Class 12 Advance Bengali Chapter 8 ভালবাসার অত্যাচার

Class 12 Advance Bengali Chapter 8 ভালবাসার অত্যাচার Question Answers As Per the New Syllabus. Students can easily browse the chapter-wise list to find the required questions and answers for Class 12 Advance Bengali Chapter 8 ভালবাসার অত্যাচার Notes. Here, you can also access HS 2nd Year Advance Bengali Solutions. You can also Download PDF for offline study.

WhatsApp Channel
Join Now
YouTube Channel
Subscribe

Class 12 Advance Bengali Chapter 8 ভালবাসার অত্যাচার

AHSEC Class 12 Advance Bengali Notes are useful for revision and exam preparation. Students can explore the HS 2nd Year Advance Bengali Solutions for all chapters to understand important topics, strengthen their knowledge, and prepare confidently for their final examinations.

TEXTUAL QUESTION ANSWER

প্রশ্ন ১। ভালবাসার অত্যাচার কীভাবে হয়? বঙ্কিমচন্দ্রের নিবন্ধ অনুসারে আলোচনা করো।

উত্তরঃ মানুষ চিরকাল কোনো না কোনো ভাবে অত্যাচারিত হয়। এগুলি হল বাহুবলের, ধর্মের, সমাজের এবং ভালবাসার। মানুষ সবচাইতে বেশি যে অত্যাচারে অত্যাচারিত হয় সেটি হল ভালবাসার অত্যাচার। এই অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন।

পিতা, মাতা, ভ্রাতা, ভগিনী, পুত্র, কন্যা, স্বামী প্রভৃতি যে-ই ভালবাসে সে-ই অত্যাচার করে। যেমন – পুত্র সুন্দরী, সুলক্ষণা, সদবংশজাত সচ্চরিত্র মেয়েকে বিয়ে করবে এমন অনেক পুত্রকে পিতার ইচ্ছায় কালকূট রূপিনী ধনী পাত্রী বিবাহ করে অশান্তির মধ্যে পড়তে হয়। এখানে পুত্রের উপর পিতার অত্যাচার।

দূর দেশে গিয়ে অর্থোপার্জ্জন করে দারিদ্র দূর করতে ইচ্ছুক এমন পুত্রকে মায়ের ইচ্ছায় গৃহ থেকে দারিদ্র রূপ কষ্ট পেতে হয়। এটি পুত্রের প্রতি মায়ের অত্যাচার।

অপদার্থ ভ্রাতা পরিশ্রমী কৃতী ভ্রাতার উপার্জিত অর্থ ধ্বংস করে এটি ভ্রাতার উপর ভ্রাতার অত্যাচার। সুতরাং বলা যায় যে-ই ভালবাসে সে-ই অত্যাচার করে।

প্রশ্ন ২। বঙ্কিমচন্দ্র ভালবাসার অত্যাচারের যে বিভিন্ন পর্যায় ভাগ করেছেন তা আলোচনা করো।

উত্তরঃ বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রবন্ধে বলেছেন – মানুষের জীবন ভালবাসার অত্যাচারে পরিপূর্ণ। মানুষ চিরকাল কোনো না কোনোভাবে অত্যাচারের সম্মুখীন হয়। যেমন সৃষ্টির আদিতে বাহুবলের অত্যাচারের শিকার। সভ্য হবার পূর্বে মানুষের সমাজে যে বলবান ছিল সেই দুর্বলের উপর অত্যাচার করত। কালের পরিবর্তনে সেই অত্যাচার রাজা তথা শাসক এবং অর্থের অত্যাচারে পরিণত হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে মানুষের জীবনে নেমে আসে ধর্মের অত্যাচার। ধর্ম মানুষকে সুস্থির জীবন দান করবার উদ্দেশ্যেই নির্মিত অথচ কখনো কখনো মানুষের উপরে অত্যাচার চালায়। তৃতীয় পর্যায়ে আমরা নানা সামাজিক অত্যাচারের সম্মুখীন হই। সমাজ ও মানুষের জন্যই স-ষ্টি, মানুষের উপর তার দায়বদ্ধতাও অনেক অথচ সময়ে অসময়ে সে মানুষের ওপর অত্যাচার করে। এই সকল পর্যায়ের মধ্যে এক সাধারণ অত্যাচার মানুষ জন্মাবধি পেয়ে আসছে তা হলো ভালোবাসার অত্যাচার।

প্রশ্ন ৩। ভালবাসার অত্যাচার নিবারণ সম্পর্কে লেখক কী বলেছেন?

উত্তরঃ মানুষ চিরকাল ভালবাসার অত্যাচারে পাড়িত।

লেখকের মতে দুটি উপায়ে ভালবাসার অত্যাচার নিবারণ করা যায়। প্রথমতঃ ভালোবাসার দ্বারা ভালোবাসার অত্যাচার নিবারণ – এক্ষেত্রে ভালোবাসাকে নিঃস্বার্থ হতে হবে। কারণ ভালবাসার স্বরূপই হলো অস্বার্থপরতা। যে মা তার ছেলের সুখের কামনায় ছেলের মুখ দেখার কামনাকে ত্যাগ করতে পারেন তিনিই যথার্থ স্নেহবতী। যে প্রেমিকা প্রেমিকের মঙ্গলের জন্য নিজের প্রেমের সুখ ভোগ ত্যাগ করতে পারে সেই যথার্থ প্রেমিকা।

দ্বিতীয়তঃ ধর্মের অনুশাসনে – মনে রাখতে হবে যে ধর্মের মূল কথা হলো ‘পরের অনিষ্ট করিও না, সাধ্যানুসারে পরের মঙ্গল করিও।’ অতএব এই ধর্মনীতির মূলসূত্রগুলিকে অবলম্বন করলেই ভালোবাসার অত্যাচার নিবারণ সম্ভব। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় – যখন কোন স্নেহশীল ব্যক্তি তাঁর স্নেহের পাত্রের কাজে হাত দিতে যায় তখন তাকে মনে রাখতে হবে যে শুধুমাত্র নিজের সুখের জন্য বা খ্যাতির জন্য অন্যের অনিষ্ট সে করবে না। সেক্ষেত্রে আমার যতই কষ্ট হোক না কেন তবু কারোর খারাপ হয় এমন কাজ করব না। এই মনুষ্য ধর্মই ভালোবাসার অত্যাচারের একমাত্র নিবারক।

উদাহরণ হিসেবে এখানে আমরা রামায়ণের কথা আনতে পারি। সেখানে দেখি রাজা দশরথ রামচন্দ্রকে বনে পাঠাবার পিছনে তার যশবৃদ্ধি (খ্যাতি) লুকায়িত ছিল, কিন্তু তিনি যদি যশের প্রতি লালায়িত না হয়ে রামচন্দ্রকে বনবাসে না পাঠাতেন তাহলে তাঁর অধিক পুণ্য হত। তিনি যদি ধর্মের মূলনীতির প্রতি লক্ষ্য রাখতেন তা হলে ভালোবাসার এই অত্যাচার হতো না। সুতরাং একমাত্র ধর্মের মূল নীতি অনুসরণেই ভালোবাসার অত্যাচার দূর করা সম্ভব।

প্রশ্ন ৪। ধর্মের শাসনে ভালবাসার অত্যাচার নিবারণের যে উপায় লেখক নির্দেশ করেছেন সে সম্বন্ধে আলোচনা করো।

উত্তরঃ বঙ্কিমের মতে ধর্মনীতির মূলসূত্রটি হলো – ‘পরের অনিষ্ট করিও না, সাধ্যানুসারে পরের মঙ্গল করিও।’ অতএব এই ধর্মনীতির মূল সূত্রকে অবলম্বন করলেই ভালোবাসার অত্যাচার নিবারণ করা সম্ভব। যখন কোনো ব্যক্তি স্নেহ বা ভালোবাসার জোরে ভালোবাসার বা স্নেহের পাত্রের কোনো কাজে হাত বাড়ান তখন তাঁর মনে দৃঢ় সংকল্প থাকা উচিত যে, আমি শুধুমাত্র নিজের সুখের জন্য হস্তক্ষেপ করব না। নিজের মনে করে যাকে ভালোবাসি বা স্নেহ করি তার কোনো ক্ষতি করব না। সেক্ষেত্রে আমার যত কষ্টই হোক না কেন তবু আমি কারোর খারাপ হয় এমন কাজ করব না। এই ভাবনা, এই ভালোবাসা তথা এই মনুষ্য ধর্মই ভালোবাসার অত্যাচারের একমাত্র নিবারক।

প্রশ্ন ৫। সত্যধর্ম রক্ষা সম্বন্ধে লেখকের মতামত আলোচনা করো।

উত্তরঃ বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, যে সত্যপালনে অন্যের অনিষ্ট হয় সেই সত্য পালন করা উচিত নয়। কারণ ধর্মনীতির মূল হল, “পরের অনিষ্ট করিও না; সাধ্যানুসারে পরের মঙ্গল করিও।” রাজা দশরথ কৈকেয়ীর কথায় সত্যপালনের জন্য রামচন্দ্রকে বনবাসে পাঠিয়ে ভরতকে সিংহাসনে বসালেন তাতে সত্যপালন হলেও একথা অস্বীকার করবার উপায় নেই যে নিজের সত্যপালনের জন্য তিনি পুত্রের অধিকারকে লাঞ্ছনা করে অন্যায় অধর্ম করেছেন।

আবার যদি কোনো সতী স্ত্রী, যদি কোন কপুরুষের কাছে ধর্মত্যাগের প্রতিশ্রুতি করে কিংবা কোন বন্ধু যদি দস্যুর ভয়ে তার কোন বন্ধুকে হত্যা করতে সম্মত হয় তবে সে সকল সত্য কি পালনীয়? যেখানে সত্যপালনে ক্ষতি বেশি সেক্ষেত্রেও অনেকের মত সত্যপালনের দিকে। লেখক এ মতকে অবাস্তব মনে করেছেন। কারণ লেখকের লক্ষ্য মানুষের প্রধান ধর্মকে রক্ষা করা তা যদি সত্য ভঙ্গ করেও সম্ভব তা-ই শ্রেয়।

টীকা লেখো:

জন স্টুয়ার্ট মিল: জন স্টুয়ার্ট মিল (১৮০৬-১৮৭৩)- ফরাসী দার্শনিক কোঁতের মতাবলম্বী প্রসিদ্ধ ইংরাজ দার্শনিক। তিনি বেস্থামের প্রয়োগবাদের (utilitarianism) উন্নতি সাধন করেন। ‘প্রিন্সিপলস্ অফ পলিটিক্যাল ইকনমি’ এবং ‘এসে অন্ লিবার্টি’ তাঁর রচিত গ্রন্থগুলির মধ্যে বিশেষ প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।

কৈকেয়ী: অযোধ্যার রাজা দশরথের দ্বিতীয়া স্ত্রী। দশরথ একে দুটি বর দিতে প্রতিশ্রুত হয়েছিলেন। কৈকেয়ী একটি বরে নিজপুত্র ভরতের রাজ্যাভিষেক এবং দ্বিতীয় বরে রামের চতুর্দশ বৎসরের জন্য বনবাস প্রার্থনা করেছিলেন।

দশরথ: অযোধ্যার রাজা। তাঁর তিন পত্নী ছিল- কৌশল্যা, কৈকেয়ী ও সুমিত্রা। তাঁর চার পুত্র ছিল- রাম, লক্ষণ, ভরত ও শত্রুঘ্ন।

হিতবাদ: যে কাজ সবচেয়ে বেশীসংখ্যক লোকের সবচেয়ে বেশী মঙ্গল আনে সেই মতবাদ। জেরেমি বেস্থাম এই মতবাদের প্রবর্তক ছিলেন। ইংরাজীতে এই নীতিকে বলা হয় utilitarianism।

প্রত্যক্ষবাদ: প্রত্যক্ষবাদ একটি মতবাদ। যার মূলকথা হল যা সরাসরি চোখে দেখা যায় তা সত্য। প্রত্যক্ষবাদে নির্ভর হলে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে যায়। এটি জড়বাদ নামেও পরিচিত। ভারতীয় দর্শন শাস্ত্রে প্রত্যক্ষবাদের প্রধান প্রচারক ছিলেন মহামুনি চার্বাক।

স্বানুবর্তিতা: পরের অনিষ্ট ঘটলেই এটি স্বেচ্ছাচারিতা, পরের অনিষ্ট না ঘটলে এটি স্বানুবর্তিতা। স্বানুবর্তিতা শব্দের অর্থ স্ব+ অনুবর্তিতা অর্থাৎ স্বাধীনতা। কোনো ব্যক্তি যদি অন্যের স্বানুবর্তিতায় বাধা সৃষ্টি করে তবে তাকে অত্যাচার করা বলে।

শব্দার্থ:

হিতাহিত – বেত্তাস্বরূপ ― মঙ্গল ও অমঙ্গলের জ্ঞাতার মত। 

স্বেচ্ছাচারিতা ― উচ্ছৃঙ্খলতা। 

ধৃতাস্ত্র ― অস্ত্রধারী। 

সর্বতত্ত্বদর্শী ― যে সকল বিষয় দেখতে পার। 

নীতিবেত্তা ― যাদের নীতি-বিষয়ক জ্ঞান আছে। 

পাণিগ্রহণ করা ― বিবাহ করা। 

দৈবানুকম্পায় ― দেবতার অনুগ্রহে। 

বাহুবলের অত্যাচার ― বলবানের উৎপীড়ন। 

অর্থের অত্যাচাব ― ধনবানের উৎপীড়ন। 

ধর্মের অত্যাচার ― ধর্ম-ব্যবস্থার উৎপীড়ন। 

অল্পানিষ্টকারী ― কম অমঙ্গলকারী।

Ankit Roy

Founder & CEO

Roy Library

Hi! I’m Ankit Roy, Founder & CEO of Roy Library—An Educational platform dedicated to helping students learn better with quality Notes, Study Materials, Exam Suggestions, Textbooks, Previous Year Question Papers, Academic News, Job-Related News, and other useful educational resources.

Leave a Reply

error: Content is protected !!
Scroll to Top