:
মেরু – সুমেরু পর্বত, হিমালয়, ভূমণ্ডলের উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্ত।
মাস্তুল – নৌকাদির পাইল দণ্ড।
নিদাঘ – গ্রীষ্মকাল।

YouTube Channel