SEBA Class 9 Bengali Additional Chapter 5 মনসামঙ্গল Question Answer As Per New Syllabus Provided by The Roy Library. SEBA Class 9 Bengali Additional Chapter 5 মনসামঙ্গল Notes is made for SEBA Bengali Medium Students. SEBA Class 9 Bengali Additional Chapter 5 মনসামঙ্গল Solutions We ensure that You can completely trust this content. SEBA Class 9 Bengali Important Solutions. If you learn PDF Then you can Download Now PDF. I hope You Can learn Better Knowledge.
SEBA Class 9 Bengali Additional Chapter 5 মনসামঙ্গল
Today’s We have Shared in This Post SEBA Class 9 Bengali Extra Solutions. I Hope, you Liked The information About The SEBA Class 9 Bengali Additional Question Answer. If you liked SEBA Class 9 Bengali Important Question Answer Then Please Do Share this Post With your Friends as Well.
মনসামঙ্গল
| IMPORTANT QUESTION ANSWER |
(A) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (Very Short Answer)
১। “মনসামঙ্গল” কবিতাটির কবির নাম কী?
উত্তরঃ “মনসামঙ্গল” কবিতাটির কবি হলেন শক্তিপদ ব্রহ্মচারী।
২। শক্তিপদ ব্রহ্মচারী কত সালে এবং কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তরঃ শক্তিপদ ব্রহ্মচারী ১৯৩৭ সালের ২০ এপ্রিল তত্কালীন হবিগঞ্জ মহকুমার সোনাহিতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
৩। কবির পিতা ও মাতার নাম কী ছিল?
উত্তরঃ কবির পিতার নাম শশীভূষণ ব্রহ্মচারী এবং মাতার নাম প্রভাবতী দেবী।
৪। কবি শক্তিপদ ব্রহ্মচারী কোন স্কুল থেকে এবং কত সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন?
উত্তরঃ কবি ১৯৫৫ সালে হবিগঞ্জ শহরের জে. কে. স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
৫। কবি কোন কোন কলেজে অধ্যাপনা করেছিলেন?
উত্তরঃ কবি ১৯৭১ সালে হাইলাকান্দির এস. এস. কলেজে অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে শিলচরের গুরুচরণ কলেজে অধ্যাপনা করেন।
৬। কবি শক্তিপদ ব্রহ্মচারীর দুটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো।
উত্তরঃ তাঁর দুটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো ‘সময় শরীর হৃদয়’ (১৯৭১) এবং ‘অনন্ত ভাসানে’ (১৯৮৪)।
৭। “মনসামঙ্গল” কবিতাটি কবির কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তরঃ “মনসামঙ্গল” কবিতাটি কবি শক্তিপদ ব্রহ্মচারীর ‘অনন্ত ভাসানে’ নামক কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
৮। কবি শক্তিপদ ব্রহ্মচারী কত সালে অসম সরকারের সাহিত্য পেনশন লাভ করেন?
উত্তরঃ কবি ২০০৪ সালে অসম সরকারের সাহিত্য পেনশন লাভ করেছিলেন।
৯। কবি শক্তিপদ ব্রহ্মচারী কত তারিখে এবং কত সালে পরলোকগমন করেন?
উত্তরঃ কবি ২০০৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পরলোকগমন করেন।
১০। “সপ্তডিঙ্গা” ও “মধুকর” শব্দ দুটির অর্থ কী?
উত্তরঃ “সপ্তডিঙ্গা” শব্দের অর্থ সাতটি ডিঙ্গা বিশিষ্ট এবং “মধুকর” হলো চাঁদ সদাগরের বিখ্যাত ডিঙ্গা বা নৌকার নাম।
১১। “সায়ের” কে ছিলেন?
উত্তরঃ “সায়ের” হলেন মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম প্রধান নারী চরিত্র বেহুলার পিতা সায়েরবেনে।
১২। “ঝিয়ারি” ও “ভাসান” শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ “ঝিয়ারি” শব্দের অর্থ হলো কন্যা বা দুহিতা এবং “ভাসান” শব্দের অর্থ বিসর্জন।
১৩। “কালসন্ধ্যা” শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ “কালসন্ধ্যা” শব্দের অর্থ হলো সর্বনাশী সময় বা বিপদসংকুল সাঁঝবেলা।
১৪। উজানীনগরের সায়েরবেনের কন্যার নাম কী ছিল?
উত্তরঃ উজানীনগরের সায়েরবেনের কন্যার নাম ছিল বেহুলা।
১৫। চম্পক নগরে কার পুরী অবস্থিত ছিল?
উত্তরঃ মনসামঙ্গলে বর্ণিত চম্পক নগরে চাঁদ সদাগরের পুরী অবস্থিত ছিল।
(B) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (Short Answer)
১। “ছেঁড়া কাঁথা-কানি আর বেহুলা-যন্ত্রণা”— কথাটির তাৎপর্য সংক্ষেপে লেখো।
উত্তরঃ কবি শক্তিপদ ব্রহ্মচারী বাংলার লোকায়ত দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের যন্ত্রণাক্লিষ্ট বাস্তব জীবনের সঙ্গে পুরাণের বেহুলার চরম দুঃখ ও যন্ত্রণাকে মিলিয়ে দিয়েছেন। গ্রামীণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ছেঁড়া কাঁথা-কানির মতো চরম দারিদ্র্য এবং বেহুলার স্বামী হারানোর বিয়োগান্তক বেদনা ও কঠোর লড়াই যেন এক হয়ে সাধারণ মানুষের আবহমান জীবনের চিরন্তন যন্ত্রণার রূপক হয়ে উঠেছে।
২। দেবী মনসা সম্পর্কে পুরাণে কী বলা হয়েছে?
উত্তরঃ পুরাণে কথিত আছে যে দেবী মনসা হলেন কশ্যপ ঋষির মানসী কন্যা বা আত্মজা এবং তিনি প্রকৃতির অংশভূতা। তিনি মানুষের মনে ক্রীড়া করেন বলেই মনসাদেবী নামে স্বীকৃত হয়েছেন। শ্রীকৃষ্ণ তাঁর নাম রাখেন জরৎকারু এবং সাপের বিষ হরণ করতে দক্ষ বলে তাঁর অন্য নাম বিষহরি।
৩। “কালীদহ” নামটির উৎপত্তি কীভাবে হয়েছে?
উত্তরঃ যমুনার নিকটবর্তী কালিন্দী হ্রদে কালীয় নাগ বাস করত। শ্রীকৃষ্ণ গো-বালকদের সঙ্গে গোচারণ করার সময় বিষাক্ত জল পানে মৃত গোগণকে বাঁচিয়ে হ্রদে লাফ দেন। কালীয় নাগ কৃষ্ণকে গ্রাস করায় তার নিজের কণ্ঠ ও উদর বক্র হয়ে যায় এবং কৃষ্ণ তাকে দমন করেন। সেই থেকে কালিন্দী হ্রদটি ‘কালীদহ’ নামে চিহ্নিত হয়।
৪। কবি দ্বিজ বংশীদাশের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তরঃ কবি দ্বিজ বংশীদাশ হলেন বাংলা মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহকুমার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম যাদবানন্দ এবং মাতার নাম অঞ্জনা। তিনি আনুমানিক ১৫৭৫ খ্রিস্টাব্দে ‘পদ্মপুরাণ’ নামক বিখ্যাত মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেন এবং তিনি মহিলা-কবি চন্দ্রাবতীর পিতা ছিলেন।
৫। “বই তিন-খানা” এবং “তিন-খানা বই”— এই দুটির মধ্যে ব্যাকরণগত পার্থক্য কী?
উত্তরঃ ব্যাকরণ অনুযায়ী, সংখ্যা-বাচক বিশেষণের পরে বিশেষ্য পদটি বসলে (যেমন: তিন-খানা বই), তা যেকোনো অনির্দিষ্ট তিনটি বইকে নির্দেশ করে। কিন্তু যখন বিশেষ্যের পরে নির্দেশকসহ সংখ্যা-বাচক শব্দটি বসে (যেমন: বই তিন-খানা), তখন তা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ভাব প্রকাশ করে।
(C) দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর (Long Answer)
১। “মনসামঙ্গল” কবিতাটিতে কবি লোকপুরাণের সঙ্গে আধুনিক নাগরিক জীবনের জটিলতা কীভাবে মিশিয়েছেন তা আলোচনা করো।
উত্তরঃ কবি শক্তিপদ ব্রহ্মচারী তাঁর “মনসামঙ্গল” কবিতায় প্রাচীন লোকপুরাণের আবহকে অত্যন্ত নিপুণভাবে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন। একদিকে তিনি মনসা দেবীর পূজা, বেহুলার ভাসান-যাত্রা, চাঁদ সদাগরের সপ্তডিঙ্গা মধুকর এবং লখার মৃত্যুর মতো লোকায়ত উপাদান ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে, এই রূপকের আড়ালে তিনি আধুনিক নাগরিক মানসের জটিলতা, গ্রামীণ জীবনের চরম দারিদ্র্য (যেমন: পচা পাটের এঁদো ডোবা, ছেঁড়া কাঁথা-কানি, কুপিলাম্পের আলোয় রাতকানা নিরক্ষরা বুড়ি) এবং জীবনধারণের জন্য জাল-টানা দরিদ্র জেলের রাতে জলে যাওয়ার কঠিন বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন। লোকায়ত জনজীবন ও নাগরিক মানসের এই অপূর্ব মিশ্রণ কবিতাটিকে এক অভূতপূর্ব সাহিত্যিক উৎকর্ষ দান করেছে।
২। বেহুলা কীভাবে তাঁর মৃত স্বামীর প্রাণ এবং শ্বশুরের হারানো ধনসম্পদ উদ্ধার করেছিলেন? পাঠ্যবই অনুসরণে লেখো।
উত্তরঃ মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম প্রধান নারী চরিত্র বেহুলা ছিলেন উজানীনগরের সায়েরবেনের কন্যা। চাঁদ সদাগরের সপ্তম পুত্র লখিন্দরের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হলেও বাসর রাতে দেবী মনসার কোপে লখিন্দর সাপের কামড়ে প্রাণ হারান। বেহুলা তাঁর মৃত স্বামীর প্রাণ ফিরিয়ে আনার জন্য মান্দাসে (ভেলায়) চড়ে দেবলোকে যাত্রা করেন। সেখানে নিজের অপূর্ব নৃত্য ও গীতের মাধ্যমে দেবতাদের সন্তুষ্ট করে তিনি শিবের কাছ থেকে লখিন্দরের প্রাণ ফিরে পাওয়ার বর লাভ করেন। শুধু স্বামীর প্রাণই নয়, বেহুলা তাঁর সতীত্বের জোরে তাঁর শ্বশুর চাঁদ সদাগরের পূর্বে মারা যাওয়া ছয় পুত্র এবং ডুবিয়ে দেওয়া চোদ্দটি ডিঙ্গাও উদ্ধার করে ঘরে ফিরে আসেন।
৩। “এখনও বুকের দ্বিজ বংশীদাশ কহে / হেথা নয়, হেথা নয়, অন্য কালীদহে…”— অংশটির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশটির মাধ্যমে কবি শক্তিপদ ব্রহ্মচারী বাঙালি জীবনের ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির শিকড়কে স্মরণ করেছেন। মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি দ্বিজ বংশীদাশ তাঁর পদ্মপুরাণ কাব্যের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে যে করুণ রসের ধারা বইয়ে দিয়েছিলেন, তা আজও বাঙালির বুকে সজীব। শ্রাবণের অবিরাম বৃষ্টির দিনে বা দখিন বাতাসে যখন মনসামঙ্গলের সুর ভেসে আসে, তখন মনে হয় আমাদের চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা ও বেদনা এই চেনা গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তা যেন কোনো এক অলৌকিক, রহস্যময় এবং গভীর ডহরের টানে আদি ও অনন্ত কালীদহের দিকে ছুটে যেতে চায়, যা বাঙালি সত্তার এক চিরন্তন আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ব্যাকুলতাকে নির্দেশ করে।
৪। বাংলা ব্যাকরণে নির্দেশক প্রত্যয় বলতে কী বোঝায়? এর বিভিন্ন প্রকারভেদ উদাহরণসহ সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তরঃ বিশেষ্য বা বিশেষণের পরে যুক্ত হয়ে যে সমস্ত শব্দ বা শব্দাংশ কোনো পদের নির্দিষ্টতা বা অনির্দিষ্টতা প্রকাশ করে, তাদের নির্দেশক প্রত্যয় বা নির্দেশক শব্দাংশ বলা হয়।
নির্দেশক প্রত্যয়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ দেখানো হয়েছে:
(ক) আকার ও প্রকৃতি নির্দেশক: “টা, টি, খানা, খানি, গাছা” বিশেষ্যের পরে বসে এক-বচনে বস্তুর আকার বা অবস্থা নির্দেশ করে (যেমন: লোকটা, বই-খানা)।
(খ) সুনির্দিষ্ট ও অনির্দিষ্ট ভাব: সংখ্যা-বাচক বিশেষণের পূর্বে নির্দেশক বসলে অনির্দিষ্টতা বোঝায় (যেমন: তিন-খানা বই), কিন্তু পরে বসলে তা সুনির্দিষ্ট হয় (যেমন: বই তিন-খানা)।
(গ) হ্রস্বতা ও আদরের দ্যোতনা: “টি, খানি, গাছি” বা পরিমাণ-বাচকে “টুক, টুকু” ব্যবহারের মাধ্যমে বস্তুর ক্ষুদ্রতা, অল্পতা বা আদরের ভাব প্রকাশ করা হয় (যেমন: মুখখানি, এতটুকু জল)।
(D) শূন্যস্থান পূরণ (Fill in the Blanks)
১। সপ্তডিঙ্গা মধুকর _______ চারিদিকে জল।
উত্তরঃ চারিস্বিকে।
২। শ্রাবণের অবিরাম _______।
উত্তরঃ মনসামঙ্গল।
৩। পচা পাটে এঁদো ডোবা বিষধর _______।
উত্তরঃ ফণা।
৪। কুপিলাম্পে রাতকানা নিরক্ষরা _______।
উত্তরঃ বুড়ি।
৫। লখার মরণে কান্দে আছড়ি-_______।
উত্তরঃ পিছড়ি।
টীকা লেখো:
১। মধুকর।
উত্তরঃ ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যে বর্ণিত একটি বিখ্যাত জলযানের নাম হলো মধুকর। এটি মূলত চম্পক নগরের বিখ্যাত শিবভক্ত সদাগর চাঁদ সদাগরের বাণিজ্য তরী বা ডিঙ্গা ছিল।
২। বেহুলা।
উত্তরঃ বেহুলা হলেন মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম প্রধান ও আদর্শ নারী চরিত্র। তিনি উজানীনগরের সায়েরবেনের কন্যা ছিলেন। চাঁদ সদাগরের সপ্তম পুত্র লখিন্দরের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের বাসর রাতেই দেবী মনসার কোপে লখিন্দর সর্পদংশনে প্রাণ হারান। বেহুলা তাঁর মৃত স্বামীর প্রাণ ফিরিয়ে আনার জন্য মান্দাসে (ভেলায়) চড়ে দেবলোকে যাত্রা করেন। সেখানে নিজের অপূর্ব নৃত্য ও গীতের মাধ্যমে দেবতাদের সন্তুষ্ট করে তিনি শিবের বর লাভ করেন এবং মৃত স্বামীর প্রাণ ফিরে পান। শুধু তাই নয়, নিজের সতীত্ব ও নিষ্ঠার বলে তিনি তাঁর শ্বশুরের পূর্বে মৃত ছয় পুত্র এবং ডুবিয়ে দেওয়া চৌদ্দটি ডিঙ্গাও উদ্ধার করতে সমর্থ হন।
৩। কালীদহ।
উত্তরঃ কালীদহ ভারতীয় পুরাণে বর্ণিত একটি অত্যন্ত বিখ্যাত এবং বিশাল জলাশয়। যমুনার নিকটবর্তী কালিন্দী হ্রদে কালীয় নামক এক বিষধর নাগ বাস করত। একদা শ্রীকৃষ্ণ তাঁর গোপবালকদের নিয়ে কালিন্দী তীরে গোচারণ করার সময়, সেই হ্রদের বিষতুল্য জল পান করে গোরুগুলো মারা যায়। শ্রীকৃষ্ণ তখন তাদের পুনরায় জীবিত করেন এবং যমুনা তীরবর্তী কদম্ব বৃক্ষ থেকে লাফ দিয়ে হ্রদের মধ্যকার সর্পভবনে প্রবেশ করেন। কালীয় নাগ শ্রীকৃষ্ণকে সাধারণ মানুষ ভেবে গ্রাস করতে উদ্যত হলে শ্রীকৃষ্ণের অলৌকিক মহিমায় নাগের কণ্ঠ ও উদর বক্র হয়ে যায়। কৃষ্ণ কর্তৃক কালীয় নাগ দমিত হওয়ার পর থেকে কালিন্দী হ্রদটি ‘কালীদহ’ বা ‘কালীয়দহ’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
৪। মনসা।
উত্তরঃ মনসা হলেন মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম প্রধান দেবী এবং তিনি সর্পদেবী হিসেবে পূজিত হন। পুরাণে কথিত আছে যে তিনি কশ্যপ ঋষির মানসী কন্যা বা আত্মজা এবং প্রকৃতিরই অংশভূতা। তিনি মানুষের মনে ক্রীড়া করেন বা খেলা করেন বলেই মনসাদেবী নামে স্বীকৃত হয়েছেন। শ্রীকৃষ্ণ তাঁর নাম জরৎকারু রেখেছিলেন। সাপের বিষ হরণ করতে তিনি অত্যন্ত দক্ষ বা পারদর্শী বলে তাঁর অপর নাম বিষহরি।
৫। চম্পক নগর।
উত্তরঃ চম্পক নগর হলো মনসামঙ্গল কাব্যে বর্ণিত এক অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বিখ্যাত প্রাচীন নগর। মনসামঙ্গলের প্রধান চরিত্র চাঁদ সদাগরের বিশাল রাজপুরী এই চম্পক নগরেই অবস্থিত ছিল। ভারতীয় পুরাণেও এই চম্পক নগরের উল্লেখ পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক ও গবেষকদের মতে, প্রাচীন মগধ রাজ্যের রাজধানীই ছিল চম্পক নগর।
৬। দ্বিজ বংশীদাশ।
উত্তরঃ দ্বিজ বংশীদাশ হলেন বাংলা মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহকুমার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর পিতার নাম যাদবানন্দ এবং মাতার নাম অঞ্জনা। তিনি আনুমানিক ১৫৭৫ খ্রিস্টাব্দে মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম বিখ্যাত রূপ ‘পদ্মপুরাণ’ রচনা করেন। পণ্ডিত আশুতোষ ভট্টাচার্য যাঁকে ‘মহিলা-কৃত্তিবাস’ বলে উল্লেখ করেছেন, মধ্যযুগের (১৪০০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ) বাংলা সাহিত্যের সেই একমাত্র এবং প্রথম সার্থক মহিলা-কবি চন্দ্রাবতী হলেন এই দ্বিজ বংশীদাশের কন্যা। চন্দ্রাবতীর রচিত ‘রামায়ণ’ এককালে বাংলায় অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বিখ্যাত ছিল।
| ব্যাকরণ ভাগ |
(A) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (Very Short Answer)
১। নির্দেশক প্রত্যয় বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ বিশেষ্যের পরে কেবল এক-বচনে যে প্রত্যয়গুলি যুক্ত হয়ে উক্ত বিশেষ্যের গুণ বা রূপ প্রকাশ না করে তার অবস্থাকে বিশেষভাবে নির্দেশ করে, তাদের ব্যাকরণে নির্দেশক প্রত্যয় বলা হয়।
২। ‘টা’ এবং ‘টি’ নির্দেশক দুটির উৎপত্তি সংস্কৃত কোন্ শব্দ থেকে হয়েছে?
উত্তরঃ ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী ‘টা’ এবং ‘টি’ এই নির্দেশক দুটির উৎপত্তি সংস্কৃত ‘বৃত্ত’ শব্দ থেকে হয়েছে।
৩। ‘খানা’ নির্দেশক শব্দটি কোন্ মূল শব্দ থেকে জাত বা উৎপন্ন হয়েছে?
উত্তরঃ ‘খানা’ নির্দেশকটি সংস্কৃত ‘খণ্ড’ শব্দ থেকে জাত হয়েছে।
৪। কোন্ ধরণের শব্দের উত্তর বা পরে সাধারণত ‘টা’ ও ‘টি’ নির্দেশক যুক্ত হয়?
উত্তরঃ অপ্রাণী-বাচক শব্দের পরেই সাধারণত ‘টা’ এবং ‘টি’ নির্দেশক যুক্ত হয়ে থাকে।
৫। বৃত্তাকার বস্তুর নামের সঙ্গে কি ‘খানা’, ‘খান’ বা ‘খানি’ ব্যবহৃত হয়?
উত্তরঃ বৃত্তাকার বা গোলাকার বস্তুর নামের সঙ্গে সাধারণত ‘খান’, ‘খানা’ বা ‘খানি’ বসে না।
(B) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (Short Answer)
১। অপ্রাণীবাচক এবং প্রাণীবাচক শব্দের ক্ষেত্রে ‘টা’ এবং ‘টি’ ব্যবহারের পার্থক্য বুঝিয়ে লেখো।
উত্তরঃ অপ্রাণীবাচক শব্দের পরে সাধারণত ‘টা’ ও ‘টি’ দুই-ই যুক্ত হতে পারে। তবে মানব এবং অন্যান্য উচ্চশ্রেণীর প্রাণীবাচক শব্দের ক্ষেত্রে ‘টা’ যোগ করলে অনাদর বা অবজ্ঞা প্রকাশ পায়। অপরদিকে, এদের সঙ্গে ‘টি’ যোগ করলে কিছুটা স্নেহভাব, আদর বা অনুকম্পার দ্যোতনা প্রকাশ পায়; যেমন— “লোকটা অতি পাজি” কিন্তু “মানুষটি বেশ ভাল”।
২। ‘খানা’, ‘খান’ এবং ‘খানি’ শব্দগুলি কোন্ ক্ষেত্রে এবং কীভাবে ব্যবহৃত হয়?
উত্তরঃ যে-সব বস্তু দ্বিখণ্ডিত বা খণ্ড-রূপে হতে পারে এবং যার খণ্ড-বিশেষের কার্যকারিতা নষ্ট হয় না, সেইরূপ বস্তুর ক্ষেত্রেই কেবল ‘খান’, ‘খানা’ বা ‘খানি’ ব্যবহৃত হয়। এই নির্দেশকগুলি মূলত সমতল এবং চতুষ্কোণ বস্তুর নামের সঙ্গেই যুক্ত হয়ে থাকে; যেমন— “কাপড়-খানা”।
৩। পরিমাপে বা অল্পার্থে কোন্ কোন্ নির্দেশক প্রযুক্ত হয় এবং হ্রস্বতার আধিক্য বোঝাতে কী ব্যবহৃত হয়?
উত্তরঃ পরিমাণ বা অল্পতা বোঝাতে বিশেষণের সঙ্গে ‘টুক’, ‘টুকু’ এবং কদাচিৎ ‘টু’ নির্দেশক যুক্ত হয়; যেমন— “এতটুকু জল”, “দুধটুকু”। আবার হ্রস্বতার মাত্রা বা আধিক্য আরও বেশি করে বোঝাতে ‘টুকুন’ বা ‘টুকুনি’ প্রযুক্ত হয়ে থাকে; যেমন— “এত্তটুকুন ছেলে”।
(C) দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর (Long Answer)
১। সংখ্যা-বাচক বিশেষণের সঙ্গে নির্দেশক প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার নিয়মগুলি উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তরঃ সংখ্যা-বাচক বিশেষণের সঙ্গে নির্দেশক প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিশিষ্ট নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে:
(ক) সংখ্যা-বাচক বিশেষণ প্রযুক্ত হলে, বিশেষ্যের পরে সেই সংখ্যা-বাচক শব্দটি বসলে সুনির্দিষ্ট ভাব প্রকাশ পায়; যেমন— “বই তিন-খানা” বললে সুনির্দিষ্ট তিনটি বইকেই বোঝায়। কিন্তু যদি বিশেষণের আগে সংখ্যা বসে, তবে তা অনির্দিষ্ট হয়ে যায়; যেমন— “তিন-খানা বই” বলতে যে-কোনো তিনটি বইকে বোঝানো হ।
(খ) সংখ্যা-বাচক বিশেষণের পূর্বেও কিছু নির্দেশক শব্দ বা শব্দাংশ ব্যবহার করে অনির্দিষ্টতা প্রকাশ করা যায়; যেমন— “জন-দুই মানুষ”, “খান-চার কাপড়”।
(গ) এই অনির্দেশক ভাবকে আরও স্পষ্ট করার জন্য সংখ্যা-বাচক শব্দে অনিশ্চয়-বোধক প্রত্যয় ‘ক’ যুক্ত করা যায়; যেমন— “জন-দুয়েক মানুষ”, “খান-চারেক কাপড়”, “গাছা-পাঁচেক লাঠি”, “খান-আষ্টেক রুটি” ইত্যাদি।
২। ‘গাছ’, ‘গাছা’ এবং ‘গাছি’ নির্দেশকগুলির ব্যবহার বিধি উদাহরণসহ বুঝিয়ে দাও।
উত্তরঃ ‘গাছ’, ‘গাছা’, ‘গাছি’ এই নির্দেশকগুলি মূলত বৃক্ষার্থক বাংলা ‘গাছ’ শব্দের সঙ্গে অভিন্ন। এই নির্দেশকটি সাধারণত অখণ্ড, সরু বা দীর্ঘ আকৃতির কোনো বস্তুর নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকে; যেমন— “লাঠি-গাছি”, “খড়-গাছা”, “আখ-গাছা”। এছাড়া ক্ষেত্রবিশেষে ‘গাছ’ ও ‘টা’ বা ‘টি’ মিলিতভাবেও ব্যবহৃত হতে পারে; যেমন— “লাঠি-গাছাটি”।
(D) শূন্যস্থান পূরণ (Fill in the Blanks)
১। ‘টা, টি’-র উৎপত্তি সংস্কৃত _______ শব্দ থেকে।
উত্তরঃ বৃত্ত।
২। ‘খানা’ নির্দেশক শব্দটি এসেছে _______ শব্দ থেকে।
উত্তরঃ খণ্ড।
৩। বিশেষ্যের পরে কেবল এক-বচনে _______ প্রযুক্ত হয়।
উত্তরঃ নির্দেশক।
৪। সমতল ও _______ বস্তুর নামের সঙ্গেই ‘খানা’ শব্দ যুক্ত হয়।
উত্তরঃ চতুষ্কোণ।
৫। বৃত্তাকার বস্তুর নামের সঙ্গে ‘খানা’, ‘খানি’ সাধারণত _______ না।
উত্তরঃ বসে।
৬। মানব ও উচ্চশ্রেণীর প্রাণীবাচক শব্দে ‘টি’ যোগ করলে _______ ভাব আসে।
উত্তরঃ স্নেহভাব।
৭। হ্রস্বতার আধিক্য বোঝাতে ‘টুকুন’ বা _______ প্রযুক্ত হয়।
উত্তরঃ টুকুনি।
৮। অপ্রাণী-বাচক শব্দের উত্তর সাধারণত _______ যুক্ত হয়।
উত্তরঃ টা, টি।
৯। ‘গাছ’, ‘গাছা’, ‘গাছি’ নির্দেশকগুলি অখণ্ড, সরু বা _______ বস্তুর নামের সঙ্গে প্রযুক্ত হয়।
উত্তরঃ দীর্ঘ।
১০। ‘ভাব-খানা ভালো নয়’— এখানে ‘ভাব’ হলো একটি _______ বাচক শব্দ।
উত্তরঃ গুণ।
শব্দার্থ:
- সপ্তডিঙা – সাতটি ডিঙা বিশিষ্ট।
- মধুকর – চাঁদ সদাগরের নৌকোর নাম বিশেষ।
- অবিশ্রাম – বিরতিহীন।
- এঁদো – পানাপড়া, পঙ্কিল, আলো ঢোকে না এমন
- ডোবা – বদ্ধ জলাশয়।
- ফণা – সাপের ফণা, ছোবল।
- কাঁথা – শীতবস্ত্র বিশেষ।
- কালসন্ধ্যা – সর্বনাশী সময়, বিপদসঙ্কুল সাঁঝবেলা।
- সায়ের – বেহুলার পিতা সায়বেনের।
- ঝিয়ারি – কন্যা, দুহিতা।
- ভাসান – বিসর্জন।
- নিছনি – লাবণ্য, প্রসাধন, উপহার।
- সাতনরী – হার বিশেষ।
- শিকা – বাংলার লোকায়ত আসবাব, পাট নির্মিত পাত্রদান।
- কুপিলম্প – বাতি, দীপ।
- রাতকানা – যে রাতে দেখতে পায় না।
- নিরক্ষরা – বর্ণ পরিচয়হীন।
- লখা – চাঁদ সাগরের পুত্র।
- দখিনা – দক্ষিণ দিকের।
- দিগম্বরা – আদুল গা, উলঙ্গ।
- গহন – নিবিড়, গভীর।

Hi! I’m Ankit Roy, a full time blogger, digital marketer and Founder of Roy Library. I shall provide you all kinds of study materials, including Notes, Suggestions, Biographies and everything you need.
YouTube Channel