SEBA Class 9 Bengali Additional Chapter 7 ছুটি

SEBA Class 9 Bengali Additional Chapter 7 ছুটি Question Answer As Per New Syllabus Provided by The Roy Library. SEBA Class 9 Bengali Additional Chapter 7 ছুটি Notes is made for SEBA Bengali Medium Students. SEBA Class 9 Bengali Additional Chapter 7 ছুটি Solutions We ensure that You can completely trust this content. SEBA Class 9 Bengali Important Solutions. If you learn PDF Then you can Download Now PDF. I hope You Can learn Better Knowledge.

WhatsApp Channel
Join Now
YouTube Channel
Subscribe

SEBA Class 9 Bengali Additional Chapter 7 ছুটি

Today’s We have Shared in This Post SEBA Class 9 Bengali Extra Solutions. I Hope, you Liked The information About The SEBA Class 9 Bengali Additional Question Answer. If you liked SEBA Class 9 Bengali Important Question Answer Then Please Do Share this Post With your Friends as Well.

ছুটি

IMPORTANT QUESTION ANSWER

(A) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (Very Short Answer)

১। ‘ছুটি’ গল্পটির রচয়িতা কে? 

উত্তরঃ ‘ছুটি’ গল্পটির রচয়িতা হলেন বাংলা সাহিত্যের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

২। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত বঙ্গাব্দে এবং কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? 

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

৩। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কবিতা এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম কী? 

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কবিতা হলো ‘হিন্দুমেলা উপহার’ এবং তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম হলো ‘সন্ধ্যাসঙ্গীত’ (১৮৮২ খ্রিস্টাব্দ)।

৪। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত খ্রিস্টাব্দে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন? 

উত্তরঃ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতাঞ্জলি কাব্যের জন্য ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ভারতীয় বা এশীয় হিসেবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

৫। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ছোটগল্প এবং প্রথম উপন্যাসের নাম কী? 

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত প্রথম ছোটগল্প হলো ‘ভিখারিণী’ এবং প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস হলো ‘করুণা’।

৬। বিশ্বকবির কত বঙ্গাব্দে এবং কোন তারিখে দেহাবসান ঘটে?

উত্তরঃ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কলকাতার জোড়াসাঁকোতে দেহাবসান ঘটে।

৭। ‘ছুটি’ গল্পটি লেখকের কোন মূল গ্রন্থ থেকে সংকলন করা হয়েছে? 

উত্তরঃ ‘ছুটি’ গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ‘গল্পগুচ্ছ’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ড থেকে সংকলন করা হয়েছে।

৮। বালকদের সর্দার কে ছিল এবং তার মাথায় নদীর ধারে কী নতুন খেলার বুদ্ধি এসেছিল? 

উত্তরঃ বালকদের সর্দার ছিল ফটিক চক্রবর্তী এবং নদীর ধারে প’ড়ে থাকা একটি প্রকাণ্ড শালকাষ্ঠের মাস্তুল সকলে মিলে গড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি নতুন খেলার বুদ্ধি তার মাথায় চট করে এসেছিল।

৯। মাখনলাল কে ছিল এবং সে ফটিকের তৈরি নতুন খেলার শুরুতে কী করেছিল? 

উত্তরঃ মাখনলাল ছিল ফটিকের কনিষ্ঠ (ছোট) ভাই এবং সে নতুন খেলা শুরুর আগে গম্ভীরভাবে সেই শালকাষ্ঠের গুঁড়ির ওপর গিয়ে বসে পড়েছিল।

১০। মাখনলালের গুঁড়ির ওপর বসার ঔদাসীন্য দেখে ফটিক কী বলে আস্ফালন করেছিল? 

উত্তরঃ মাখনলালের গম্ভীর ঔদাসীন্য দেখে ফটিক আস্ফালন করে তাকে ভয় দেখিয়ে বলেছিল, “দেখ্ মার খাবি। এই বেলা ওঠ্।”

১১। ছেলেরা কোমর বেঁধে কাঠ ঠেলার সময় কী স্লোগান বা চিৎকার দিয়েছিল? 

উত্তরঃ ছেলেরা কোমর বেঁধে কাঠে হাত দেওয়ার সময় সমস্বরে চিৎকার করে উঠেছিল, “মারো ঠেলা হেঁইয়ো, সাবাস জোয়ান হেঁইয়ো।”

১২। শালকাষ্ঠের গুঁড়িটি একপাক ঘুরতে না ঘুরতেই মাখনলালের কী অবস্থা হয়েছিল? 

উত্তরঃ শালকাষ্ঠের গুঁড়িটি একপাক ঘুরতে না ঘুরতেই মাখনলাল তার সমস্ত গাম্ভীর্য, গৌরব এবং তত্ত্বজ্ঞান-সমেত মাটিতে প’ড়ে ভূমিসাৎ হয়ে গিয়েছিল।

১৩। মাটি থেকে উঠে মাখনলাল ফটিকের ওপর কীভাবে প্রতিশোধ নিয়েছিল? 

উত্তরঃ মাখনলাল মাটি থেকে উঠে তৎক্ষণাৎ ফটিকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং তাকে অন্ধভাবে মেরে, নাকে-মুখে আঁচড় কেটে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির দিকে চলে গিয়েছিল।

১৪। খেলা ভেঙে যাওয়ার পর ফটিক নদীর ধারে কী করছিল? 

উত্তরঃ খেলা ভেঙে যাওয়ার পর ফটিক গোটাকতক কাশঘাস উৎপাটন করে নদীর ধারে একটি অর্ধনিমজ্জিত নৌকার গলুইয়ের ওপর বসে চুপচাপ কাশের গোড়া চিবাচ্ছিল ।

১৫। ঘাটে এসে নামা কাঁচা গোঁফ ও পাকা চুলওয়ালা অপরিচিত ভদ্রলোকটি ফটিককে কী জিজ্ঞেস করেছিলেন? 

উত্তরঃ ঘাটে নৌকা থেকে নামা সেই আধ-বয়সী অপরিচিত ভদ্রলোকটি ফটিককে চক্রবর্তীদের বাড়িটি কোথায় তা জিজ্ঞাসা করেছিলেন।

(B) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (Short Answer)

১। বালকরা শালকাষ্ঠের গুঁড়িটি নিয়ে কেন খেলার প্রস্তাব করেছিল এবং ফটিকের ভাই মাখনলাল কেন তাতে বাধা সেজেছিল? 

উত্তরঃ নদীর তীরে পড়ে থাকা প্রকাণ্ড শালকাষ্ঠের গুঁড়িটি সরিয়ে দিলে তার মালিক অত্যন্ত বিরক্ত ও সমস্যায় পড়বেন, এই কৌতুহলী আনন্দ লাভের আশাতেই বালকরা ফটিকের প্রস্তাবে আনন্দ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু ফটিকের ভাই মাখনলাল অত্যন্ত শান্ত ও গম্ভীর স্বভাবের হওয়ায় সে কোনো খেলায় না মেতে নিজের গাম্ভীর্য বজায় রাখতে সেই কাঠের গুঁড়ির ওপর গিয়ে আসন গ্রহণ করেছিল।

২। মাখনলাল মাটির ওপর পড়ে যাওয়ার পর ফটিকের ওপর কীভাবে আক্রমণ করেছিল এবং এর পরিণতি কী হয়েছিল? 

উত্তরঃ ছেলেরা যখন মাখনলালসমেত কাঠের গুঁড়িটি ঠেলে গড়িয়ে দেয়, তখন মাখনলাল তার গাম্ভীর্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে যায়। সে রাগে অন্ধ হয়ে ফটিকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তার নাকে-মুখে আঁচড় কাটে এবং কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি গিয়ে মায়ের কাছে নালিশ জানায়, যার ফলে বালকদের খেলা বন্ধ হয়ে যায়।

৩। নদীর ঘাটে এসে নামা অপরিচিত ভদ্রলোকটির সাথে ফটিক কেমন আচরণ করেছিল? 

উত্তরঃ ঘাটে নামা আধ-বয়সী অপরিচিত ভদ্রলোকটি যখন ফটিককে চক্রবর্তীদের বাড়ি কোথায় জিজ্ঞেস করেন, তখন ফটিক কাশের ডাঁটা চিবোতে চিবোতে অত্যন্ত অবহেলার সাথে বলেছিল “ঐ হোথা”। ভদ্রলোকটি পুনরায় জিজ্ঞেস করলে ফটিক উত্তর দেয় “জানি নে” এবং তার নিজের উদাসীন খেলায় মগ্ন থাকে।

৪। ফটিকের মা কেন ফটিকের ওপর রেগে আগুন হয়ে উঠেছিলেন এবং ফটিককে কীভাবে শাস্তি দিয়েছিলেন? 

উত্তরঃ মাখনলাল বাড়িতে গিয়ে ফটিকের নামে মিথ্যা নালিশ করেছিল যে ফটিক তাকে মেরেছে। ফটিক বাড়ি ফিরতেই মা তার কথা বিশ্বাস না করে তাকে মিথ্যাবাদী বলেন এবং মাখনের পক্ষ নিয়ে ফটিককে জোরে জোরে ঝাঁকুনি দিয়ে তার পিঠে দু-তিনটি প্রবল চড় মারেন।

৫। ফটিকের মা কেন ফটিককে কলকাতায় তাঁর মামার সঙ্গে পাঠাতে সহজেই রাজি হয়েছিলেন? 

উত্তরঃ ফটিক ছিল অত্যন্ত চঞ্চল, অবাধ্য ও ডানপিটে ছেলে। বিধবা মা সবসময় ভয়ে থাকতেন যে ফটিক হয়তো কোনোদিন তার ছোট ভাই মাখনকে জলে ফেলে দেবে বা তার মাথা ফাটিয়ে দেবে। তাই বিসম্ভরবাবু ফটিকের পড়ালেখার দায়িত্ব নিয়ে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিলে মা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে রাজি হন।

(C) দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর (Long Answer)

১। ‘ছুটি’ গল্প অবলম্বনে ফটিক চক্রবর্তীর করুণ ট্র্যাজিক চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। 

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ গল্পের ফটিক চক্রবর্তী এক চিরস্মরণীয় ও অত্যন্ত বেদনাদায়ক কিশোর চরিত্র। ফটিক ছিল গ্রামের এক ডানপিটে, চঞ্চল এবং স্বাধীনচেতা বালক, যে বন্ধুদের সাথে নদীর তীরে খেলাধুলো করে বেড়াত। সে ছিল স্বাধীন প্রকৃতির এবং প্রকৃতির মাঝেই তার প্রাণশক্তির বিকাশ ঘটেছিল। কিন্তু ফটিকের পিতা মারা যাওয়ায় এবং মা তাকে ভুল বুঝে প্রতিনিয়ত মাখনের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করায় ফটিকের কিশোর মনে এক ধরনের অবহেলা ও বিষণ্ণতা দানা বাঁধে। মামার সাথে যখন সে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে কলকাতায় আসে, তখন তার জীবনের বিপর্যয় শুরু হয়। কলকাতার ইট-পাথরের দেওয়ালে বন্দি হয়ে এবং মামী-র তীব্র অবহেলা ও স্নেহহীনতা পেয়ে ফটিকের প্রাণশক্তি শুকিয়ে যায়। স্কুলে তার অমনোযোগ ও নির্বুদ্ধিতা তাকে প্রতিদিন অপমানিত করে। সে প্রতিনিয়ত মুক্তির সন্ধান করে এবং তার এই মানসিক কষ্ট শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। মৃত্যুর পূর্বে মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার ব্যাকুলতাই প্রমাণ করে যে ফটিক মূলত স্নেহ এবং স্বাধীনতার জন্য তৃষ্ণার্ত এক অতি সাধারণ কিশোর ছিল, যার নির্মম ট্র্যাজেডি পাঠকদের হৃদয় স্পর্শ করে।

২। কলকাতায় মামার বাড়িতে ফটিকের দিনগুলো কেমন কেটেছিল? কেন মামার বাড়িটি তার কাছে বন্দিশালা বলে মনে হয়েছিল? 

উত্তরঃ কলকাতায় মামার বাড়িতে ফটিকের দিনগুলো চরম অবহেলা, অপদস্থতা এবং মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে কেটেছিল। মামার বাড়িতে পা দেওয়া মাত্রই মামী ফটিককে নিজের সংসারে এক অনাবশ্যক বোঝা মনে করেছিলেন। মামী-র এই স্নেহহীন চাউনি এবং বাক্যবাণ ফটিকের আত্মসম্মানকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল। ঘরের ভেতরে ফটিকের দম বন্ধ হয়ে আসত, কারণ তার গ্রামের মুক্ত প্রকৃতির বিপরীতে কলকাতার ইট-পাথরের চার দেয়াল তাকে প্রতিনিয়ত বন্দিত্বের অনুভূতি দিত। স্কুলেও তার দিনগুলো ভালো ছিল না। সে ছিল স্কুলের সবচেয়ে অমনোযোগী ও নির্বোধ ছাত্র, যার কারণে প্রতিদিন তাকে শিক্ষকের প্রহার ও অপমান সহ্য করতে হতো। তার মামাতো ভাইয়েরাও তার সাথে সম্পর্ক স্বীকার করতে লজ্জা পেত এবং তাকে নিয়ে উপহাস করত। বই হারানোর পর মামী-র নিষ্ঠুর তিরস্কার তাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছিল। এই তীব্র নিঃসঙ্গতা, অপমান এবং মাতৃস্নেহ বঞ্চিত অবহেলার কারণেই মামার বাড়িটি ফটিকের কাছে একটি যন্ত্রণাদায়ক বন্দিশালা বা নরকতুল্য মনে হয়েছিল।

৩। “মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি।”—উক্তিটির তাৎপর্য এবং ফটিকের অন্তিম মুহূর্তের করুণ চিত্রটি ফুটিয়ে তোলো। 

উত্তরঃ এই হৃদয়বিদারক কথাটি মরণাপন্ন কিশোর ফটিক মৃত্যুর ঠিক পূর্ব মুহূর্তে তার মায়ের শয্যাপাশে দাঁড়িয়ে থাকার সময় বলেছিল। গল্পজুড়ে ফটিকের জীবনে ‘ছুটি’ পাওয়ার এক তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ব্যাকুলতা লক্ষ্য করা যায়। সে যখনই মামাকে জিজ্ঞেস করেছে সে কবে বাড়ি যাবে, মামা উত্তর দিয়েছেন “স্কুলের ছুটি হোক”। ফটিকের কাছে স্কুলের ছুটি বা কলকাতার এই যন্ত্রণাদায়ক জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার ছুটি ছিল একই সুতোয় গাঁথা। গুরুতর জ্বরের ঘোরে যখন ফটিকের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে যায় এবং ডাক্তার তার বাঁচার আশা ছেড়ে দেন, তখন ফটিকের মা কলকাতা আসেন। মা যখন তাঁর সোনা মানিককে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে ডাকেন, তখন ফটিকের শেষ চেতনা ফিরে আসে। ফটিক পাশ ফিরে অত্যন্ত মৃদুস্বরে মাকে জানায় যে তার কাঙ্ক্ষিত ছুটি হয়েছে এবং সে চিরদিনের জন্য বাড়ি চলে যাচ্ছে। এখানে ‘ছুটি’ ও ‘বাড়ি’ শব্দদুটি আর কোনো পার্থিব স্কুলের ছুটি বা মাটির ঘরকে নির্দেশ করে না, বরং তা এই মর্ত্যের অবহেলা, নিষ্ঠুরতা ও বন্ধন থেকে এক অনন্ত আধ্যাত্মিক মুক্তি এবং পরম আশ্রয়ের চিরন্তন প্রতীক হয়ে ওঠে।

(D) শূন্যস্থান পূরণ (Fill in the Blanks)

১। নদীর ধারে একটা প্রকাণ্ড _______ মাস্তুলে রূপান্তরিত হইবার প্রতীক্ষায় পড়িয়া ছিল। 

উত্তরঃ শালকাষ্ঠ।

২। এই _______ মানব সকলপ্রকার ক্রীড়ার অসারতা সম্বন্ধে নীরবে চিন্তা করিতে লাগিল। 

উত্তরঃ অকালতত্ত্বজ্ঞানী।

৩। গুঁড়ি এক পাক ঘুরিতে না ঘুরিতেই মাখন তাহার _______ গৌরব এবং তত্ত্বজ্ঞান-সমেত ভূমিসাৎ হইয়া গেল। 

উত্তরঃ গাম্ভীর্য্য।

৪। ফটিক গোটা কতক _______ উৎপাটন করিয়া লইয়া একটা অর্ধনিমজ্জিত নৌকার গলুইয়ের উপরে চড়িয়া বসিল। 

উত্তরঃ কাশ।

৫। বিসম্ভরবাবু পশ্চিমে কাজ করিতে গিয়াছিলেন এবং এতদিন পর দেশে ফিরিয়া তাঁহার _______ সহিত সাক্ষাৎ করিলেন। 

উত্তরঃ ভগিনীর।

টীকা লেখো: (Short Notes)

১। ফটিক চক্রবর্তী।

উত্তরঃ ‘ছুটি’ গল্পের প্রধান চরিত্র ফটিক চক্রবর্তী ছিল গ্রামের এক তেরো-চৌদ্দ বছরের ডানপিটে, চঞ্চল ও স্বাধীনচেতা কিশোর। সে ছিল গ্রামের বালকদের সর্দার ও চঞ্চলতার প্রতীক। পিতা মারা যাওয়ায় তার মা তাকে সর্বদা ভুল বুঝতেন এবং কনিষ্ঠ মাখনের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করতেন। মামা বিসম্ভরবাবু তাকে পড়াশোনার জন্য কলকাতায় নিয়ে গেলেও সেখানে মামী-র অবহেলা এবং স্কুলের নির্মম পরিবেশ ফটিকের মনের শান্তি কেড়ে নেয়। অবশেষে মুক্ত আকাশে ফিরে যাওয়ার তীব্র বাসনায় এবং তীব্র জ্বরের ঘোরে এই কিশোরের অকাল করুণ মৃত্যু ঘটে। তার ট্র্যাজিক জীবন কিশোর মনস্তত্ত্বের এক চিরন্তন প্রতীক।

২। মাখনলাল।

উত্তরঃ মাখনলাল ছিল ফটিকের কনিষ্ঠ বা ছোট ভাই। সে ছিল ফটিকের সম্পূর্ণ বিপরীত স্বভাবের—শান্ত, গম্ভীর এবং মায়ের বাধ্য ছেলে। মায়ের অত্যন্ত প্রিয় হওয়ার কারণে সে সবসময় ফটিকের নামে মায়ের কাছে মিথ্যা নালিশ জানাত। নদীর তীরে ফটিকদের প্রস্তাবিত খেলার সময় সে শালকাষ্ঠের ওপর গম্ভীর হয়ে বসেছিল, যা তাদের বিবাদের প্রধান কারণ ছিল। ফটিক কলকাতা চলে যাওয়ার সময় তার সমস্ত খেলনা মাখনকে দিয়ে যায়। মাখনলাল চরিত্রটি ফটিকের চঞ্চল ও ট্র্যাজিক জীবনের বৈপরীত্য ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করেছে।

৩। বিসম্ভরবাবু (বিশ্বম্ভরবাবু)।

উত্তরঃ বিসম্ভরবাবু ছিলেন ফটিকের মাতুল বা মামা, যিনি বহুকাল কর্মসূত্রে পশ্চিমে কাটিয়ে বোন জামাইয়ের মৃত্যুর পর পুনরায় দেশে ফিরেছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু, দায়িত্বশীল ও স্নেহশীল এক মহৎ ব্যক্তিত্ব। বোনের দুঃখ লাঘবের উদ্দেশ্যে তিনি ফটিকের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়ে তাকে কলকাতায় নিজের কাছে নিয়ে যান। ফটিকের অসুস্থতার সময় তিনি নিজে পুলিশে খবর দিয়ে তাকে উদ্ধার করেন, চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং মরণাপন্ন ফটিকের পাশে বসে তার তপ্ত হাত ধরে সান্ত্বনা দেন। তিনি ফটিকের দুঃখময় জীবনের একমাত্র আশ্রয় ছিলেন।

৪। ফটিকের মামী।

উত্তরঃ কলকাতায় বিসম্ভরবাবুর স্ত্রী বা ফটিকের মামী ছিলেন এক কঠোর, বাস্তববাদী এবং স্নেহহীন নারী। নিজের তিনটি ছেলেকে নিয়ে তাঁর পরিপাটি ও সুসংগঠিত সংসারে তেরো বছরের এক অশিক্ষিত, পাড়াগেঁয়ে ফটিকের হঠাৎ আগমনকে তিনি এক অনাবশ্যক বোঝা ও অশান্তির কারণ বলে মনে করতেন। ফটিকের কোনো কাজ বা আচরণই তাঁর ভালো লাগত না, এমনকি ফটিকের অসুস্থতাকেও তিনি একটি বিরক্তিকর ঝামেলা বলে মনে করতেন। ফটিকের প্রতি তাঁর এই চরম উদাসীনতা ও মমতা বঞ্চিত আচরণ ফটিকের অকাল ও করুণ মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

ব্যাকরণ ভাগ

১। পদান্তর করো (পদ পরিবর্তন):

  • গম্ভীর ➔ গাম্ভীর্য
  • বিস্ময় ➔ বিস্মিত
  • উদাসীন ➔ ঔদাসীন্য
  • আশঙ্কা ➔ আশঙ্কিত
  • কাতরতা ➔ কাতর 
  • তাপ ➔ তপ্ত
  • দীন ➔ দৈন্য
  • অস্থির ➔ অস্থিরতা
  • ব্যাকুল ➔ ব্যাকুলতা
  • লজ্জা ➔ লজ্জিত
  • চক্ষু ➔ চাক্ষুষ
  • অন্তর ➔ আন্তরিক
  • প্রবল ➔ প্রাবল্য
  • মন ➔ মানসিক
  • শৈশব ➔ শিশু
  • সাহস ➔ সাহসী

২। বিপরীত শব্দ লেখো:

  • উদয় ➔ অস্ত
  • কনিষ্ঠ ➔ জ্যেষ্ঠ
  • প্রকাণ্ড ➔ ক্ষুদ্র
  • স্থির ➔ চঞ্চল
  • পার্থিব ➔ অপার্থিব
  • মিথ্যা ➔ সত্য
  • সাধ্য ➔ অসাধ্য
  • সশব্দ ➔ নিঃশব্দ
  • সহ্য ➔ অসহ্য
  • সন্তুষ্ট ➔ অসন্তুষ্ট
  • নিবৃত্ত ➔ প্রবৃত্ত
  • আরম্ভ ➔ শেষ
  • অনাদর ➔ আদর
  • নিরাশ ➔ আশাপূর্ণ (বা আশা)
  • উচ্চ ➔ নিচু

৩। বাক্য রচনা করো:

  • শিরশির: ছেলেটির কাণ্ড দেখে আমার সারা গা শিরশির করছে।
  • বিড়বিড়: জ্বরের ঘোরে বৃদ্ধাটি আপনমনে কী যেন বিড়বিড় করছে।
  • খিটখিট: সব সময় ছোট বাচ্চাদের প্রতি খিটখিট করা মোটেই ভালো নয়।
  • ফ্যালফ্যাল: ঘরের কোনো চেনা মানুষকে না পেয়ে ফটিক দেওয়ালের দিকে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল।
  • থরথর: শ্রাবণের প্রবল বৃষ্টিতে ভিজে পুলিশ যখন ফটিককে আনল, তখন সে জ্বরে থরথর করে কাঁপছিল।
  • ঝুপঝুপ: রাতের বেলা অন্ধকার রাস্তায় ঝুপঝুপ করে অবিরাম বৃষ্টি পড়ছিল।
  • বোঁ বোঁ: মাঠে ফটিক নিজের ঘুড়িটি বোঁ বোঁ শব্দে উড়িয়ে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াত।
  • মনে মনে: মামার বাড়ির অবহেলা থেকে মুক্তি পেয়ে ফটিক মনে মনে নিজের গ্রামে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করত।
  • ব্যথা-ব্যথা: প্রচণ্ড জ্বরের কারণে ফটিকের সারা শরীরে একটা অদ্ভুত ব্যথা-ব্যথা ভাব দেখা দিয়েছিল।

শব্দার্থ: (Word Meanings)

  • আবশ্যক – দরকার, প্রয়োজন। 
  • প্রতীক্ষা – অপেক্ষা। 
  • ঔদাসীন্য – অমনোযোগ। 
  • আস্ফালন – দন্তপ্রকাশ। 
  • ভূমিসাৎ – ভূপতিত। 
  • সশব্দ – শব্দ-করে, শব্দ-সহ। 
  • ব্যামো – ব্যাধি, রোগ, ব্যায়ারাম, অসুখ। 
  • নির্বোধ – বুদ্ধিহীন। 
  • উপলব্ধি – বোধ, বোধগম্যতা, অনুভূতি। 
  • প্রত্যাশা – আকাঙক্ষা। 
  • অন্ত পুরে – অন্দরমহলে। 
  • অনর্থক – অর্থহীন, অযথা। 
  • নিরীক্ষণ – দেখা, পর্যবেক্ষণ। 
  • প্রগলভা – অহংকারী, বাচালতা। 
  • আশঙ্কা – ভয়, ঔদার্য-উদারতা। 
  • অভিভূত – আপ্লুত। 
  • শশব্যস্ত – ত্রস্ত। 
  • দ্বিপ্রহর – দুপুর। 
  • অনুমোদন – সম্মতিদান। 
  • অহর্নিশ – দিনরাত।

Leave a Reply

error: Content is protected !!
Scroll to Top